সন্তানকে ছুঁয়ে দেখা হলো না অহনার, ভুল রক্তে মৃত্যু
সন ত নক ছ য় দ খ – নতুন প্রাণের আগমন কালে যে ঘরটি আনন্দে ভরে ওঠা উচিত ছিল, সেখানে এখন শুধু কান্নার রোল। বগুড়ার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে অহনা নামের এক মাতৃকে ভুল রক্তের গ্রুপ প্রয়োগ করে তার মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। নবজাতক সন্তান মৃত্যুর আগে পৃথিবীর আলো দেখেছিল। তবে সন্তানকে মুখ দেখতে পারেন নি অহনা। শনিবার (৩০ মে) সকালে তার মৃত্যু ঘটে।
নিহত অহনা বগুড়া শহরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের গাজীপালশা চৌকিরপাড় এলাকার বাসিন্দা। সন্তান প্রসবের জন্য তিনি খান্দার এলাকার ‘সুস্বাস্থ্য’ নামের একটি ক্লিনিকে ভর্তি হন। সিজারিয়ান অপারেশনে সন্তান জন্ম দেন। অস্ত্রোপচারের পর তার শারীরিক অবস্থা তীব্র হতে থাকে।
অহনার পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, চিকিৎসার শুরুতে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ রোগীর রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ে গাফিলতি করেছিল। বারবার জানতে চাওয়া হলে ক্লিনিকে জানানো হয় যে অহনার রক্তের গ্রুপ ‘বি পজিটিভ’। তা বিশ্বাস করে পরিবার রক্ত সংগ্রহ করে এবং অহনার শরীরে প্রয়োগ করে। পরে অবস্থা আরও দুর্দান্ত হয়ে ওঠায় পরিবার সন্দেহ বোধ করে।
স্বামী মৃদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সুস্থ মা আর সন্তানকে নিয়ে একসঙ্গে বাড়ি ফেরার স্বপ্ন দেখেছিলাম। কিন্তু চিকিৎসার নামে এই অবহেলা আমার স্ত্রীকে কেড়ে নিয়েছে। আমি এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই।’ তিনি মাতার হারণে বাবা আব্দুস সালামও কাঁদছিলেন।
অহনার প্রকৃত রক্তের গ্রুপ ‘ও পজিটিভ’ হওয়া সত্ত্বেও ক্লিনিকে তার পরিবার সঠিক গ্রুপের রক্ত দিয়েছিল। ভুল গ্রুপের রক্ত শরীরে প্রবেশ করায় তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে তাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু সেখানেও চিকিৎসক সঠিক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
হাসপাতালে অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে ওঠায় অহনার মৃত্যু ঘটে। এই ঘটনার পর থেকে ‘সুস্বাস্থ্য’ ক্লিনিকের কর্তৃপক্ষ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য চাওয়া হলে তালাবন্ধ হয়ে গেছে।
বগুড়ার সিভিল সার্জন খুরশীদ আলম বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত কমিটি গঠন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ও প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইব্রাহীম আলী বলেন, ‘বিষয়টি আমরা অবগত আছি। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ পালিয়ে আছে। থানায় কোনো অভিযোগ বা মামলা হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’