সেই ‘রয়েল’ বিক্রি হলো ৩ লাখ ৩৭ হাজারে, দাম নিয়ে হতাশ খামারি
স ই রয় ল ব ক র – রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলার কালাপাকুজ্জ্যা ইউনিয়নের রশিদপুর এলাকায় বাস করেন স্থানীয় কৃষক নাজিম উদ্দিন। তিনি দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে একটি বিশাল শাহীওয়াল জাতের গরু রাখেন, যার নাম দিয়েছেন ‘রয়েল’। গরুটি ৬২৫ কেজি ওজন নিয়ে আসন্ন কোরবানির ঈদের পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। তবে দাম না পাওয়ার কারণে খামারির আশা পূরণ হয়নি।
গত ২৫ মে গরুটিকে জেলার অন্যতম গরুর হাট মাইনীমুখ বাজারে তুলে হাজির করা হয়েছিল, কিন্তু দাম পেয়া হয়নি। তখন থেকে রোববার সকাল থেকে গরুটি রাঙ্গামাটি শহরের হাটে নিয়ে আসা হয়েছিল। আশা ছিল কমপক্ষে ৫ লাখ টাকায় বিক্রি হবে গরুটি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই দাম পাওয়া হয়নি।
“আমরা গরীব মানুষ। আমাদের শখ করা মানায় না। অনেক শখ করে এই গরুটি লালন পালন করেছি একটু লাভের আশায়। কিন্তু এখন লসের মুখে পড়তে হলো।”
খামারি নাজিম উদ্দিনের ভাই রুবেল হোসেন বলেন, গরুটি কোরবানির হাটে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেছিলেন তিনি এবং তার ভাই। গরুটির শোয়া দুর্গম এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় সড়ক যোগাযোগ সুবিধা ছিল না। বিদ্যুতের সংযোগও নেই। তবুও তারা গরু লালন পালনে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।
গরুটি রয়েল নামে পরিচিত হওয়ায় এলাকার মানুষের তার প্রতি আগ্রহ ছিল। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল বারেক দেওয়ান বলেন, গরুটি কোরবানির হাটে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেছিলেন নাজিম উদ্দিন। কিন্তু তার মাইনীমুখ বাজারে বিক্রি করা হয়েছিল শুনেছি।
এখানে বিদ্যুত নেই, সড়ক যোগাযোগও নেই। তারপরও কৃষকরা সাহস নিয়ে গরু লালন পালন করছেন। কিন্তু পর্যাপ্ত দাম পাওয়া না গেলে আর কেউ বড় জাতের গরু পালনের স্বপ্ন ত্যাগ করতে পারেন।
গরুটি বিক্রি হয় ৩ লাখ ৩৭ হাজার টাকায়। বিক্রির দাম চেয়েছিল আশা করে নাজিম উদ্দিন। তিনি আরও বলেন, আমাদের খামারি প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে সমর্থন চাই। গবাদিপশু পালনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ সুবিধা দেওয়া হতে হবে বলে আশা করছি।