Economy

ফুরিয়ে যাচ্ছে আম, চড়া দাম

ফ র য য চ ছ আম - ফুরিয়ে যাচ্ছে আমের মৌসুম। ঢাকার ফলের বাজারে এবার আমের সমারোহ আগের মতো নেই। সরবরাহ কমে যাওয়ায় মৌসুমের শেষভাগে বিভিন্ন জাতের আমের দাম

Desk Economy
Published August 5, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments
Foto : Jennifer Garcia - bangladailypost.com
Table of Contents
  1. ফুরিয়ে যাচ্ছে আমের মৌসুম, বাজারে চড়া দামে ক্রেতাদের হাহাকার
  2. Related Reading
  3. Frequently Asked Questions

ফুরিয়ে যাচ্ছে আমের মৌসুম, বাজারে চড়া দামে ক্রেতাদের হাহাকার

Bangladailypost.com – ফ র য য চ ছ আম – ফুরিয়ে যাচ্ছে আমের মৌসুম। ঢাকার ফলের বাজারে এবার আমের সমারোহ আগের মতো নেই। সরবরাহ কমে যাওয়ায় মৌসুমের শেষভাগে বিভিন্ন জাতের আমের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, কয়েক সপ্তাহ আগে যে দামে ভালো মানের আম কেনা যেত, এখন সেই দামে নিম্নমানের আমও কিনতে গুনতে হচ্ছে কয়েকগুণ বেশি টাকা।

বর্তমান বাজারের অবস্থা ও দামের তালিকা

বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার ফলের দোকান ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে বাজারে মূলত ছোট আম্রপালি, বারি-৪, কাটিমন, ফজলি ও আশ্বিনা জাতের আম বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে ছোট আম্রপালি প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ২৭০ টাকা, বারি-৪ ১৩০ থেকে ১৯০ টাকা, কাটিমন ৮০ থেকে ১৪০ টাকা, ফজলি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা এবং আশ্বিনা ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বিক্রেতারা বলছেন, মৌসুম শেষের পথে হওয়ায় বাজারে নতুন আম আসছে না। যে পরিমাণ আম আসছে, তা দিয়ে চাহিদা মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এখন বাজারে যে অল্প আম পাওয়া যাচ্ছে তা মূলত রাজশাহী থেকে আসছে।

আগের তুলনায় দামের পার্থক্য

অথচ কয়েক সপ্তাহ আগেও রাজধানীর বাজারে বড় ও ভালো মানের আম্রপালি প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ছোট আম্রপালির দাম ছিল ৩০ থেকে ৫০ টাকা, বারি-৪ আম ৫০ থেকে ৭০ টাকা এবং ফজলি আম ৪০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে পাওয়া গেছে। মৌসুমের শেষদিকে এসে একই জাতের আমের দাম কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।

অপরদিকে ক্রেতারা বলছেন, মৌসুমের শেষদিকে দাম একটু বেশি হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার আমের দাম তুলনামূলক বেশি বেড়েছে। সাধারণত মৌসুমের শেষদিকে আম্রপালির কেজি ১২০ থেকে ১৬০ টাকার মধ্যে থাকে। বারি-৪ আম ৮০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে থাকে। কিন্তু এবার আম্রপালির কেজি আশি টাকার ওপরে। আর বারি-৪ এর দাম প্রায় ২০০ টাকা হয়ে গেছে।

ক্রেতাদের অভিজ্ঞতা ও বিক্রেতাদের মতামত

রামপুরা বাজারে ফল কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী মো. নাসির উদ্দিন বলেন, কয়েক দিন আগেও বড় বড় আম্রপালি ৮০ টাকার মধ্যে কিনেছি। এখন ছোট ছোট আম্রপালি ২৫০ টাকা কেজি চাচ্ছেন বিক্রেতারা। কোথাও এর থেকে কম দামে পাওয়া যাচ্ছে না। কেউ কেউ তো ২৮০ টাকাও কেজি চাচ্ছেন। পরিবারের সবাই আম পছন্দ করে, কিন্তু এই দামে আম কেনা তো অসম্ভব। তাই কিছুটা কম দামে বারি-৪ আম কিনলাম। তাও কেজি নিয়েছে ১৫০ টাকা।

খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা অপূর্ব রায়হান বলেন, বাসার শ্বশুর বাড়ির মেহমান এসেছে, তাই আম কিনতে এসেছি। ঘুরে ঘুরে এক জায়গায় আম্রপালি পেলাম। কিন্তু দাম অনেক বেশি ২৬০ টাকা কেজি। বারি-৪ আম ১৮০ টাকা কেজি চাচ্ছে। তাই কিছুটা কম দামে ফজলি কিনলাম। প্রতি কেজি ১২০ টাকা করে নিয়েছে। তিনি বলেন, কিছুদিন আগে ফজলি আমের কেজি ৫০ টাকাতেও পাওয়া গেছে। এখন ৫০ টাকা দিয়ে আশ্বিনা আমও পাওয়া যাচ্ছে না।

মালিবাগের বাসিন্দা সুমাইয়া সুমি বলেন, সারা মৌসুমে বিভিন্ন জাতের আম খেয়েছি। এখন বাজারে গিয়ে দেখি হাতে গোনা কয়েকটি জাত আছে। দামও অনেক বেশি। কিছুদিন আগে ব্যানানা আম ১২০ টাকা কেজি কিনেছি। সে সময় আম্রপালির কেজি ছিল ৬০-৮০ টাকা। বাজারে অনেক ঘুরেও ব্যানানা আম পাওয়ানি। আম্রপালির কেজি ২৫০ টাকা করে নিয়েছি। দাম অনেক বেশি তাই অল্প করে দুই কেজি নিয়েছি। তিনি বলেন, এখন আমের দাম অনেক বেশি। কিন্তু বাসার সবাই আম পছন্দ করে। তাই দাম বেশি হওয়ার পরও কিনছি। সারাবছর তো আম বাজারে পাওয়া যায় না। আবার বেশি করে কিনে আম বহুদিন সংরক্ষণও করা যায় না। এই জন্য দাম বেশি হওয়ার পরও মৌসুমের ফল একটু খাওয়ার চেষ্টা করছি।

বনশ্রীর বাসিন্দা মো. পাপ্পু বলেন, মৌসুমের শেষ দিকে ভালো আম পাওয়াই কঠিন। যেগুলো আছে সেগুলোর দামও চড়া। পরিবারের চাহিদার কথা ভেবে কিনতে হলেও বাজেটের ওপর চাপ পড়ছে। কয়েক দোকান ঘুরে দুই কেজি ফজলি আম কিনলাম। তিনি বলেন, প্রতি বছর শেষ সময়ে আমাদের দাম বাড়ে। তবে এবার দাম অন্য বছরের তুলনায় বেশি বেড়েছে। গত বছর শেষ সময়ে আম্রপালির কেজি ১৫০-১৬০ টাকা কিনেছিলাম। এবার তো আম্রপালির কেজি আশি টাকার ওপরে। কয়েকদিন পর হয়তো ৩০০ টাকা হয়ে যাবে। আম্রপালির স্বাদ ভালো, তাই চাহিদা বেশি। এ জন্য দামও বেশি মনে হচ্ছে।

ভ্যান থেকে আম কেনা মধ্য বাড্ডার এক গৃহিণী আকলিমা আক্তার বলেন, আমার ছেলে কয়েকদিন ধরে আম খাব আম খাব করছে। তাই আম কেনার জন্য বাজারে গিয়েছিলাম। বাজারে তো সব আমাদের অস্বাভাবিক দাম। এই ভ্যানে আশ্বিনা আম ৬০ টাকা কেজি বিক্রি করছি। তাই এখন থেকে দশ কেজি আম নিলাম। যে দাম তাতে অন্য আম তো আমাদের পক্ষে কেনা সম্ভব না।

রামপুরা বাজারের ফল বিক্রেতা মো. টিটু বলেন, আর অল্প কয়েকদিন বাজারে আম পাওয়া যাবে। হিমসাগর, ল্যাংড়া আম এখন আর পাওয়া যাচ্ছে না। বাজারে সব থেকে বেশি পাওয়া যাচ্ছে আশ্বিসা ও বারি-৪ আম। আশ্বিনা কিছুটা টক হওয়ার কারণে চাহিদা কম। এ জন্য দামও কম। আর রাজশাহী থেকে অল্প কিছু আম্রপালি আসছে, এর স্বাদ অনেক ভালো। চাহিদাও আছে বেশি ভালো, তাই দামও বেশি। তিনি বলেন, বাজারে এখন মূলত কাটিমন, বারি-৪, ফজলি, আশ্বিনা ও অল্প কিছু আম্রপালি পাওয়া যাচ্ছে। সপ্তাহখানেক পরে হয়তো আম্রপালিও পাওয়া যাবে না। এখন আর আগের মতো ট্রাকে ট্রাকে আম আসে না। প্রতিদিন অল্প পরিমাণ আম আসছে। সরবরাহ কম থাকায় আশ্বিনা ও বারি-৪ আমের চাহিদা বেশি।

ফুরিয়ে যাচ্ছে আমের মৌসুম: প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

প্রশ্ন: ফুরিয়ে যাচ্ছে আমের মৌসুম কেন? উত্তর: মৌসুমের শেষদিকে রাজশাহীসহ অন্যান্য এলাকা থেকে আমের সরবরাহ কমে যাচ্ছে। হিমসাগর ও ল্যাংড়া আম এখন আর বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না।

প্রশ্ন: বর্তমানে কোন জাতের আম সবচেয়ে বেশি পাওয়া যাচ্ছে? উত্তর: বর্তমানে বাজারে আশ্বিনা ও বারি-৪ আম সবচেয়ে বেশি পাওয়া যাচ্ছে। কাটিমন, ফজলি ও অল্প কিছু আম্রপালিও পাওয়া যাচ্ছে।

প্রশ্ন: আমের দাম কেন এত বেড়ে গেছে? উত্তর: সরবরাহ কমে যাওয়া, নতুন আম না আসা এবং চাহিদা বজায় থাকায় দাম বেড়েছে। বিশেষ করে আম্রপালির দাম আগের তুলনায় কয়েক গুণ বেড়েছে।

প্রশ্ন: আম কেনার সেরা সময় কখন? উত্তর: মৌসুমের শুরুতে ও মাঝামাঝি সময়ে আম সবচেয়ে কম দামে পাওয়া যায়। মৌসুম শেষের দিকে দাম বেড়ে যায়।

প্রশ্ন: আম সংরক্ষণ করে রাখা যায় কি? উত্তর: হ্যাঁ, আম সংরক্ষণ করে রাখা যায়। তবে বেশি করে কিনলেও বহুদিন সংরক্ষণ করা যায় না। তাই মৌসুমের শেষে দাম বেশি হলেও কিছুটা আম কেনা হয়।

Frequently Asked Questions

What is ফ র য য চ ছ আম?

ফ র য য চ ছ আম is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ফ র য য চ ছ আম matter?

ফ র য য চ ছ আম matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Comment