International

ভারতের ককরোচ পার্টি কি পুরোদমে রাজনীতিতে নামছে? মুখ খুললেন নেতারা

og_1785045356_6a65a16c48ec0

ককরোচ পার্টির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট বার্তা

Bangladailypost.com – ভ রত র ককর চ প র – ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান প্রশ্নফাঁস ও শিক্ষা ব্যবস্থার অনিয়মের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনের মুখে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই প্রতিবাদের নেতৃত্ব দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি। আন্দোলনের সফলতার পর থেকেই সংগঠনটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। নেতারা কি পুরোদমে রাজনীতিতে নামবেন? এই প্রশ্নের উত্তরে অবশেষে মুখ খুলেছেন সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতারা।

রাজনৈতিক দল গঠন এখনই লক্ষ্য নয়

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির সাক্ষাৎকারে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাশ ভবিষ্যতের কর্মপন্থা সম্পর্কে কথা বলেছেন। তারা পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন, রাজনৈতিক দল গঠন করা তাদের বর্তমান মূল লক্ষ্য নয়।

ভারতে এরই মধ্যে ৭৫০-৮০০ রাজনৈতিক দল রয়েছে। কিন্তু যুবসমাজের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে তাদের অনেকেই ব্যর্থ হয়েছে। তাই আমাদের মূল এজেন্ডা হলো এই আন্দোলনকে তৃণমূল স্তরে ছড়িয়ে দেওয়া, যাতে ক্ষমতায় যে দল বা নেতাই থাকুক না কেন, তারা যুবসমাজের দাবিগুলো মানতে বাধ্য হয়।

সৌরভ দাশের এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, যুবসমাজের কণ্ঠস্বরকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই তারা এই পথে এগিয়ে যাচ্ছেন।

রাজনীতিতে যোগদানের সম্ভাবনা অস্বীকার করেননি

ভবিষ্যতে রাজনীতিতে যোগদানের সম্ভাবনা সরাসরি উড়িয়ে দেননি আশুতোষ রাঙ্কা। তাকে যখন প্রশ্ন করা হয়েছিল, তিনি কি রাজনীতিকে একেবারে না বলছেন? উত্তরে রাঙ্কা বলেন, ভারতে কোনো কিছুকেই না বলতে নেই। তবে এই মুহূর্তে তার প্রথম কাজ হলো বাড়ি ফিরে একটু বিশ্রাম নেওয়া এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো। প্রায় দুই মাস ধরে তিনি বাড়ি থেকে দূরে রয়েছেন। পুরো বিষয়টি তাদের জন্য যথেষ্ট আবেগঘন এবং স্বস্তিদায়ক বলে উল্লেখ করেন সিজেপির মুখপাত্র।

আন্দোলনের ইতিহাস ও সরকারি সমঝোতা

গত ২০ জুন দিল্লির যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের আন্দোলন শুরু করেছিল সিজেপি। প্রথমে স্যাটায়া বা ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন ক্যাম্পেইন হিসেবে শুরু হওয়া এই প্রতিবাদ রূপ নিয়েছে ভারতের অন্যতম বড় যুব আন্দোলনে। এই আন্দোলনের চাপের মুখেই পদত্যাগ করেছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। নরেন্দ্র মোদীর জমানার কোনো মন্ত্রীর পদত্যাগের এটি বিরল ঘটনা।

শেষ বৈঠকে বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা এবং মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়। এর আগেই শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আলোচনা বেশ সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে শেষ হয় বলে জানান নেতারা।

আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার নিয়ে কথা হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারী এবং গুরুতর অপরাধীদের মধ্যে পার্থক্য পরিষ্কার।

সরকারের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী, সব শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারী ও আয়োজকের বিরুদ্ধে থাকা এফআইআর তুলে নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে সিজেপি আয়োজকদের নামে আর কোনো নতুন মামলা হবে না বলেও আশা প্রকাশ করছে ককরোচ জনতা পার্টি।

সূত্র: এনডিটিভি কেএএ/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *