গ্যাসের সংকটে স্থবির চট্টগ্রাম, বাড়ছে জনভোগান্তি
গ য স র স কট স - চট্টগ্রামের শিল্পকারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে এসেছে। গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে অনেক কারখানা উৎপাদন সক্ষমতার অর্ধেকেরও নিচে
Table of Contents
চট্টগ্রামে গ্যাস সংকটের তীব্র প্রভাব: শিল্প-পরিবহন-আবাসিক খাতে স্থবিরতা
Bangladailypost.com – গ য স র স কট স – চট্টগ্রামের শিল্পকারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে এসেছে। গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে অনেক কারখানা উৎপাদন সক্ষমতার অর্ধেকেরও নিচে নামিয়ে দিয়েছে। কিছু কারখানা সম্পূর্ণ উৎপাদন বন্ধ রেখেছে। এছাড়াও গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনেও ব্যাঘাত ঘটেছে। শিল্প খাতের পর এবার পরিবহন খাতেও সংকটের প্রবল ধাক্কা লেগেছে।
পরিবহন খাতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও ভোগান্তি
নগরের বিভিন্ন সিএনজি স্টেশনে চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কোথাও যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে, আবার কোথাও গ্যাস না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে। এর ফলে গণপরিবহনের সংখ্যা কমে যাওয়ায় যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। কারখানার উৎপাদন বন্ধ এবং পরিবহন সংকট—এই দুইয়ের সমন্বয়ে চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও নগরজীবনে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
সিএনজি অটোরিকশাচালক নুরুল আলম বৃষ্টি উপেক্ষা করে সকাল ছয়টায় গ্যাসের জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। এক-দুই ঘণ্টা নয়, টানা ছয় ঘণ্টা অপেক্ষার পরও তার গাড়ির সিরিয়াল এগোয়নি। দুপুর বারোটা বাজলেও গ্যাসের দেখা মেলেনি। ফিরিঙ্গী বাজার থেকে কর্ণফুলী প্রাকৃতিক গ্যাস লিমিটেডের ফিলিং স্টেশনে এসে তিনি এমন দুর্ভোগে পড়েছেন।
সকাল ছয়টায় এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি। এখন দুপুর বারোটা বাজে। শুরুতে নাকি অল্প গ্যাস ছিল, এখন চাপ একেবারেই নাই, পাম্পও বন্ধ। দিনটাই শেষ, কীভাবে গাড়ি চালাব জানি না।
গ্যাসের চাপ কম থাকায় কোথাও পাম্প বন্ধ, কোথাও সামান্য চাপ পেলেই সরবরাহ চালু হচ্ছে। নুরুল আলমের মতো শত শত চালক এই দুর্ভোগে পড়ছেন। গ্যাস সংকটে চট্টগ্রামের পরিবহন, শিল্প ও আবাসিক জীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। কারখানার উৎপাদন কমে গেছে, কোথাও বন্ধ হয়েছে। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে। বাসাবাড়িতে চুলা ঠিকমতো জ্বলছে না।
সিএনজি স্টেশনগুলোতে একই চিত্র
নগরের কোতোয়ালি, ষোলশহর, জিইসি মোড় ও কর্ণফুলীর মইজ্জ্যারটেক এলাকার সিএনজি স্টেশনগুলোতে একই পরিস্থিতি। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত স্টেশনের সামনে যানবাহনের দীর্ঘসারি। স্টেশন মালিকরা বলছেন, জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ লাইনে গ্যাসের চাপ কমে গেছে। চাপ সামান্য বাড়লে পাম্প চালু করা হয়। আবার চাপ কমে গেলে সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়।
তিন নম্বর রুটের মিনিবাসচালক আবুল কালাম বলেন, গ্যাসের দাম তো নতুন করে বাড়েনি। আমরাও বাড়তি টাকা পেতে চাই না। কিন্তু সমস্যা হলো, একটি ট্রিপ দেওয়ার আগে সাত থেকে আট ঘণ্টা পাম্পে বসে থাকতে হয়। যে সময়ে তিন থেকে চারটা ট্রিপ দিতে পারতাম, সেই সময়ে পাম্পের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।
গ্যাসের দাম তো নতুন করে বাড়েনি। আমরাও বাড়তি টাকা পেতে চাই না। কিন্তু সমস্যা হলো, একটি ট্রিপ দেওয়ার আগে সাত থেকে আট ঘণ্টা পাম্পে বসে থাকতে হয়।
যাত্রীদের ভোগান্তি ও বাড়তি ভাড়া
গ্যাসের সংকটে অধিকাংশ গণপরিবহন রাস্তায় নামতে না পারায় যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। ব্যস্ত মোড়ে বাসের অপেক্ষায় দীর্ঘসময় দাঁড়াতে হচ্ছে। কোনো কোনো চালক বাড়তি ভাড়া দাবি করছেন বলেও অভিযোগ যাত্রীদের। ব্যাংকার মোস্তফা সুরাদ বলেন, অন্যদিনে বহদ্দারহাট থেকে আগ্রাবাদ ১২০ থেকে ১৪০ টাকা ভাড়া হতো। এখন চালকেরা সরাসরি ৩০০-৩২০ টাকা দাবি করছেন।
অন্যদিনে বহদ্দারহাট থেকে আগ্রাবাদ ১২০ থেকে ১৪০ টাকা ভাড়া হতো। এখন চালকেরা সরাসরি ৩০০-৩২০ টাকা দাবি করছেন। এ সুযোগসন্ধানী চালকদের কাছে আমরা জিম্মি হয়ে পড়েছি।
মুরাদপুর থেকে চকবাজার যাচ্ছিলেন কলেজ শিক্ষিকা রোজিনা ইসলাম। তিনি বলেন, আমার সঙ্গে ছোট বাচ্চা রয়েছে। সিএনজি পাওয়া যাচ্ছে না। আর যে দু-একটা খালি গাড়ি পাওয়া যাচ্ছে, ভাড়া শুনে মনে হচ্ছে আমরা কোনো দূরপাল্লার বাসে উঠছি।
আবাসিক খাতেও সংকট
গ্যাস সংকট শুধু রাস্তার কিংবা কারখানার সীমাবদ্ধ নেই। নগরের বিভিন্ন এলাকার বাসাবাড়িতেও গ্যাসের চাপ কমে গেছে। কোথাও চুলা নিভু নিভু করে জ্বলে, আবার কোথাও একেবারেই জ্বলছে না। কাতালগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা পারভীন আক্তার বলেন, সকাল হলেই মনে হয় রান্নাঘরের সব প্রাণ উবে যায়। নিভু নিভু করে চুলা জ্বলে, কখনো একদমই থাকে না। বাধ্য হয়ে বিকল্প উপায়ে রান্না করতে হয়।
সকাল হলেই মনে হয় রান্নাঘরের সব প্রাণ উবে যায়। নিভু নিভু করে চুলা জ্বলে, কখনো একদমই থাকে না। বাধ্য হয়ে বিকল্প উপায়ে রান্না করতে হয়।
চকবাজারের গৃহিণী রাহেলা আক্তার জানান, গ্যাস না থাকায় বাড়তি টাকা খরচ করে এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের মধ্যে এই অতিরিক্ত খরচ সংসারের বাজেটে নতুন চাপ তৈরি করেছে।
কেজিডিসিএলের তথ্য ও সংকটের মাত্রা
কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) তথ্য বলছে, চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। জাতীয় গ্রিড থেকে বরাদ্দ রয়েছে ২৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু বর্তমানে গড়ে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১৯০ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় গ্যাসের ঘাটতি প্রায় ৪৫ দশমিক ৭১ শতাংশ।
কেজিডিসিএল সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে দৈনিক ৩১২ থেকে ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে সার কারখানার ৯০ থেকে ১০০, বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রায় ৪০ এবং সিএনজি স্টেশনে প্রায় ১৯ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হয়। বাকি গ্যাস আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প গ্রাহকদের মধ্যে সরবরাহ করা হয়। চাহিদা ও সরবরাহের বড় ব্যবধানের কারণে একসঙ্গে শিল্প, বিদ্যুৎ, পরিবহন ও আবাসিক খাতে সংকট তৈরি হয়েছে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is গ য স র স কট স?
গ য স র স কট স is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does গ য স র স কট স matter?
গ য স র স কট স matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.