হাতছাড়া হচ্ছে ক্রিমিয়া? রাশিয়ায় ফিরল সোভিয়েত আমলের হাহাকার
হ তছ ড় হচ ছ ক র – ইউক্রেন যুদ্ধের পরিস্থিতি এখন পূর্বে দেখা যাওয়া অবিচ্ছিন্ন ছাড়া পুনরায় গুরুতর হয়ে উঠেছে। ক্রিমিয়া উপদ্বীপের ওপর রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি পেয়েছে ইউক্রেনীয় ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্রতার কারণে। এই উপদ্বীপ বর্তমানে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের প্রধান কেন্দ্র হিসাবে বিবেচিত হতে শুরু করেছিল, কিন্তু ইউক্রেনের প্রতিশোধপূর্ণ ক্রমবর্ধমান আক্রমণ তাকে পুনরায় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সমস্যায় ফেলেছে।
হামলা বৃদ্ধির পটভূমি
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য সুদূরপ্রসারী কৌশল অনুসরণ করছে। এই উপদ্বীপে গত ১২ মাসে অর্ধেকেরও বেশি হামলা ঘটেছে, যার মধ্যে চলতি বছরের জুন মাসের পর থেকে মোট হামলার এক-পঞ্চমাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন, গুরুত্বপূর্ণ সেতু এবং সামরিক বিমানঘাঁটি এই হামলার প্রধান লক্ষ্য।
সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এসিএলইডি এবং দ্য ইকোনমিস্টের তথ্য অনুযায়ী, ক্রিমিয়ায় ইউক্রেনীয় হামলার পরিমাণ নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২০২২ সাল থেকে এই পর্যন্ত মোট ৬৯২টি বড় ধরনের হামলা চালানো হয়েছে। যার মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি হামলা গত ১২ মাসে।
সড়ক, রেলপথ এবং জলপথ নিয়ন্ত্রণে ইউক্রেন ক্রিমিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে ফেলেছে। কের্চ সেতু রাশিয়ার খাদ্য ও জ্বালানি পরিবহনের প্রধান চৌপশ্চার হিসাবে কাজ করে। ইউক্রেনের ক্রমাগত আঘাতের কারণে এই সেতুটি এখন রাশিয়ার জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। এর পরিণতিতে ইউক্রেন দাবি করেছে যে তারা গত ১৩ জুলাই রাশিয়ার ৯২৬টি ইউক্রেনীয় ড্রোন নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছে।
সাধারণ নাগরিকদের প্রতি প্রভাব
রাশিয়া ক্রিমিয়াতে প্রতি মাসে যেখানে রাশিয়ার যুদ্ধক্ষমতার প্রায় ১ থেকে ২ শতাংশ হারে সামরিক সংখ্যা কমছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংক ট্যাংক সিএসআইএস তথ্য অনুযায়ী, প্রতি মাসে রাশিয়া প্রায় ২৭ হাজার নতুন সেনা নিয়োগ দিচ্ছে, কিন্তু হারাচ্ছে প্রায় ৩০ হাজার সামরিক বাহিনী। ক্রিমিয়া নিয়োজিত রুশ বাহিনী আরও বেশি চাপে পড়েছে। তাদের জন্য খাদ্য ও জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, কিন্তু মজুত নতুন করে পূরণ করা ধীরগতির হয়েছে।
পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানুষকে সারা রাত লাইনে দাঁড়ি