National

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী / সব দাবি মানার পরও কমিটিতে আসবো না, এটা সহযোগিতা হলো না

og_1788134272_6a94c38055584

জুলাই সনদের বাস্তবায়নে বিরোধীদলের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সংঘাত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সংসদে সরাসরি আহ্বান

Bangladailypost.com – স বর ষ ট রমন ত র – জাতীয় সংসদের অধিবেশনকক্ষে রোববার (৩০ আগস্ট) এক অস্বাভাবিক চাপের মুখোমুখি হয়েছেন বিরোধীদল। সংবিধান সংশোধন কমিটির গঠন নিয়ে আলোচনার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সরাসরি ফ্লোরে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলকে কমিটিতে যোগদানের জন্য আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল একটাই — দাবি-দাওয়াতের পাশাপাশি সহযোগিতার অভাব জুলাই জাতীয় সনদের পুরো কাঠামোকেই বিকৃত করে দিচ্ছে।

সংসদে কী ঘটেছিল

দিনটি শুরু হয়েছিল এক আশার নোট দিয়ে। চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি সংসদে জানান, বিরোধীদলের উপ-নেতা শেখ আবদুল্লাহ তাহিরের সঙ্গে ফোনে কথা বলে তিনি আশা করেছিলেন, বিরোধীদল সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ নেবে। সেই বোঝাপড়ার ভিত্তিতে রোববার কমিটি পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়েছিল। কিন্তু এরপরই সংসদে উপস্থিত হয়ে বিরোধীদলের উপ-নেতা স্পষ্টভাবে জানান, তাঁরা কমিটিতে থাকতে চান না। এই ঘোষণার পরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্লোরে উঠে তাঁর বক্তব্য দেন।

অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কাসেম কামাল।

“দুইটা বিপরীতমুখী হয়ে যাচ্ছে”

এখন আপনারা সবই জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে চাইবেন, অথচ সনদ বাস্তবায়নের জন্য সহযোগিতায় আসবেন না। দুইটা বিপরীতমুখী হয়ে যাচ্ছে। সব দাবি মানতে হবে, তারপরও আমরা আপনাদের এই সংবিধান সংশোধনী কমিটিতে আসবো না — এটা সহযোগিতা হলো না।

এই বক্তব্য মন্ত্রীর পক্ষ থেকে এক ধরনের নৈতিক-রাজনৈতিক চাপ হিসেবে পড়তে হবে। জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রীয় পরিস্থিতিতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে প্রণীত একটি ঐকমত্য-ভিত্তিক কাঠামো। সনদের কেন্দ্রীয় শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে সংবিধান সংশোধন, নির্বাচনী প্রক্রিয়া পুনর্গঠন এবং সংসদীয় কমিটির সভাপতিত্ব বিরোধীদলকে দেওয়া। মন্ত্রী দাবি করেন, সরকার এই সনদের বাস্তবায়নে অপেক্ষায় বসে নেই — কাজ শুরু হয়েছে, কমিটি গঠিত হয়েছে, এবং তার সভাপতিত্বে ইতিমধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ডেপুটি স্পিকার পদ নিয়ে পূর্ববর্তী ঘটনাপ্রবাহ

মন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, স্পিকার নির্বাচনের আগে একটি ইফতার অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলের নেতাদের মধ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। সেই আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন —

আমরা এখন থেকেই জুলাই জাতীয় বাস্তবায়ন শুরু করি। চলুন, আপনি ডেপুটি স্পিকারের একজনের নাম দিন।

বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার একজন ও ডেপুটি স্পিকার একজন থাকেন। সেই ডেপুটি স্পিকারের পদ সরকার বিরোধীদলকেই অফার করেছিল। তবে বিরোধীদল তখন সেই পদ গ্রহণে রাজি হয়নি বলে মন্ত্রী জানান। সরকারের অবস্থান ছিল — সংবিধান সংশোধিত হলে সেই অনুযায়ী পদ-বিন্যাস পুনর্গঠিত হবে।

কমিটির গঠন ও সদস্যপরিষদ

সংবিধান সংশোধনের জন্য বিশেষ কমিটি আন্ডার রুলস ২২৬-এ গঠিত হয়েছে। কমিটিতে পাঁচ সদস্যের জায়গা বিরোধীদলের জন্য রাখা হয়েছে। এছাড়া সংসদে প্রতিনিধিত্বশীল অন্যান্য রাজনৈতিক দল, স্বতন্ত্র সদস্যসহ বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিত্বও কমিটিতে রয়েছে।

মন্ত্রী কমিটির বর্তমান সদস্যপরিষদের একটি চিত্র তুলে ধরেন — সংবিধান বিশেষজ্ঞ, সাবেক প্রধান বিচারপতি, বর্তমান বিচারপতি, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন, প্রেসের প্রতিনিধি ও সম্পাদকরা কমিটির অংশ। এছাড়া জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদেরও আহ্বান জানানো হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবারের সদস্য এবং জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গেও আলোচনা করা হবে বলে জানানো হয়।

বিল সংসদে উপস্থাপনের পথ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আইন মন্ত্রণালয় ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের বিল সংসদে উপস্থাপন করা হবে। তাঁর শব্দে —

আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী এবং জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী আর যাদের সঙ্গে কথা বলবো, তাদের পরামর্শ অনুযায়ী সবকিছু ধারণ করে আমরা একটা সমৃদ্ধ সংবিধান সংশোধনী বিল আনবো।

বিরোধীদলের সিদ্ধান্ত ও এর প্রভাব

বিরোধীদল নীতিগতভাবে কমিটিতে না আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মন্ত্রী এটিকে “তাদের নীতিগত সিদ্ধান্ত” হিসেবে স্বীকার করলেও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, সংবিধান সংশোধিত না হলে জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হবে না। তাঁর যুক্তি — “হওয়ার পরে হবে।”

সনদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো সংসদীয় কমিটির সভাপতিত্ব বিরোধীদলকে দেওয়া। তবে মন্ত্রীর দাবি, সেই বাস্তবায়নের আগে সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন। অর্থাৎ, বিরোধীদল কমিটিতে না বসলে সংশোধন প্রক্রিয়া ধীর হবে, আর ধীর প্রক্রিয়া মানে সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন দূরে সরে যাবে।

“আপনারা যখনই অংশ নেবেন, আমরা স্বাগত জানাবো”

মন্ত্রীর বক্তব্যের শেষাংশে ছিল একটি খোলা দরজার ইঙ্গিত —

আপনারা সংবিধান সংশোধনী কমিটিতে আসুন। আপনাদের যা বক্তব্য আছে, আমরা সেটা লিপিবদ্ধ করবো। আপনাদের সমস্ত বক্তব্য সেই রিপোর্টে থাকবে। আপনাদের বক্তব্য জাতি জানবে।

তিনি যোগ করেন, কমিটিতে দ্বিমত ও ভিন্নমত স্বাভাবিক; কিছু প্রস্তাবে একমতও হবে। সরকার “ভেরি ওপেন” এই বিষয়ে, এবং অন্য পেশার মানুষদের প্রস্তাবও গ্রহণ করা হবে।

সংসদীয় প্রক্রিয়ার এই মোমেন্টে মূল প্রশ্ন একটাই — জুলাই সনদের রাজনৈতিক অর্থকে বাস্তবায়নের প্রযুক্তিগত ধাপে রূপান্তর করতে বিরোধীদল কি কমিটির ভেতরেই কাজ করবে, নাকি বাইরে থেকে দাবি-দাওয়াতের রাজনীতি চালিয়ে যাবে। মন্ত্রীর শব্দে, এই দুই পথ “বিপরীতমুখী”।

Frequently Asked Questions

What is স বর ষ ট রমন ত র?

স বর ষ ট রমন ত র is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does স বর ষ ট রমন ত র matter?

স বর ষ ট রমন ত র matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *