ফিলিস্তিনি খামারির পশু চুরি ও সহিংসতা
ক রব ন র পশ চ র – ঈদুল আজহার উপলক্ষে ভেড়া প্রস্তুত করতে প্রস্তুত হওয়ার সময় এক ফিলিস্তিনি খামারি সামিহা রশীদের আগে তাদের ভেড়াগুলো চুরি করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় আবাসনে ঘটেছে যেখানে মাসাফের ইয়াত্তা এলাকার একটি বাড়ি থেকে প্রায় ৪৫টি ভেড়া হুড়ু করে নেয়া হয়েছে।
আমি এবং আমার স্ত্রী এই ভেড়ার আয়েই চলি। এখন আমাদের চিকিৎসা বা খরচ চালানোর কিছু নেই। আমার স্বামী ক্যানসারে আক্রান্ত বলেও জানান।
রয়টার্সের যাচাই করা সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, রাতের অন্ধকারে মুখোশধারীদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে খামার থেকে ভেড়াগুলো বের করে নেয়া হয়েছে। ভিডিওর অবস্থান মাসাফের ইয়াত্তার কাছাকাছি নিশ্চিত করেছে সংবাদমাধ্যমটি।
সামিহা রশীদের অভিযোগ, এলাকাটিতে বসতি স্থাপনকারীরা প্রায় প্রতিদিন খামারি পরিবারগুলোর ওপর হামলা চালাচ্ছে। তারা বাড়িঘর এবং শিশুদের দিকে মরিচের গুঁড়া ছুড়ে মারছে বলে অভিহিত করেছেন।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর দখলকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি কৃষকদের বিরুদ্ধে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বেড়েছে। ফিলিস্তিনি কৃষি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, ২০২৬ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার গবাদিপশু চুরি হয়েছে। তার দাবি, এসব হামলায় ফিলিস্তিনি কৃষকদের ৫০ লাখ ডলারের বেশি ক্ষতি হয়েছে।
বর্তমানে ইসরাইলি কট্টর ডানপন্থি জোট সরকারের সময় পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ দ্রুত বেড়েছে। কয়েকজন মন্ত্রী প্রকাশ্যে দাবি করেছেন যে পশ্চিম তীরকে ইসরাইলের সঙ্গে সংযুক্ত করার সমর্থন দিচ্ছেন।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অধিকাংশ দেশ ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে দখল করা ভূমিতে গড়ে ওঠা বসতিগুলোকে অবৈধ বলে মনে করে। ইসরাইল ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় সম্পর্কের যুক্তি দেখিয়ে এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে।
ফিলিস্তিনিরা দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিম তীর, গাজা এবং পূর্ব জেরুজালেম নিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে আসছে। ২০২৪ সালের ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে পূর্ব জেরুজালেম ও পশ্চিম তীরে সাত লাখের বেশি ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী এবং ৩০ লাখের বেশি ফিলিস্তিনি বাস করছেন।