মোগল ঐতিহ্যের সাক্ষী বড় শরিফপুর মসজিদ
ম গল ঐত হ য র স – কুমিল্লার লাকশাম উপজেলার বড় শরিফপুর গ্রামে প্রবেশ করার সময় অনুভূত হয় এক অনন্য সামাজিক চারপাশ। সরু পথ দিয়ে চলার সময় সবুজ আবহ ছাড়া সেখানে মুঘল স্থাপত্যের নিপুণ কারুকাজ ছোঁয়াছুঁই। এই মসজিদটি লাকশাম উপজেলার এক গৌরবময় স্থাপনা হিসেবে পরিচিত, যা ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক মূল্যবান সম্পদ হিসেবে পরিচিত হয়েছে।
অবস্থান ও প্রাচীন গৌরব
নাটেশ্বর দিঘির পূর্ব পাশে স্থাপিত এই মসজিদ আজও একটি মূল্যবান ঐতিহাসিক সম্পদ হিসেবে পরিচিত। বিশাল দিঘির শান্ত জলের প্রতিবিম্বে মসজিদের গম্বুজ যেন আরও মোহনীয় হয়ে ওঠে। চারপাশে প্রাচীরঘেরা পরিবেশ মসজিদটিকে আলাদা ধর্মীয় আবহ দেয়।
অভ্যন্তর এক আইলবিশিষ্ট। কেন্দ্রীয় মিহরাবে এবং পূর্ব দিকের প্রবেশপথে অবস্থিত দুটি শিলালিপি এ মসজিদের সাংস্কৃতিক মূল্য প্রকাশ করে। ফার্সি ভাষায় উৎকীর্ণ এই শিলালিপিগুলো নাসতালিক রীতিতে লেখা।
নাসতালিককে ফার্সি ক্যালিগ্রাফির সবচেয়ে নান্দনিক ধারা হিসেবে ধরা হয়।
মসজিদটি সম্প্রসারণ ও সংস্কারের সময় অনেকগুলো সময় আগে নির্মিত হয়েছিল। হিজরি ১০৬৮ অর্থাৎ ১৬৫৭-৫৮ খ্রিষ্টাব্দে মসজিদটি গড়ে ওঠে। সেই সময়ে এর নির্মাতা মুহাম্মদ আয়াত ছিলেন একজন কোতওয়াল বা প্রশাসনিক কর্মকর্তা। সেই কারণে এটি কোতওয়ালী মসজিদ নামে পরিচিত।
স্থাপনার বৈশিষ্ট্য
বড় শরিফপুর মসজিদ আয়তকার পরিকল্পনায় গঠিত এবং তিন গম্বুজবিশিষ্ট। কার্নিশ সমান্তরাল যে মুঘলরীতির একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হিসেবে পরিচিত। বাংলার অনেক প্রাচীন মসজিদে বাঁকানো কার্নিশ দেখা গেলেও এখানে সমান্তরাল কার্নিশ ব্যবহার করা হয়েছে।
মসজিদের পূর্ব দিকে তিনটি প্রবেশপথ রয়েছে। খিলানসম্বলিত এই প্রবেশপথগুলো আলকোভ দ্বারা আবৃত। মাঝের প্রবেশপথটি আকারে বড় হওয়ায় সেটি মূল প্রবেশদ্বার হিসেবে ব্যবহৃত হতো। প্রতিটি প্রবেশপথ আয়তকার ফ্রেমে আবদ্ধ এবং দু’পাশে আয়তকার কুলুঙ্গি প্যানেল স্থাপিত।
মসজিদের চার কোণায় অষ্টকোণাকৃতির বুরুজ রয়েছে। এগুলো ছাদের উপর পর্যন্ত উঠে গেছে এবং শীর্ষে কুপ