আশির দশকে নিখোঁজ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইসাক ৪৫ বছর পর কুষ্টিয়া থেকে উদ্ধার
আশ র দশক ন খ জ ব – বৃদ্ধ ইসাক মিয়া এখন কুমারখালী স্টেশনে অবস্থান করছেন, যেখানে তিনি দুই বিঘা মাঠান জমি ও চার্ট বিঘা বসতভিটার বিনিময়ে ৭৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে বিদেশ যাওয়ার প্রতিশ্রুতি পূরণের জন্য আশির দশকে ছিলেন। কিন্তু তিনি একজন দালালের বশে কুষ্টিয়ায় বিদেশ যাওয়ার সুযোগ হারিয়েছিলেন। তাঁর জীবনের প্রায় ৪৫ বছর কাটিয়ে অযত্ন ও বয়সের কারণে স্বাভাবিক কথা বলতে পারছেন না।
বিদেশ যাওয়ার লক্ষ্য পূরণের জন্য তাঁর সাত ভাই-বোন মিলে সম্পত্তি বিক্রি করেছিল। তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার বুড়িশ্বর ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামে তাঁর মৃত মামা সাদু মিয়ার ছোট ছেলে ইসাক মিয়া দুর্দশায় জীবন কাটিয়েছেন। অসুস্থ শরীর নিয়ে তিনি কখনো চেয়ারে বসছেন, কখনো মেঝেতে শুয়ে আছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, “২৬ দিন আগে ইসাক মিয়া অচেতন অবস্থায় স্টেশনে পড়েছিলেন। সবাই তাঁকে মৃত বলে মনে করেছিল। পরে চিকিৎসা ও খাবারের ব্যবস্থা করে তাঁর কথা বলতে শুরু হয়।”
স্বজনের খোঁজ পেয়া সামাজিক মাধ্যমের কারণে
তাঁর সন্ধান পাওয়ার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে স্বজনরা কুমারখালীতে ছুটে আসেন। মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে উপজেলা প্রশাসন তাকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে। তাঁকে ঘিরে স্বজন ও স্থানীয়রা আবেগে পূর্ণ হয়েছেন।
“সপ্তাহখানেক আগে অনলাইনে এক ভিডিওতে দেখা যায়, মামা কুমারখালী স্টেশনে। তিনি গ্রামের নাম ও নানা-মামাদের নাম বলছেন।” – ভাগনে সাজাহান মিয়া
“ফেসবুকে একটি পত্রিকার ভিডিও দেখে হারানো চাচাকে খুঁজে পেয়েছি। বাবার মুখে চাচার অনেক গল্প শুনতাম। এতদিন পরে চাচাকে ফিরে পাবো তা কল্পনাও করিনি।” – ভাতিজা তাহের মিয়া
ইসাক মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাত ভাইবোনের মধ্যে ছোট ছিলেন। তাঁর মায়ের নাম মালেস্টার বানু। তিনি নিখোঁজ হয়ে গেছেন ৪৫ বছর ধরে। কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার জানান, “গণমাধ্যমের কারণে ইসাক মিয়া সম্প্রতি বাড়ি ফিরছেন। যাচাই-বাছাই করে তাকে দুই ভাগনেসহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”
তাঁর ভাগ্নে বাচ্চু মিয়া বলেন, “তার মায়ের সাত ভাই-বোন। তারা হলেন কালা মিয়া, ধলা মিয়া, ইসাক মিয়া, জজ বানু, কালেস্টার বানু, বালেস্টার বানু ও মালেস