২৬ বছর পর লাকী আখান্দকে নিয়ে অজানা গল্প বললেন বাপ্পা
২৬ বছর পর ল ক আখ ন – বাংলা গানের প্রতিষ্ঠাতা সুরকার এবং সংগীতশিল্পী লাকী আখান্দের জন্মদিন উপলক্ষে তার ভক্ত, অনুরাগী এবং সহশিল্পীরা তাকে স্মরণ করেছেন। কেউ তার অপ্রকাশিত গানগুলো প্রকাশ করেছেন, কেউ তার সৃষ্টির নতুন সংস্করণ গেয়েছেন। এক পোস্টে বাপ্পা মজুমদার লাকী আখান্দের সাথে একটি অজানা কথা উপস্থাপন করেছেন, যেটি অতীতে অনেকের জানা ছিল না।
হৃদয়পুর অ্যালবামের গাছ গানের পেছনে লাকী আখান্দের অবদান
বাপ্পা লেখেন, ২০০০ সালে ‘হৃদয়পুর’ অ্যালবামের সৃষ্টি প্রক্রিয়া চলছিল। শেখ রানার লেখা ‘গাছ’ গানটির সুর ও সংগীতায়োজন শেষ হওয়ার পর তিনি মনে করেন গানটিতে অ্যাকর্ডিয়ানের সুর যোগ করা আবশ্যক। কিন্তু সেই সময় অ্যাকর্ডিয়ান পাওয়া যাচ্ছিল না।
বাপ্পা লেখেন, “বহু সাহস সঞ্চয় করে বললাম, ‘লাকী ভাই, একটা অ্যাকর্ডিয়ান লাগবে। কোথাও পাচ্ছি না, কী করবো?’ উনি বললেন, ‘আরে, আমার কাছেই তো আছে বাপ্পা!’”
অ্যাকর্ডিয়ান ব্যবস্থা হওয়ার পর নতুন সমস্যা ছিল বাদ্যযন্ত্রটি কে বাজাবেন। সেটিও বাপ্পা প্রশ্ন করেছিলেন, যেখানে বড় আশ্চর্য ঘটেছিল।
“আমি বললাম, কাউকে তো পাচ্ছি না! তখন তিনি বললেন, ‘কেন? আমি বাজাবো!’ আমি স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। ভাবতেই পারিনি এমন একজন কিংবদন্তি শিল্পী নিজে এসে বাজানোর কথা বলবেন,” বাপ্পা লেখেন।
তারপর দিনক্ষণ নির্ধারণ করে লাকী আখান্দ স্টুডিওতে হাজির হন। তাঁর নিজের অ্যাকর্ডিয়ান নিয়ে গানটি সুর তোলেন। তিনি জানান, সেই মুহূর্তের স্মৃতি আজও ভোলেনি বাপ্পা।
“আমি আর সঞ্জীব দা মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। আনন্দে যেন কথাই বলতে পারছিলাম না। গানটার আবেগই বদলে গিয়েছিল লাকী ভাইয়ের বাজানোয়। ‘খোলা আকাশ, একটি গাছ’ গানে যে অ্যাকর্ডিয়ানের সুর শুনেছেন, সেটি তার নিজের হাতে বাজানো হয়েছিল,” বাপ্পা লেখেন।
পোস্টের শেষাংশে লাকী আখান্দকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বাপ্পা লেখেন, “এক অপার্থিব আনন্দ নিয়ে গভীর রাতে বাসায় ফিরেছিলাম। সারা রাত গানটি শুনেই কেটে গিয়েছিল। আহা লাকী ভাই! ভালো থাকুন, যেখানেই থাকুন। শ্রদ্ধা।”
প্রসঙ্গত, বাংলা সংগীতাঙ্গনে লাকী আখান্দ এক অপর্যাপ্ত সাফল্যের স্মারক হিসেবে স্থান অধিকার করেছেন। সুর, সংগীতায়োজন এবং কণ্ঠে তার উপহার দেওয়া গানগুলো অসংখ্য শ্রোতাদের কাছে প্রেরণার উৎস হয়ে আছে।