তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীর বাণী
ত ম কম ক ত ব ল – বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন যে শিশু ও কিশোরদের ধূমপানের ঝুঁকি কমানোর জন্য সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য হলো ‘প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি’।
“তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনকে আরও শক্তিশালী করতে সংশোধন আনা হয়েছে। এটি আমাদের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার সম্পূর্ণ অংশ।”
বাংলাদেশ সরকার ধূমপানের বিষ থেকে শিশু ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করার জন্য নানা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের বিজ্ঞাপন, প্রচারণা ও প্রমোশন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সব মাধ্যমে তামাকের প্রচারণা বন্ধ করা হয়েছে যাতে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া, ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, অ্যাপ ও ওটিটি প্ল্যাটফর্ম অন্তর্ভুক্ত। করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার আড়ালে তামাক কোম্পানির প্রচার বন্ধ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং শিশু পার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অনুসারে প্রতিটি সামাজিক ও পাবলিক স্থানে ধূমপান এবং ধোঁয়াবিহীন তামাক সেবনের বিধি প্রবর্তন করা হয়েছে। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে শাস্তি ও জরিমানা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও অর্থনীতির সমস্যা
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রায় ৭১ শতাংশ মৃত্যু অসংক্রামক রোগের কারণ। টোব্যাকো এটলাস ২০২৫ অনুযায়ী এখানে প্রতি বছর তামাকজাত রোগে বেশি দুই লাখ মানুষ মৃত্যুবরণ করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের গবেষণার বরাত দিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও জানান যে তামাক ব্যবহারের ফলে দেশের অর্থনীতিতে বার্ষিক ক্ষতি অতিরিক্ত ৮৭ হাজার কোটি টাকা হয়।
“নতুন বিধিবিধান এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তামাকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এখন সময়ের দাবি। জনগণের সমন্বিত প্রয়াস এবং সরকারের উদ্যোগে একটি সুস্থ, কর্মক্ষম ও তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”
প্রধানমন্ত্রী এছাড়াও ‘বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে সরকার গ্রহণ করা সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।