News

একটি ছোট্ট কালো স্যান্ডেল, হ্যাঁচকা টান ও রামিসা

রামিসার দুঃখ ও পরিবারের বিষাদ একট ছ ট ট ক ল স - রাজধানীর পল্লবী এলাকায় সড়ক নম্বর ৭ এর বাসাটি বর্তমানে চোখের পানি ছাড়া হয়ে গেছে। তৃতীয় তলার ফ্ল্যাট নম্বর

Desk News
Published May 22, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments
c4d73dd0-349a-4828-8048-0c2cddfcf473-0
Foto : Joseph Hernandez - bangladailypost.com

রামিসার দুঃখ ও পরিবারের বিষাদ

Bangladailypost.com – একট ছ ট ট ক ল স – রাজধানীর পল্লবী এলাকায় সড়ক নম্বর ৭ এর বাসাটি বর্তমানে চোখের পানি ছাড়া হয়ে গেছে। তৃতীয় তলার ফ্ল্যাট নম্বর ৩-এ রামিসা পড়তো হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণি। রোল নম্বর ১ দিয়ে তার প্রতিদিনের চাহিদা ছিল ১০ টাকা। যার জন্য তিনি স্কুলে যাওয়ার পর নিজের ওষুধ খান পারভীন আক্তার বলেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সেই বাসার দরজার সামনে অপরাধের সাক্ষ্য দেখা যায়। কালো স্যান্ডেল দুটি একটি ছোট্ট বাঁকা হয়ে রামিসার দরজার দিকে মুখ করে ঝুলছে। এর পর তার পাশের ফ্ল্যাটের সামনে ছিল ঘাতকের বাসায়। যেখানে অকালে একটি ফুল ঝরে গেছে।

“আমি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। প্রতিদিন অনেক টাকার ওষুধ খেতে হয়। রামিসা বলতো ও বড় হয়ে ডাক্তার হবে, আমার চিকিৎসা করবে। কিন্তু ডাক্তার আর হইতে পারলো না আমার মেয়ে।”

রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা ও মা পারভীন আক্তার গেট খুলতে চাচ্ছেন না। তারা জানায় শিশু সন্তানকে হারায় আবার বিচার দিয়ে তার কী হবে? সামনে দুদিন ধরে অপরাধ সাক্ষী নেই বলে বিচার ব্যবস্থার ওপর আক্ষেপ প্রকাশ করেন। পরিবার সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

তার চাচা মো. সালাহ উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, “যাতে শেষ হয়ে যায় তার সব। পাশের ফ্ল্যাট থেকে মেয়ের চিৎকার শুনেও বোঝেননি তার জন্য কী অপেক্ষা করছে।” এলাকাবাসী সোনিয়া আক্তার নিপু বলেন, “আমার বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাবো না, কারণ স্বামী বা বাবাকে বিশ্বাস নেই। বছরের পর বছর ধরে এমন নারী-শিশু ধর্ষণের ঘটনা দেখেই আসছি। কিন্তু সুষ্ঠু বিচার হয় না।”

রামিসার বাসার সামনে চলছিল বিক্ষোভ। প্রধানমন্ত্রী রামিসার বাসায় গেলেন এবং দ্রুত বিচারের আশ্বাস দিলেন। তবে রামিসার মা বলেন, “চিৎকার শুনেছিলাম, সেটা যে আমার মেয়ে বুঝতে পারিনি।”

স্কুলের শিক্ষার্থী ঋসা জাগো নিউজকে বলেন, “আমার বাবা-মা বলেছে ব্যাগে ছুরি-কাচি নিতে। এক বছর জেল খাটছে আসামি বিচার দিয়ে ফেরত আসে। কিন্তু পরিবর্তন হয়নি।”

বৃহস্পতিবার পপুলার মডেল স্কুলে রামিসার সহপাঠীদের দেখে আব্দুল হান্নান মোল্লা কান্নায় ভেঙে পড়েন। এক নিরাপত্তা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে আইনমন্ত্রীর কাছে এই শিক্ষার্থী বলেন, “সাতদিনের আবার কীসের তদন্ত। জনসম্মুখে এনে ফাঁসি দেওয়া হলে রামিসাকে এভাবে চলে যেতে হতো না।”

Leave a Comment