দুই পা হারিয়েও হার মানেনি মানিক মিয়া
নীরব কর্মস্থল
দ ই প হ র য ও – ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকার আটি বাজার প্রান্তে একটি ব্যস্ত সড়কের ফুটপাতে নিজের কাজে ডুবে থাকেন মানিক মিয়া। সেখানে মানুষের দ্রুত গতিতে আবর্তন, যানবাহনের হর্নের ঝংকার আর রোদের শিখা সবার চারপাশে বিস্তারলাভ করেছে নগর জীবনের নিত্য ঝংকার। তিনি এলিফ্যান্ট রোডের সড়ক কাটে বাইরে থেকে রিকশা আর ভ্যান মেরামত করছেন। কাজ করার সময় তার হাতে রেঞ্চ, প্লাস, হাতুড়ি আর সংসাধনের বিশেষ সরঞ্জাম সাজে কর্মস্থলে।
দুর্ঘটনার মুহূর্ত
১৯৮২ সালে অসাবধানতার এক মুহূর্তে সংঘটিত হয়েছিল তাঁর জীবনের একটি বিপর্যয়। ট্রেনে যাচ্ছিলেন চট্টগ্রামের পথে, গেটের কাছে দাঁড়িয়ে সেখানে ছিলেন। দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তিতে চোখে নেমে আসে ঘুমঘুম ভাব। সেই ক্ষণে হঠাৎ ট্রেন থেকে পড়ে যান তিনি। অনেক ক্ষত হয়ে গেল তাঁর দুই পা। দুই পা হারিয়েও তাঁর কর্মজীবনে কখনো হার মানেননি মানিক মিয়া।
আত্মমর্যাদার সন্ধান
‘গেটের কাছে দাঁড়িয়েছিলাম। চোখে একটু ঘুমঘুম ভাব ছিল। হঠাৎ পড়ে গেলাম। এরপর ট্রেনের নিচে আমার দুইটা পা চলে যায়।’
দুর্ঘটনার পর সামনে ছিল অনিশ্চয়তার অন্ধকার। সংসারের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করার সময় আসেনি তাঁর। বড় ভাইয়ের পরামর্শ গ্রহণ করে তিনি পুনরুজ্জীবিত কর্ম শুরু করেন। বলেন তিনি, ‘সুস্থ হওয়ার পরে ভাবলাম, কী করব। আমার বড় ভাই এই কাজ করতেন। উনি বললেন, তোর জন্য এই কাজটাই ভালো হবে।’
দীর্ঘ সংগ্রাম
সামনে ছিল নির্দিষ্ট দোকান নেই, আধুনিক কর্মশালা ও বিশেষ কোনো সুবিধা নেই তাঁর কাজে। খোলা আকাশের নিচে বছরের পর বছর ধরে গড়ে উঠেছে তাঁর কর্মজীবন। প্রতিদিন আয় হয় গড়ে এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা। তিন সন্তান সংসার নিয়ে তিনি কখনো সরে আসেননি। ছোট ছেলে কলেজে পড়ছে, মেয়ে বিএ পাস করিয়ে বিয়ে দিয়েছেন। বৃষ্টির দিনে ফুটপাত ভিজে যায়, গরমে রোদে বসে থাকতে হয় কাজ করার জন্য। কিন্তু সংসারের দায়িত্ব তাঁকে প্রতিদিন পুনরায় কর্মস্থলে নিয়ে যায়।