ঈদের পরদিন কোরবানি কেন হয় পুরান ঢাকায়?
য ত ন ক রণ ঈদ র – পুরান ঢাকার বাসিন্দাদের মধ্যে ঈদের দিন গরু কোরবানি করার পর পরদিন এই কাজ করা সাধারণ। অনেকে জিজ্ঞাসা করেন, ঈদের দিন গরু কোরবানি করা যায় না কেন তারা পরদিন এটি করেন। হাজী মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, পুরান ঢাকার মানুষ ঈদের আগে কয়েকদিন মুরব্বি ও শিশুদের নিয়ে বিভিন্ন পশুর হাটে ঘুরে গরু কেনাকাটায় ব্যস্ত থাকেন। ঈদের দিন সারারাত জেগে আনন্দ-আয়োজনও চলে। ফলে শরীর খুব ক্লান্ত থাকে এবং ঈদের দিন বাসার সবাই অনেক বেলা পর্যন্ত ঘুমান।
তিনটি মূল কারণ বিশ্লেষণ
ঈদের পরদিন কোরবানি দেওয়ার প্রথা অনেক কারণে চালু রয়েছে। প্রথমত, ঈদের আগের দিন বাসার সবাই মুরব্বি ও শিশুদের জন্য সারারাত জেগে থাকেন। এ কারণে কসাইদের সংকট হয়, যার ফলে ঈদের দিন বেশি কোরবানির জন্য ব্যবস্থা করা সম্ভব হয় না। এছাড়া, ঈদের দিন কসাইদের খুব বেশি চাহিদা থাকে এবং তাদের পারিশ্রমিকও বেড়ে যায়। অতএব, ঈদের পরদিন এই সমস্যাগুলি মোকাবেলা করতে দ্বিতীয় দিনের কোরবানি হয়।
দ্বিতীয় কারণ হলো ঈদের দিনে বাসার সবাই অনেক বেলা পর্যন্ত ঘুমান। এ কারণে কসাইদের কাজ শেষ করতে দেরি হয় এবং গরু জবাই করতে বিলম্ব হয়। তিনি আরো বলেন, ঈদের দিন ভালো জাতের কসাইও কম পাওয়া যায়। পাওয়া গেলেও তাদের পারিশ্রমিক অনেক বেশি। তাই তারা ঈদের পরদিন কোরবানি করার সিদ্ধান্ত নেন।
অন্যান্য এলাকায় এ প্রথা বিস্তার
শুক্রবার সকালে লালবাগসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে যে পুরান ঢাকার মতো অন্যান্য এলাকাতেও দ্বিতীয় দিনের কোরবানি চলছে। গরু জবাই করতে দেখা যায় অপ্রশস্ত গলিতে, যেখানে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। কাউসারী মঞ্জিল নামে একটি বহুতল ভবনের সামনে গরু জবাই করতে দেখা গেছে, যেখানে কেয়ারটেকার জানান তাদের বাড়ির মালিক প্রতি বছর ঈদের পরদিন কোরবানি দেন। এ প্রথা কসাই সংকট ও ঈদের দিন নির্বিঘ্নে ঘুমানোর সুবিধার জন্য অনুসরণ করা হয়।
তৃতীয় কারণ হলো পুরান ঢাকার বাসিন্দাদের কোরবানি করতে দেওয়ার সময় অনেক কম খরচ হয়। লালবাগের হাজী মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, ঈদের দিন একজন জাত কসাইকে একটি গরু জবাইয়ের জন্য সাত থেকে আট হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়, তবুও সহজে পাওয়া যায় না। অথচ পরদিন একই কসাইকে দুই থেকে তিন হাজার টাকা দিলেই পাওয়া যায়। এ কারণেই তিনি ঈদের পরদিন কোরবানি দেন।
ঈদের পরদিন কোরবানির প্রথা পুরান ঢাকার মানুষের জন্য একটি বিশেষ পরিকল্পনা। এখানে মূলত কসাইদের সংকট, ঈদের দিন নির্বিঘ্নে ঘুমানোর সুযোগ ও সাময়িক ক্ষমতা বিস্তারের কারণে এ প্রথা অব্যাহত রয়েছে। এ সময় প্রতিদিন ক্ষুধার সমস্যা থাকে না বলে অনেক মানুষ পরদিন কোরবানি করেন।
পুরান ঢাকা�