বনলতা সেন: জীবনানন্দ দাশের জীবন ও জিজ্ঞাসা
বনলত স ন – বনলতা সেন কে কেবল নাম দিয়ে তার জীবন বোঝানো যেতে পারে। সেই নামে কবি জীবনানন্দ দাশের চিত্র প্রকাশ করা হয়েছে যার নূতন জীবন এবং মৃত্যুর পরিস্থিতি স্থায়ী হয়ে উঠেছে। জীবনানন্দ দাশের প্রতি স্থায়ী স্মৃতির সাথে ছবি তৈরি করেছেন সিনেমাটোগ্রাফার মাসুদ হাসান উজ্জ্বল।
বনলতা সেন চলচ্চিত্রটি প্রকাশের মাধ্যমে কবি জীবনানন্দ দাশের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো তুলে ধরেছেন। তার সাথে পরিচয় হয়েছে কবির জীবনে মাত্র পঞ্চান্ন বছর বয়সে ট্রাম দুর্ঘটনার প্রেরণা থেকে। কেউ কেউ তাকে দুর্ঘটনা বলে দেখেন, আবার কেউ কেউ আত্মহত্যা ধরে পরে থাকেন।
এই চলচ্চিত্রের প্রধান চরিত্র হল জীবনানন্দ দাশ এবং তার অমর সৃষ্টি বনলতা সেন। ছবির প্রতিটা দৃশ্যে চোখ জুড়ে গেছে মাহীনের সাথে সাথে জীবনানন্দের জীবনকালে তৈরি করা হয়েছে। কবি জীবনানন্দের চরিত্রে যেন আপনার মনে হবে আপনি সেই সময়ে ফিরে গেছেন।
যেহেতু জীবনানন্দের কবিতার শব্দ এবং লাইনগুলো সমসাময়িক সাহিত্যিকদের মুখে হেয়ালি বলে চালিয়ে দেয়া হয়েছিল, তাই কবি কত রকমের রূপক এবং বিশেষণগুলো প্রতিটি কবিতায় সম্পূর্ণ ভাষা বদলে কারণ তার পড়াশোনা ছিল অনেক।
জীবনানন্দ দাশ ছিলেন বৃহত্তর বিশ্বের সাহিত্যের নিয়ম বাইরে থেকে পৃথিবীর অন্যান্য প্রান্তের খবর রাখতেন। তার লেখা গল্প এবং উপন্যাসও ছিল। তার কবিতার ভাষা ছিল সময়ের তুলনায় অনেক আগানো কারণ তার সমসাময়িকদের মুখে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তিরস্কার জুটতো। এই জন্য সব সাহিত্যই ছিল বাক্সবন্দি।
সিনেমাটোগ্রাফার মাসুদ হাসান উজ্জ্বল এই ছবি দিয়ে জীবনানন্দের প্রতি অন্যায় করা যেন কিছুটা হলেও দায় শোধ করেছেন। ছবির পাত্রপাত্রীদের অভিনয় বেশ দুর্দান্ত হয়েছে। খায়রুল বাসার, নাবিলা এবং সোহেল মন্ডল পাল্লা দিয়ে অভিনয় করেছেন। অন্যান্য চরিত্রগুলোও ছিল সাবলীল।