National

বিমান দুর্ঘটনা ও অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলায় দক্ষ হচ্ছেন ১৫ কর্মী

og_1788400354_6a98d2e2bbfa6

বিমানবন্দরের আগুন ও দুর্ঘটনা মোকাবিলায় নতুন দক্ষতা অর্জন করলেন ১৫ জন কর্মী

Bangladailypost.com – ব ম ন দ র ঘটন ও – দেশের আকাশযান চলাচলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করার দিকে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) অগ্নিনির্বাপণ বিভাগে নিয়োজিত ১৫ জন কর্মী ৬০ দিনের তীব্র ও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। এই প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশের প্রতিটি বিমানবন্দরে আগুন নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং বিমান দুর্ঘটনা বা অন্য যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকরী সাড়া দেওয়ার মানবসম্পদ গড়ে তোলা।

প্রশিক্ষণের ধরন ও সময়কাল

১০ জুন থেকে শুরু হওয়া এই কোর্সটি ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলে। ঢাকার সিভিল এভিয়েশন একাডেমিতে আয়োজিত এই কার্যক্রমের নাম ছিল ‘বিমান দুর্ঘটনা, অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার কার্যক্রমের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ-৫’। নাম থেকেই বোঝা যায়, এটি ধারাবাহিক একটি প্রশিক্ষণ সিরিজের পঞ্চম ধাপ। প্রতিটি ধাপে আগের ধাপের অভিজ্ঞতাকে ভিত্তি করে আরও জটিল ও বাস্তবসম্মত পরিস্থিতি মোকাবিলায় দক্ষতা অর্জন করা হয়।

প্রশিক্ষণকালে অংশগ্রহণকারীরা শুধু পাঠশালায় বসে থেমে থাকেননি। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মাঠপর্যায়ে তারা অগ্নিনির্বাপণ মহা চালনা, বিশেষায়িত অগ্নিনির্বাপণ যান পরিচালনা এবং বিমানবন্দরের আগুন নিরাপত্তা ও উদ্ধার কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক নিয়ে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক উভয় ধরনের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। বিমানবন্দরের রানওয়ে, টার্মিনাল বিল্ডিং, ফুয়েল স্টোরজ ও পার্কিং এলাকা — প্রতিটি জায়গার জন্য আলাদা আগুন ঝুঁকি মূল্যায়ন ও সাড়া প্রোটোকল শেখানো হয়।

সমাপনী অনুষ্ঠানে নেতাদের বক্তব্য

বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, সিভিল এভিয়েশন একাডেমিতে সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদ তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিভিল এভিয়েশন একাডেমির পরিচালক প্রফেসর প্রশান্ত কুমার চক্রবর্তী। তিনি বলেন:

“বিমান চলাচলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং দুর্ঘটনা মোকাবিলায় এ প্রশিক্ষণের প্রকৃত সাফল্য তখনই নিশ্চিত হবে, যখন দেশের সব বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় অগ্নি সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বেবিচকের পরিচালক (অগ্নিনির্বাপণ) মো. রফিকুল ইসলাম মন্তব্য করেন:

“আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) মান অনুযায়ী বিমানবন্দর পরিচালনা এবং বিমানবন্দর জরুরি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রশিক্ষণার্থীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেবিচকের উপ-পরিচালক মো. মজিবুর রহমান মির্জা এবং উপ-পরিচালক (নকশা মানদণ্ড ও বিমানবন্দর সাধারণ ব্যবস্থাপনা) মো. আবদুল লতিফ।

আইকাও মানদণ্ড ও বৈশ্বিক সংযোগ

বেবিচকের তরফে জানানো হয়, এই প্রশিক্ষণ আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) বৈশ্বিক বিমান চলাচল জরুরি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার সঙ্গে সরাসরি সামঞ্জস্য রেখে ডিজাইন করা হয়েছে। আইকাও-এর নির্দেশনা অনুসারে প্রতিটি দেশের বিমানবন্দরকে নির্দিষ্ট স্তরের আগুন নিরাপত্তা সেবা নিশ্চিত করতে হয় — বিমানের আকার, যাত্রীসংখ্যা ও রানওয়ে দৈর্ঘ্য অনুযায়ী। বাংলাদেশের বর্তমান অবকাঠামোতে এই মানদণ্ড পূরণ করা এখনো সম্পূর্ণভাবে সম্ভব হয়নি, তবে প্রতিটি প্রশিক্ষণ ব্যাচ সেই ফাঁক পূরণের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।

প্রশিক্ষণে অর্জিত তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞান ভবিষ্যতে বিমানবন্দরে আগুনসহ বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্মীদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। বিশেষ করে বড় আকারের বিমানের ইঞ্জিন আগুন, কেমিক্যাল লিক বা টার্মিনাল ভিড়ের মধ্যে আঘাতের মতো পরিস্থিতিতে সেকেন্ডের হিসাব চলে — এমন মুহূর্তে প্রশিক্ষিত কর্মীর দক্ষতা জীবন বাঁচাতে পারে।

প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য

বাংলাদেশে বর্তমানে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়াও সিলেট, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রংপুর, সৌরক্ষা, খুলনা ও বান্দরবানসহ একাধিক আঞ্চলিক বিমানবন্দর সক্রিয় রয়েছে। আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক উভয় রুটে যাত্রীসংখ্যা ক্রমবর্ধমান। এই প্রেক্ষাপটে বিমানবন্দরের আগুন নিরাপত্তা কেবল একটি প্রশাসনিক দায়িত্ব নয় — এটি হাজারো মানুষের প্রাণের সরাসরি প্রশ্ন।

৬০ দিনের এই বিশেষায়িত কোর্স শেষ হওয়া মানে দেশের বিমানবন্দরগুলোতে আগুন মোকাবিলায় এক নতুন স্তরের দক্ষতা যুক্ত হয়েছে। তবে প্রশিক্ষণের প্রকৃত ফল দেখা যাবে তখনই, যখন এই দক্ষতা মাঠপর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতিতে প্রয়োগের সুযোগ পাবে। বেবিচকের চলমান প্রচেষ্টা এই দিকটিকেই কেন্দ্রবিন্দুতে রাখে — আইকাও-এর বৈশ্বিক মানদণ্ড পূরণ এবং দেশের প্রতিটি বিমানবন্দরে পর্যাপ্ত আগুন সুরক্ষা সেবা নিশ্চিত করা।

Frequently Asked Questions

What is ব ম ন দ র ঘটন ও?

ব ম ন দ র ঘটন ও is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ব ম ন দ র ঘটন ও matter?

ব ম ন দ র ঘটন ও matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *