ময়মনসিংহে কোরবানির হাটে আলোচনায় ৩৫ মণের ‘সাদা ময়না’
ময়মনস হ ক রব ন র হ – ঈদুল আজহার আগে দেশের বিভিন্ন পশুর হাটগুলো আগ্রহে ভরে উঠছে। গ্রামগঞ্জের হাটগুলো ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁক দিয়ে চোখ বিস্তার করছে। এই প্রাচুর্য ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার কুশমাইল ইউনিয়নের চকরাধাকানাই গ্রামে গোটা এলাকার মাঝে সংঘটিত হয়েছে। সাদা-কালো রঙের বিশাল গরুটি এখন সাধারণ মানুষের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে নামে সাদা ময়না।
এই গরুটির মালিক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক এবং খামারি মো. নুরুল কাইয়ুম স্বপন। তিনি পাঁচ বছর ধরে প্রাকৃতিক উপায়ে গরুটিকে বড় করেছেন। পরিবারের সদস্যদের মতো প্রতিদিন খাবার, পরিচর্যা ও গোসলের মাধ্যমে এটি চালানো হয়েছে।
প্রতিদিন দুইবার গোসল করানো হয় গরুটিকে। খাবার হিসেবে দেওয়া হয় প্রায় ১০ কেজি গুঁড়া ভূসি, ৫ কেজি খড় ও ৫ কেজি কচি ঘাস। এই ক্রম বজায় রেখে এখন গরুটির ওজন প্রায় ৩৫ মণ হয়েছে। দৈর্ঘ্য সাড়ে ৯ ফুট, উচ্চতা সাড়ে ৫ ফুট এবং শরীরের গোলাকার পরিমাপ প্রায় ৮ ফুটের বেশি হয়েছে।
গরমের সময় গরুটির আরামের জন্য গোয়ালঘরে ২৪ ঘণ্টা সিলিং ফ্যান চালু রাখা হয়। স্বপনের ছেলে ইমাম মেহেদী বলেন, গরুটি আমাদের পরিবারের একজন সদস্যের মতো আছে। ছোটবেলা থেকে নির্দিষ্ট সময়ে খাওয়ানো, হাঁটানো ও গোসল করানো হয়েছে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অনুমান করা যায় গত কোরবানির ঈদেও এই ষাঁড়কে বিক্রির জন্য প্রস্তুত ছিল। সে সময় গরুটির দাম সাড়ে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। তবে ১০ লাখ টাকার কমে বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায় এটি বিক্রি করা হয়নি। এবারও আশা করছেন স্বপন গরুটিকে একই সঠিক মূল্যে বাজারে তুলতে।
গরুটির মালিক বলেন, এটি শুধু গরু নয়, তাঁর দীর্ঘদিনের শ্রম, ভালোবাসা ও বিশ্বাসের ফল। যিনি গরুটি কিনবেন তাঁদের কাছে এটি বিশেষ মূল্য দেওয়া সম্ভব। তিনি নিজে ব্যবস্থা করবেন গরুটি তুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য জেলার যেখানে হোক না কেন।
সাধারণ মানুষের মধ্যে গরুটির আকর্ষণ বাড়ছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মানুষ গরুটিকে নজরে রাখছে। বিশাল আকৃতির ষাঁড়কে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহল জন্ম হয়েছে। ঈদের আগে গরুটি পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ তৈরি করেছে।