Bangladailypost.com – স ব ন ইয় ম ন র – দেশবরেণ্য সংগীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমীনের জন্মদিন আজ। ১৯৫৪ সালের আজকের এই দিনে (৪ সেপ্টেম্বর) জন্মগ্রহণ করেন কিংবদন্তিতুল্য এই শিল্পী। মাত্র ১৩ বছর বয়সে চলচ্চিত্রে প্লেব্যাকের মাধ্যমে সংগীতজগতে পা রাখেন তিনি। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। দীর্ঘ সংগীতজীবনে ১০ হাজারের বেশি গান গেয়েছেন সাবিনা ইয়াসমীন। জন্মদিনে সাবিনা ইয়াসমীনের জীবনের নানা স্মরণীয় ঘটনা সামনে আসে। এর মধ্যে অন্যতম উপমহাদেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে তার সাক্ষাতের ঘটনা। সাবিনার গান শুনে সেদিন আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন লতা। তার দুই চোখ বেয়ে নেমে এসেছিল পানি। ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে অংশ নিতে মুম্বাইয়ে গিয়েছিলেন সাবিনা ইয়াসমীন। উৎসব উপলক্ষে বাংলাদেশের একটি দল দিল্লি, মুম্বাই, চেন্নাই ও কলকাতা সফর করেছিল। সেই দলে ছিলেন ববিতা, রাজ্জাক, রোজী সামাদ, কাজী জহিরসহ আরও অনেকে। মুম্বাইয়ের একটি অনুষ্ঠানে হারমোনিয়াম নিয়ে গান গাওয়ার সুযোগ পান সাবিনা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কিংবদন্তি সংগীত পরিচালক শচীন দেব বর্মণ। তিনি সাবিনাকে বাংলাদেশের একটি গান গাওয়ার অনুরোধ করেন। শচীন দেব বর্মণের অনুরোধে সাবিনা গেয়ে শোনান ‘নাইয়ারে নায়ের বাদাম তুইলা’। কোনো বাদ্যযন্ত্রী ছাড়াই শুধু হারমোনিয়াম বাজিয়ে গানটি পরিবেশন করেন তিনি। সাবিনা যখন গান গাইছিলেন, তখন শচীন দেব বর্মণ মাথা নিচু করে তা শুনছিলেন। গান শেষ হওয়ার পর শচীন দেব বর্মণ মাথা তুলতেই সাবিনা দেখতে পান, তার দুই চোখ দিয়ে পানি ঝরছে। এরপর তিনি সাবিনাকে জড়িয়ে ধরে আশীর্বাদ করেন। এরপর আরও একটি স্মরণীয় ঘটনা ঘটে। সাবিনা যখন আরেকটি গান গাইতে শুরু করেছেন, তখন করিডোর দিয়ে লতা মঙ্গেশকরকে আসতে দেখেন। কিংবদন্তিতুল্য এই শিল্পীকে দেখে ভয়ে হারমোনিয়াম ফেলে সেখান থেকে পালিয়ে যান সাবিনা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত লতা মঙ্গেশকরের সামনে গান গাইতেই হয় তাকে। লতা মঙ্গেশকরের সামনে প্রথমে ‘জন্ম আমার ধন্য হলো মা গো’ গানটি পরিবেশন করেন সাবিনা। গান শেষ হওয়ার পর লতা তার কণ্ঠ ও গায়কির ভূয়সী প্রশংসা করেন। সেই প্রশংসায় স্বাভাবিকভাবেই লজ্জা পেয়েছিলেন সাবিনা। সেদিনের অনুষ্ঠানে ভারতের চলচ্চিত্র অঙ্গনের অনেক খ্যাতিমান ব্যক্তিও উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন অমিতাভ বচ্চন ও রাজ কাপুরের মতো তারকারা। সাবিনার গান শুনে রাজ কাপুর তাকে ‘আওয়াজ কি দেবী’ বলে অভিহিত করেন। অনুষ্ঠান শেষে শচীন দেব বর্মণ সাবিনা ইয়াসমীন ও লতা মঙ্গেশকরকে দুই পাশে দাঁড় করিয়ে জড়িয়ে ধরে তিনটি ছবি তুলেছিলেন। এর মধ্যে একটি ছবি এখনো সাবিনার কাছে রয়েছে। তবে বাকি দুটি ছবি আজও খুঁজে পাননি তিনি। সেই সময় লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথাও হয়েছিল সাবিনার। লতা তাকে জানিয়েছিলেন, বাংলা গান গাইতে তার খুব ভালো লাগে। বাংলা ভাষাটিও তার কাছে খুব মিষ্টি লাগে বলে জানিয়েছিলেন এই শিল্পী। লতা মঙ্গেশকরের প্রয়াণের স্মৃতিও এখনো আবেগাপ্লুত করে সাবিনা ইয়াসমীনকে। তিনি মনে করেন, লতার চলে যাওয়া উপমহাদেশের সংগীতজগতের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। দেশের গান এ শিল্পীকে অনন্য এক উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। তাকে নিয়ে গেছে মানুষের মনের মনিকোঠায়। দেশাত্মবোধক গানের ক্ষেত্রে সাবিনা ইয়াসমীনকে বলা যায়- অপ্রতিদ্বন্দ্বী। এ পর্যন্ত বহু দেশের গান গেয়েছেন তিনি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘জন্ম আমার ধন্য হলো’, ‘ও আমার বাংলা তোর’, ‘একটি বাংলাদেশ’, ‘ও মাঝি নাও ছাইড়া দে’, ‘সব কটা জানালা খুলে দাও না’, ‘সুন্দর সুবর্ণ তারুণ্য লাবণ্য’, ‘সেই রেল লাইনের ধারে’ ও ‘যদি মরণের পরে কেউ প্রশ্ন করে’। সাবিনা ইয়াসমীনের গানের সংখ্যা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলতে পারবেন না তিনি নিজেও। তবে বিভিন্ন পরিসংখ্যানে জানা গেছে, তিনি অন্তত ১০ হাজার গান গেয়েছেন। সেসবের বেশিরভাগই জনপ্রিয়। ‘এ কী সোনার আলোয়’, ‘প্রেম যেন এক গোধুলি বেলার’, ‘যদি আমাকে জানতে সাধ হয়’, ‘এই পৃথিবীর পরে কত ফুল ফোটে’, ‘মন যদি ভেঙ্গে যায় যাক’, ‘অশ্রু দিয়ে লেখা এ গান’, ‘শুধু গান গেয়ে পরিচয়’, ‘এ আধার কখনো যাবে না’, ‘জানি না সে হৃদয়ে কখন এসেছে’, ‘চিঠি দিও প্রতিদিন’, ‘ইশারায় শীষ দিয়ে আমাকে ডেকো না’, ‘এ সুখের নেই কোনো ঠিকানা’ গানগুলো সেই তালিকায় শুরুর দিকেই রাখা যাবে। সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য বহু পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেছেন সাবিনা ইয়াসমীন। সেসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা একুশে পদক, স্বাধীনতা পুরস্কার, বাচসাস পুরস্কার, উত্তম কুমার পুরস্কার, জহির রায়হান চলচ্চিত্র পুরস্কার, শেরে বাংলা স্মৃতি পদক। সিনেমার গানের জন্য তিনি ১৪ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। ১৯৬৭ সালে জহির রায়হানের ‘আগুন নিয়ে খেলা’ চলচ্চিত্রে আলতাফ মাহমুদের সংগীত পরিচালনায় মাত্র ১৩ বছর বয়সে প্রথম প্লেব্যাক করেন সাবিনা ইয়াসমীন। সেই শুরু থেকে দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আজ তিনি দেশের সংগীতাঙ্গনের অন্যতম শ্রদ্ধেয় শিল্পী। অসংখ্য কালজয়ী গানের মাধ্যমে শ্রোতাদের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন এই কিংবদন্তি। জন্মদিনে তাকে জানাই শ্রদ্ধা ও শুভকামনা।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is স ব ন ইয় ম ন র?
স ব ন ইয় ম ন র is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does স ব ন ইয় ম ন র matter?
স ব ন ইয় ম ন র matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

