২০ টাকায় আবেদন, ১০ দিনে নিষ্পত্তি—আস্থা বাড়াচ্ছে গ্রাম আদালত
২০ ট ক য় আব দন ১০ – গ্রাম আদালত একটি সরল আর সস্তা বিচারের মাধ্যম হিসেবে দেখা যাচ্ছে যে আবেদনের জন্য কেবল ২০ টাকার খরচ ছাড়া মাত্র ১০ দিনের মধ্যে সমাধান পাওয়া সম্ভব। যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ী ইউনিয়নে ক্ষুদ্র ভুষিমাল ব্যবসায়ী জাহিদুর রহমান শিমুল বলেন, “আগে মানে কয়েক মাস আমি গ্রামের শালিসিতে ঘুরে ঘুরে কাজ হতে পারিনি। এখন গ্রাম আদালতের মাধ্যমে মাত্র ২০ টাকার খরচে আমার এক লাখ টাকার বিচার পাইছি।” তিনি আরও বলেন, অভিযোগ করা থেকে নিষ্পত্তি পর্যন্ত মাত্র ১৮০ টাকা খরচ হয়েছে, যাতে ভ্যান ভাড়া ও নাস্তার খরচ অন্তর্ভুক্ত।
সস্তা খরচে সমাধান পাওয়া গেল কিছু ব্যবসায়ীর জন্য
চৌগাছার হাকিমপুর ইউনিয়নের স্বরুপপুর গ্রামে ব্যবসায়ী আলম খান বলেন, “৪০ হাজার টাকার বিচার করার জন্য আমি কোর্ট-কাচারিতে যেতে হতো। গ্রাম আদালতে সে মামলা গ্রাম আদালতের এখতিয়ারভুক্ত হওয়ায় তাকে সেখানেই পাঠানো হয়। এতে আমি মাত্র ২৮ দিনে নিজের পাওনা আদায় করেছি এবং এখন নতুন করে ব্যবসার পরিকল্পনা করছি।” তিনি আরও বলেন, মামলার ফিস ২০ টাকা, যাতায়াত ৮০ টাকা হিসাবে বিচার পাইছি। পরিস্থিতি কম খরচে সমাধানের প্রক্রিয়া বোঝার জন্য এই অভিজ্ঞতা খুবই সম্পৃক্ত।
ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী ইউনিয়নে রাবেয়া বেগম আবারও সম্পর্কে আবেদন করেছেন। প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের সঙ্গে মারামারির ঘটনার পর গ্রাম আদালতে আপীল করা হয়। পরে তিনি দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। আগে তিনি ভাবতেন যে এতে সমাধান হতে পারে না, কিন্তু গ্রাম আদালতের মাধ্যমে সেটা সম্ভব হয়েছে।
ক্ষুদ্র মামলা কিভাবে সমাধান হয়
গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়) প্রকল্পের ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার জানান, গ্রাম আদালত বিচার প্রক্রিয়া সহজ ও প্রতিটি মামলার জন্য প্রতি ব্যক্তি মাত্র ২০ টাকা খরচ করে বিচার পাওয়া সম্ভব। সমাধানের গতি কমিয়ে আনার সাথে সাথে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আস্থা বাড়ছে। এখন আবেদনের ক্ষেত্রে মাত্র এক মাসের মধ্যে প্রতিটি বিচার করা হচ্ছে।
গ্রাম আদালতের মাধ্যমে আবেদনের সুবিধার জন্য বিচারের গতি গুরুত্বপূর্ণ কারণ ব্যবসায়ীদের বিশেষ করে স্থানীয় মানসিদের জন্য এটি একটি সমাধান হিসেবে কাজ করছে। তাদের ক্ষেত্রে বিচারের সময় ছোট করে আসছে এবং আবেদন পরিবর্তে ব্যবসায়ীদের আস্থা বাড়ছে। যেমন আরেক ব্যবসায়ী বলেন, “গ্রাম আদালতের মাধ্যমে আবেদনের জন্য মাত্র ২০ টাকা খরচ করে নিষ্পত্তি পাওয়া সম্ভব হয়েছে। তাই আমি এখন নতুন করে আবেদন করছি।”
গ্রাম আদালতে প্রতিটি মামলার জন্য ক্ষুদ্র