৩১ দফা প্রতিশ্রুতি থেকে বিএনপি সরে আসছে: এনসিপি নেতা Bangladailypost.com – ৩১ দফ অঙ গ ক র থ – রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি)
৩১ দফা প্রতিশ্রুতি থেকে বিএনপি সরে আসছে: এনসিপি নেতা
Bangladailypost.com – ৩১ দফ অঙ গ ক র থ – রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন দাবি করেছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে প্রদত্ত ৩১ দফা অঙ্গীকার থেকে বিএনপি সরে এসেছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলা সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত পথসভায় তিনি এই অভিযোগ উত্থাপন করেন।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বিলম্ব
আখতার হোসেন জানান, নির্বাচনের আগে বিএনপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে এবং দেশে সংস্কার আনা হবে। কিন্তু পাঁচ মাস পার হওয়ার পরেও কোনো প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি। বরং তারা প্রতিটি অঙ্গীকার থেকে সরে আসছে।
নির্বাচনের আগে বিএনপি বলেছিল জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হবে, দেশে সংস্কার নিয়ে আসবে। কিন্তু নির্বাচনের পাঁচ মাস অতিবাহিত হলেও এখনো একটিও বাস্তবায়ন করেনি, বরং তারা প্রতিটি অঙ্গীকার থেকে সরে আসছে।
শেখ হাসিনার শাসনামল ও গণভোটের গুরুত্ব
এনসিপির সদস্যসচিব বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে মানুষকে গুম ও হত্যা করা হচ্ছিল। আঘাতঘরে বন্দী করা হচ্ছিল। পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নামে মানুষকে পঙ্গু করা হচ্ছিল। শাপলা চত্বরে শিক্ষার্থী ও আলেম-ওলামাদের নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছিল। কোঠা সংস্কার আন্দোলন ও নিরাপদ সড়ক সংস্কার আন্দোলনসহ প্রতিটি ন্যায্য আন্দোলনকে নির্মমভাবে প্রতিহত করা হচ্ছিল।
সেই সময়ে দেশের মানুষ দুটি বিষয় ভাবছিল—এক, হাসিনার অপশাসন থেকে মুক্তি পাওয়া। দুই, এই ধরনের শাসন বাংলাদেশে যেন কখনো ফিরে না আসে, এজন্য রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কার করা। সাধারণ মানুষ তাদের সেই আকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে রেখেছিল। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সংস্কারের জন্য গণভোটে অংশগ্রহণ করে ৭০ শতাংশ মতামত দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, সেই সংস্কারের গণভোটকে এখন আর মানা হয় না।
৩১ দফা অঙ্গীকার থেকে সরে আসা
বিএনপি নেতারা তাদের সমমনা দলের নেতাদের নিয়ে নৈশভোজের আয়োজন করেছিল। সেই নৈশভোজের আয়োজন শেষে বিএনপি নেতারা বলেছিলেন, তারা ৩১ দফা বাস্তবায়ন করবেন। কিন্তু বিএনপি সরকার তাদের ৩১ দফার অঙ্গীকার থেকে সরে এসেছে।
বিএনপি শুধু গণভোটকে অস্বীকার নয়, তাদের দেওয়া ৩১ দফা অঙ্গীকারের মধ্যে সংবিধান সংস্কারের কথা বলেছিল, কিন্তু এখন তারা সংবিধানের সংস্কার চায় না।
৩১ দফা অঙ্গীকারে তারা ভোটাধিকার নিয়ে কথা বলেছিল। আর ভোটাধিকার যদি সুষ্ঠু করতে হয় তাহলে নতুন ফর্মুলায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার লাগবে। কিন্তু তারা নতুন ফর্মুলায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায় না। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থেকে নিজের মতো করে বিচার বিভাগ থেকে লোক নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দিয়ে তাদের আইন পাস করতে নিতে চায়।
বিচার বিভাগের দিকে আমাদের হতাশার মতো তাকিয়ে থাকতে হয়। বিচার বিভাগে যে সুষ্ঠু নিয়োগের কথা ছিল, সুষ্ঠুভাবে বিচারপতি নিয়োগের কথা ছিল, সেই আইনটিও তারা সংসদে পাস করে নাই। তারা সংসদে তা বাতিল করে দিয়েছে।
অর্থনীতির অবস্থা ও এনসিপির প্রতিশ্রুতি
দেশের অর্থনীতি পঙ্গু হয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে আখতার হোসেন বলেন, দেশের অর্থনীতির খাতায় ঋণের বোঝা বেড়েই চলছে। বাজেট ঘোষণার আগেই জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেছে। এ কারণে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সংস্কার হওয়া জরুরি হয়ে গেছে।
আমি শুধু একটি কথা বলতে চাই সরকারের কাছে—গণভোটের রাষ্ট্র বাস্তবায়ন করুন।
জনগণ এনসিপির প্রতি আস্থা রেখেছে। আমরা নতুন দল অল্প আসনে নির্বাচন করেও আপনাদের ভোটের মাধ্যমে সংসদে যেতে পেরেছি। সেই আশাবাদের জায়গা থেকে সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও এনসিপি সমর্থিত প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। আমরা আর পুরোনো বাংলাদেশে ফিরে যেতে চাই না। আমরা নতুন বাংলাদেশের দিকে অগ্রসর হতে চাই।
যে বাংলাদেশে সাধারণ মানুষকে হতাশায় ভুগতে হবে না। যেখানে আপনাদের ভোটাধিকার থাকবে, যেখানে প্রশাসনকে করায়ত্ত রাখা হবে না, তারা স্বাধীনভাবে দেশ ও জনগণের জন্য কাজ করবে। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই যার সীমান্ত থাকবে শতভাগ সুরক্ষিত। এমন একটি দেশ চাই যেখানে সব ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একসঙ্গে চলাফেরা করবে।
অন্যান্য বক্তারা
অনুষ্ঠানে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, উত্তরবঙ্গ দিন দিন পিছিয়ে পড়ছে। নেই পর্যাপ্ত শিল্পকারখানা, নেই ভালো স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও চিকিৎসা। উত্তরবঙ্গের মানুষকে অবহেলিত করে রাখা হচ্ছে। তাই জুলাই গণভোটের রাষ্ট্র বাস্তবায়ন করতে হবে। কারণ এই সংস্কারের টিকা দিতে হবে।
পথসভায় আরও বক্তব্য দেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আতিকুর রহমান মুজাহিদ, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ও দিনাজপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক আবু সাঈদ লিওনসহ দলের অন্য নেতারা। জলঢাকার পথসভা শেষে তারা নীলফামারী জেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পথসভায় অংশ নেন।
Related SEO Topics
Frequently Asked Questions
Apa itu ৩১ দফ অঙ গ ক র থ?
৩১ দফ অঙ গ ক র থ adalah topik utama yang dibahas di artikel ini dengan konteks praktis agar pembaca memahami informasinya dengan jelas.
Mengapa ৩১ দফ অঙ গ ক র থ penting?
৩১ দফ অঙ গ ক র থ penting karena membantu pembaca membandingkan pilihan, menghindari kesalahan umum, dan mengambil keputusan yang lebih tepat.
Bagaimana cara memakai panduan ৩১ দফ অঙ গ ক র থ ini?
Gunakan poin utama, contoh, dan tautan terkait di halaman ini sebagai rujukan awal, lalu cek detail terbaru sebelum mengambil keputusan final.
