তিন বছর ধরে হজের স্বপ্নভঙ্গ গাজাবাসীর, আক্ষেপ নিয়েই ৭১ জনের মৃত্যু
ত ন বছর ধর হজ র স – গাজা উপত্যকার হাজারো মুসলিম পবিত্র হজ পালনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন যুদ্ধের আগ্রাসনে। গাজার মানুষ ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা এবং সীমান্ত নিষেধাজ্ঞার কারণে রাফা সীমান্ত বন্ধ থাকার জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবে অংশ গ্রহণ করতে পারছেন না। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হজের জন্য জড়ো হওয়া মুসল্লিরা তাদের কাছে সৌদি আরবে পৌঁছাতে বিশেষ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।
ফিলিস্তিন কর্মকর্তারা জানান, গাজার মুসলিম হজযাত্রীদের জন্য প্রতি বছর সৌদি আরবে যেতে পারেন ৬ হাজার ৬০০ জন। এ কোটার প্রায় ৩৮ শতাংশ বরাদ্দ গাজার মানুষের জন্য ছিল। কিন্তু বিগত তিন বছর ধরে ইসরায়েলি গণহত্যার কারণে গাজার মুসলিমরা হজে যেতে পারেননি।
হজের জন্য অপেক্ষারত মুসলিমদের বেদনা
গাজার হজ বিভাগের মহাপরিচালক রামি আবু জানান, এ বছর গাজা থেকে নিবন্ধিত ২ হাজার ৪০২ জন হজযাত্রী এখনো সৌদি আরবে যেতে পারেননি। তাদের মধ্যে ইসরায়েলি হামলার কারণে অথবা স্বাভাবিক বিপর্যস্তি হতে সৃষ্ট অবস্থায় ৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সৌদ হাজ্জাজ নামে এক নারী বলেন, হজের জন্য জমানো সব অর্থ বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে গেছে। যুদ্ধের আগে স্বামী, ভাই ও ভাবিকে নিয়ে হজে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন ওই নারী। কিন্তু ইসরায়েলি হামলায় তার স্বামী নিহত হন। এছাড়া তার ভাই নিখোঁজ এবং তাদের বাড়ি ধ্বংস করে দিয়েছে দখলদার বাহিনী।
রাফা সীমান্তের বন্ধ হওয়া এবং যোগাযোগ সংক্রান্ত সমস্যা
যুদ্ধের আগে গাজার হজযাত্রীরা সাধারণত রাফা ক্রসিং হয়ে মিশরে প্রবেশ করতেন। সেখান থেকে কায়রো হয়ে সৌদি আরবে যেতেন। তবে ২০২৪ সালের মে মাসে ইসরায়েল রাফাহ সীমান্তের ফিলিস্তিনি অংশ দখলে নিয়ে বন্ধ করে দেয়। ফলে গাজার বাসিনদের বিশ্বের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। যদিও আন্তর্জাতিক নিন্দার মুখে যুদ্ধাহত রোগীদের চিকিৎসার জন্য ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সীমান্ত সীমিত আকার খুলে দেয়, কিন্তু কয়েকদিনের মাথায় আবার তা বন্ধ করে দেয়। ইসরায়েল এখনো সাধারণ মানুষের যাতায়াত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে।