International

অভিবাসনপ্রত্যাশী / জীবনের ঝুঁকি নিয়েও লাভ হলো না, সবাইকে ফিরতে হলো খালি হাতে

অভ ব সনপ রত য শ জ - উত্তর আফ্রিকার স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত এলাকা সেউতায় গত কয়েক দিনে অভিবাসীদের বিশাল ঢল দেখা গেছে। এই ঘটনায় অন্তত ৬৭ জনের মৃত্যু নিশ্চিত

Desk International
Published August 1, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments
Foto : Karen Wilson - bangladailypost.com

সেউতায় অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ফিরতে হলো খালি হাতে

Bangladailypost.com – অভ ব সনপ রত য শ জ – উত্তর আফ্রিকার স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত এলাকা সেউতায় গত কয়েক দিনে অভিবাসীদের বিশাল ঢল দেখা গেছে। এই ঘটনায় অন্তত ৬৭ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। স্পেন সরকারের তথ্য অনুযায়ী, সীমান্ত অতিক্রমকারী প্রায় সকল অভিবাসনপ্রত্যাশীই স্বেচ্ছায় মরক্কোতে ফিরে গেছেন।

মৃত্যুর কারণ ও পরিস্থিতি

স্প্যানিশ কর্মকর্তারা শনিবার নিশ্চিত করেন যে, সেউতায় প্রবেশের চেষ্টাকালীন সময়ে এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। মরক্কো সীমান্তের পাশাপাশি আরও হতাহতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, কেউ সাগরে ডুবে মারা গেছেন, আবার কেউ সীমান্তের বেড়া ও ব্রেকওয়েলে ওঠার সময় পদদলিত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন।

সেউতা প্রবেশ করা প্রায় সবাই এখন মরক্কোতে ফিরে গেছে।

এই মন্তব্যটি করেছেন স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস। তিনি শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) একটি পোস্টে এই তথ্য জানান।

ইউরোপের প্রতিক্রিয়া

এই ব্যাপক অনুপ্রবেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে শেনজেন অঞ্চলের দেশগুলো বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ফন ডার লেইয়েন সেউতার পরিস্থিতির ছবিগুলোকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনেজ জানিয়েছেন, স্পেন সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেছেন, দেশের সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে প্রয়োজনে স্পেনের সঙ্গে শেনজেন চুক্তি স্থগিত করার বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।

সংখ্যাগত তথ্য ও সরকারি ঘোষণা

স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ সেউতায় প্রবেশ করেছে। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের মধ্যে ৪৮ হাজার ৩০০ জন মরক্কোতে ফিরে গেছে। তবে সেউতার স্থানীয় প্রশাসনের প্রধান হুয়ান হেসুস ভিভাসের দাবি, গত কয়েক দিনে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করেছে।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ শুক্রবার সেউতা সফর করে বলেন, এই গণ-অনুপ্রবেশ স্পেনের ভৌগোলিক সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাগরের দিকে থাকা সীমান্ত প্রতিরক্ষা কাঠামোতে নতুন প্রতিবন্ধক নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে স্পেন।

সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা

সীমান্তে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে মরক্কোর দাঙ্গা পুলিশ সীমান্তে জড়ো হওয়া লোকজনকে ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে।

সত্যি বলতে, কেন এসেছিলাম সেটাই জানি না। এখন আবার ফিরে যাচ্ছি। গতকাল দুপুরের পর থেকে কিছু খাইনি। আমরা যা করছি, তা ভালোও নয়, আনন্দেরও নয়।

এই কথাগুলো বলেছেন এক তরুণ মরক্কোর নাগরিক।

সেউতা ও মেলিয়ার গুরুত্ব

ইউরোপে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ পথ সেউতা এবং মেলিয়া উত্তর আফ্রিকার স্পেনের দুটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। এগুলোই আফ্রিকা মহাদেশের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একমাত্র স্থলসীমান্ত। ইউরোপে প্রবেশের আশায় অভিবাসনপ্রত্যাশীরা প্রায়ই মরক্কোর ফনিদেক শহর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার সাঁতরে সেউতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। আবার অনেকে কাছের বেলিউনেশ এলাকা থেকেও সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করেন।

আদালতের রায় ও অভিবাসীদের প্রতিক্রিয়া

সেউতা প্রশাসনের দাবি, সম্প্রতি স্পেনের সুপ্রিম কোর্ট সমুদ্রপথে আসা অভিবাসীদের তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত পাঠানো যাবে না—এমন একটি রায় দেওয়ার পর থেকেই অভিবাসীদের ঢল বেড়েছে। তবে মরক্কোর মানবাধিকারকর্মীদের মতে, অধিকাংশ অভিবাসনপ্রত্যাশী এই আদালতের রায়ের বিষয়ে জানতেন না। তাই শুধুমাত্র ওই রায়কে এই পরিস্থিতির কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

শুক্রবার রাতের পর সীমান্তে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হলেও অনেক অভিবাসনপ্রত্যাশী উপকূল ধরে বিকল্প পথ খুঁজতে থাকেন।

Leave a Comment