প্রসিকিউটর জোহার বিরুদ্ধে হত্যার হুমকি দেখিয়ে সাক্ষ্য দেন আসামি চঞ্চল চন্দ্র সরকার
জুলাই আত্মপ্রকাশ ঘটনার সাক্ষ্য প্রসিকিউটরের প্রতি হুমকি দিয়ে দেওয়া হয়েছিল
স ব ক র ক ত আদ – আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারিক প্যানেলে সাফাই সাক্ষ্য দিতে গেলে চঞ্চল চন্দ্র সরকার বলেন যে তানভীর হাসান জোহার তাকে স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করেছিলেন। স্বীকারোক্তি দিতে রাজি না হলে তাকে ভয় দেখানো হয়েছিল এবং তাকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছিল।
‘স্বীকারোক্তি দিতে রাজি না হলে আমাকে ভয়ভীতি ও মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এতেও রাজি না হলে আমার নিকট আত্মীয়-স্বজনকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।’
এই মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন রামপুরা কার্নিশে ঝুলে থাকা এক তরুণকে গুলি করাসহ দুজনকে হত্যার ঘটনার অভিযোগ। গতকাল বুধবার (১৯ জুন) ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিতে হলে চঞ্চল বলেন যে তাকে থানায় গ্রেফতার করা হয়। তিনি বলেন, ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি বিকেলে ওসির কক্ষে নিয়ে গিয়ে সেখানে একজন পুরুষ এবং একজন নারী তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। পুরুষটি ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহাকে পরিচয় দেন এবং নারীটিকে তার হবু স্ত্রী হিসেবে চিহ্নিত করেন। এসময় ওসি সাহেব বলেন, ‘জোহা যা বলেন তা মেনে নাও।’
সাক্ষ্য দেওয়ার সময় চঞ্চল সরকার বলেন যে তার মানসিক অবস্থা খারাপ ছিল। এর পর প্রসিকিউশন নতুন ডিজিটাল এভিডেন্স জমা দেওয়ার আবেদন করে মামলার রায় ঘোষণার দিন স্থগিত করা হয়। গত ৪ মার্চ রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য ছিল, কিন্তু আবার সাক্ষ্য দিতে হয়। চঞ্চল সরকার দাবি করেন যে আইনজীবী তার সাক্ষ্যে কোনও পরিবর্তন করেনি।
মামলার অভিযুক্তরা কে কে?
এই মামলায় মোট পাঁচজন অভিযুক্ত ছিলেন। তাদের মধ্যে চঞ্চল ছাড়া অন্যরা পলাতক রয়েছেন। বাকি অভিযুক্তরা হলেন—ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মশিউর রহমান এবং সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।
গত ১৩ জানুয়ারি চঞ্চল সরকার রামপুরা পুলিশ ফাঁড়িতে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। সেই সময় তিনি নির্দোষ দাবি করেছিলেন। এখন তিনি বলেন, সেই দিন কেউ তাকে ভয় দেখায়নি এবং তিনি নির্ভয়ে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন।