সংরক্ষিত বন থেকে উজাড় হচ্ছে গাছ-বাঁশ
স রক ষ ত বন থ ক – লাউয়াছড়া নামে একটি ছড়া মাধ্যমে বন রক্ষার প্রতীক আগের মতো নিষ্ক্রিয় হয়ে আছে। বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ছড়াটিতে এখন পানির তীব্র স্রোত দেখা যাচ্ছে। ওই স্রোতের মাধ্যমে অনবরত ভাসিয়ে আনা হচ্ছে ঝাঁকে ঝাঁকে বাঁশ। ছড়ার ওপর পাকা সড়কের একটি ছোট ব্রিজ রয়েছে, যেখান থেকে শ্রমিকদের কাছে বাঁশ তুলে নেওয়া হচ্ছে। পরিবেশ আন্দোলনের কর্মীদের মতে এই বন উজাড়ের চিত্র শুধু রাজকান্দি রেঞ্জের নয়, জেলার বিভিন্ন স্থানে চলছে।
কমলগঞ্জে বন ছিনতাই চিত্র দেখা গেছে
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ এলাকায় ছড়া থেকে বাঁশ তুলে নেওয়ার কাজ করছিলেন আহাদ মিয়া। তিনি দাবি করেন, এই বাঁশগুলো কোনো সংরক্ষিত বন থেকে আনা হয়নি। বিভিন্ন বাড়ি থেকে বাঁশ কিনে তারা ছড়ায় ভাসিয়ে দিয়েছেন ও এখন বিক্রির জন্য ওপরে তুলছেন। কিন্তু স্থানীয় এলাকাবাসীরা এই বক্তব্য অস্বীকার করে বলছেন, বাঁশগুলো সংরক্ষিত বনের ভেতর থেকেই কেটে আনা হয়েছে। ছড়াটি সরাসরি বনের ভেতর দিয়ে বয়ে আসছে। বৃষ্টির পর পানির স্রোত বাড়লে বাঁশ ভেসে আসে। এতে যেমন পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলও নষ্ট হচ্ছে।
“যারা বনের গাছ ও বাঁশ পাচার করছে, তারা শুধু পরিবেশ ও প্রতিবেশের নয়, বরং বন্যপ্রাণীরও চরম ক্ষতি করছে। তারা বিনা পুঁজিতে ব্যবসা করে লাভবান হচ্ছে। এদের শক্ত হাতে প্রতিহত করা বন বিভাগের দায়িত্ব,” বলেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) জাতীয় পরিষদের কার্যনির্বাহী সদস্য আ স ম সালেহ সোহেল।
এ বিষয়ে সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুর রহমান বলেন, “আমাদের তীব্র জনবল সংকট রয়েছে। কিছু অসাধু চক্র সবসময়ই বনজ সম্পদ চুরির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে। তবে আমাদের পক্ষ থেকে গাছ ও বাঁশ পাচার রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।”
মৌলভীবাজার দেশের অন্যতম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জেলা। এখানে পাহাড় ও সমতলে বহু ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী যুগ যুগ ধরে বসবাস করে আসছে। তবে সংরক্ষিত বনাঞ্চল এখন উজাড় হয়ে আছে। ছড়ায় পানির স্রোত বাড়লে নৌপথে সহজেই বাঁশ পাচার করা যায়। বছরের অন্য সময় রাতের আঁধারে চলে গাছ কাটা। আরও পড়ুন: জনবহুল সড়কের পাশ থেকে গাছ চুরি হলেও বন বিভাগ ন