Campus

ঢাবিতে প্রাচ্যকলার প্রদর্শনী, পুরস্কার পেলেন ১৬ শিক্ষার্থী

og_1788400827_6a98d4bb58c01

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচ্যকলা বিভাগে উন্মোচিত হলো বার্ষিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনী

Bangladailypost.com – ঢ ব ত প র চ যকল – ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের জিনুল গ্যালারিতে গত বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, প্রাচ্যকলা বিভাগের বার্ষিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন সম্পন্ন হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্প-শিক্ষা পরিবেশে প্রতি বছরই এই ধরনের প্রদর্শনী একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ঘটনা হিসেবে ধরা হয়, কারণ এখানে শিক্ষার্থীদের এক বছরের পরিশ্রম ও সৃজনশীল অন্বেষণ একসাথে প্রকাশ পায়। এবারের প্রদর্শনীতে বিভিন্ন মাধ্যম ও কৌশলে তৈরি শিল্পকর্মের সমাহার দেখানো হয়েছে, যা বিভাগের পাঠদান ও গবেষণার ফলাফলকে সরাসরি দর্শকের সামনে উপস্থাপন করে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বিবরণ

প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় চারুকলা অনুষদের ওসমান জামাল মিলনায়তনে। বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক গোপাল চন্দ্র ত্রিবেদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আজহারুল ইসলাম শেখ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. ইসরাফিল, জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ দেবাশীষ পাল এবং শিল্পাচার্য জিনুল আবেদিনের পুত্র, প্রকৌশলী মনুল আবেদিন। বার্ষিক প্রদর্শনীর কিউরেটর কান্তিদেব অধিকারী শুভেচ্ছা বক্তব্যে প্রদর্শনীর কৌশলগত ও বিষয়বস্তুগত দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

১৬ শিক্ষার্থীকে পুরস্কার

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেই বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ১৬ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কার প্রদান করা হয়। এই পুরস্কারগুলো বিভাগের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন ও জুরি-নির্বাচনের ভিত্তিতে দেওয়া হয়, যা শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল অগ্রগতি স্বীকৃতি দেওয়ার একটি প্রতিষ্ঠিত প্রথা। পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকা নিম্নরূপ:

নিরীক্ষাধর্মী ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার পান পল্লবী বিশ্বাস এবং রাহেলী রুবাইয়াৎ; বিশেষ পুরস্কার পান সজীব দত্ত ও বসুন্ধরা সরকার। জলরং ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ পুরস্কারের মর্যাদা লাভ করেন প্রগতি চাকমা ও শুভজিৎ পাল। পেনসিল ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার পান সোহাগ রাই ও অমিত পাল।

স্মৃতি পুরস্কার বিভাগে শিল্পী শফিকুল আমীন স্মৃতি পুরস্কার পান জাহিন রাঈদা মাইশা ও সুষমা সাদাফ মিথী। শিল্পী রশিদ চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কারে ভূষিত হন বাপ্পী পাল ও নকীব জাহাঙ্গীর। শিল্পী আমিনুল ইসলাম স্মৃতি পুরস্কার পান ইশতিয়াজ হোসেন ও সুনো চাকমা। আর শিল্পী শওকাতুজ্জামান স্মৃতি পুরস্কারে পুরস্কৃত হন মো. জাকারিয়া ইসলাম ও অংকিতা মিত্র।

প্রাচ্যকলা বিভাগের ঐতিহ্য ও তাৎপর্য

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচ্যকলা বিভাগ বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়-ভিত্তিক শিল্পশিক্ষার অন্যতম প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক প্রতিষ্ঠান। বিভাগটি দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার শিল্প-ঐতিহ্য, প্রাচীন ও আধুনিক শিল্পকর্মের সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ এবং সৃজনশীল অনুশীলন—এই তিন স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত। বার্ষিক প্রদর্শনী এই তিন স্তম্ভের প্রকৃত ফলাফলকে দর্শকের সামনে নিয়ে আসে, যা কেবল একাডেমিক মূল্যায়নের সীমায় সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং সাধারণ দর্শকের সঙ্গে শিল্পের সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে।

জিনুল আবেদিনের ঐতিহ্য ও পরিবারের উপস্থিতি

এবারের প্রদর্শনীতে একটি বিশেষ মাত্রা যোগ করেছেন শিল্পাচার্য জিনুল আবেদিনের পুত্র মনুল আবেদিনের উপস্থিতি। জিনুল আবেদিন বাংলাদেশের আধুনিক শিল্পের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে স্বীকৃত; তাঁর কাজ বাংলাদেশের শিল্প-ঐতিহ্যে অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁর নামেই চারুকলা অনুষদের গ্যালারীর নামকরণ করা হয়েছে, যা প্রতিটি প্রদর্শনীকে তাঁর স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত রাখে। পরিবারের সদস্যের উপস্থিতি কেবল আবেগমূলক নয়—এটি একটি প্রজন্ম-সংযোগের প্রতীক, যেখানে শিল্পের ঐতিহ্যিক বহুতর ধারা পরবর্তী প্রজন্মের সৃজনশীল অন্বেষণের সঙ্গে মিলিত হয়।

শিক্ষার্থীদের জন্য প্রদর্শনীর ভূমিকা

বিশ্ববিদ্যালয়-ভিত্তিক শিল্পশিক্ষায় বার্ষিক প্রদর্শনী কেবল একটি প্রদর্শন-ঘোড়া নয়; এটি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি মূল্যায়ন-বিন্দু, যেখানে এক বছরের কাজের গুণগত মান, কৌশলগত দক্ষতা ও ধারণাগত গভীরতা পরীক্ষা করা হয়। পুরস্কার-বিভাগের বহুতর প্রকৃতি—নিরীক্ষাধর্মী, জলরং, পেনসিল, এবং স্মৃতি পুরস্কার—শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন মাধ্যম ও শৈলীতে দক্ষতা অর্জনে উৎসাহিত করে। একই সঙ্গে, স্মৃতি পুরস্কারগুলো বাংলাদেশের শিল্প-ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের স্মরণে প্রতিষ্ঠিত, যা শিক্ষার্থীদের একটি ঐতিহাসিক দায়িত্বের সঙ্গেও পরিচিত করে।

প্রদর্শনী চলাকালীন দর্শকরা চারুকলা অনুষদের জিনুল গ্যালারিতে বিভিন্ন মাধ্যমে তৈরি শিল্পকর্ম দেখার সুযোগ পাবেন। এই প্রদর্শনী বাংলাদেশের একাডেমিক শিল্প-পরিবেশের একটি নিয়মিত ও অপরিহার্য অংশ, যা প্রতি বছর নতুন প্রজন্মের সৃজনশীল দক্ষতাকে পাবলিক ডোমেইনে নিয়ে আসে এবং শিল্প-সমালোচনা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের একটি জীবন্ত মঞ্চ হিসেবে কাজ করে।

Frequently Asked Questions

What is ঢ ব ত প র চ যকল?

ঢ ব ত প র চ যকল is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ঢ ব ত প র চ যকল matter?

ঢ ব ত প র চ যকল matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *