কাঁচামালের আমদানিনির্ভরতায় ঘুরছে দেশি সাইকেলের চাকা
ক চ ম ল র আমদ ন - বাংলাদেশের বাইসাইকেল শিল্প বর্তমানে নানা বাধার সম্মুখীন। উচ্চমূল্যের কাঁচামাল আমদানির ওপর নির্ভরতা এই শিল্পের প্রধান দুর্বলতা। ফ্রি-হুইল
Table of Contents
দেশি সাইকেল শিল্পের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা
Bangladailypost.com – ক চ ম ল র আমদ ন – বাংলাদেশের বাইসাইকেল শিল্প বর্তমানে নানা বাধার সম্মুখীন। উচ্চমূল্যের কাঁচামাল আমদানির ওপর নির্ভরতা এই শিল্পের প্রধান দুর্বলতা। ফ্রি-হুইল আমদানিতে সাম্প্রতিক শুল্ক বৃদ্ধি বিক্রয়কে আরও চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছে। রপ্তানি বাজারেও বিভিন্ন কারণে সুখকর অবস্থান নেই। শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম ও রাবারসহ সাইকেল নির্মাণের বিভিন্ন উপাদানের আন্তর্জাতিক দাম তুলনামূলকভাবে বেশি। এছাড়া ফ্রি-হুইল, গিয়ার, চেইন সেট, হাব, ব্রেক সেট, বিয়ারিং ও মানসম্মত অ্যালয় ফ্রেমের অনেক উপাদান আমদানি করতে হয়।
চীন, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও ভারতের উৎপাদকরা কম খরচে ও দ্রুত সময়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে সাইকেল রপ্তানি করছে। এটি বাংলাদেশের সাইকেল রপ্তানির জন্য প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। একই সাথে ইউরোপনির্ভর রপ্তানি পদ্ধতিও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে ঘুরপাক খাচ্ছে দেশি সাইকেল শিল্প।
শিল্পের মুখোমুখি সমস্যা
বাংলাদেশ বাইসাইকেল ও যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিবিপিএমইএ) মহাসচিব ও মেঘনা গ্রুপের চিফ অপারেটিং অফিসার মো. লুৎফুল বারী জাগো নিউজকে বলেন, ‘দেশের সাইকেল শিল্প এখন নানা চ্যালেঞ্জের মুখে। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় দেশে সাইকেলের বিক্রি আগের চেয়ে কমছে। চীন, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও ভারতের উৎপাদকরা কম দামে এবং দ্রুত সরবরাহ করতে পেরে রপ্তানি বাজারে বাড়িয়েছে প্রতিযোগিতা।’ তিনি আরও জানান, ‘উচ্চ সুদের হার ও অর্থায়ন সংকটের কারণে কার্যকর মূলধন সংগ্রহ ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। পরিবহন ব্যয় ও আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা রপ্তানিতে প্রভাব ফেলছে।’ কোভিড-পরবর্তী সময়ে ইউরোপ ও আমেরিকার অতিরিক্ত মজুতের কারণে নতুন অর্ডার আগের তুলনায় কম এসেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সাইকেল শিল্পের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কম্পোনেন্ট এখনো আমদানিনির্ভর হওয়ায় উৎপাদন ব্যয় কমানো কঠিন। ডলারের বিনিময় হার, এলসি খোলার জটিলতা ও আন্তর্জাতিক পরিবহন ব্যয় বাড়লে উৎপাদন খরচও বেড়ে যায়। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক মানের কম্পোনেন্ট তৈরির প্রযুক্তি ও দক্ষতার ঘাটতি, অটোমেশনে বিনিয়োগের উচ্চ ব্যয়, দক্ষ ওয়েল্ডার ও টেকনিশিয়ানের অভাব, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক মান পরীক্ষার পর্যাপ্ত ল্যাব না থাকা শিল্পটির বড় প্রতিবন্ধকতা।
বাজার ও উৎপাদন পরিস্থিতি
সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও ধারণা করা হয়, দেশে প্রায় দুই কোটি ৫০ লাখের মতো বাইসাইকেল চলে। গবেষণা ও শহর পরিকল্পনার কিছু তথ্য অনুসারে, ঢাকা শহরে প্রায় দুই লাখ সাইকেল রয়েছে। মোট যানবাহনের তুলনায় এ সংখ্যা নগণ্য হলেও বর্তমানে ঢাকা শহরে পরিবেশবান্ধব দ্বিচক্রযানের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। এখন বাসা থেকে অফিসে নিয়মিত যাতায়াত করেন হাজারো সাইক্লিস্ট। পার্সেল পরিবহনেও সাইকেল এখন জনপ্রিয় বাহন। শহরের রাস্তায় প্রতিনিয়তই চোখে পড়ে বাইসাইকেল।
দেশে সাইকেলের বাজার নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান নেই। তবে শিল্পসংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, দেশি বাজারের আকার আনুমানিক এক হাজার ৫শ থেকে দুই হাজার কোটি টাকা। শুধু দেশ নয়, বিদেশে রপ্তানিও হয় বাংলাদেশি সাইকেল। রপ্তানিসহ এ বাজারের আকার প্রায় দুই হাজার ৫শ কোটি টাকা বলে মনে করেন কেউ কেউ। দেশি উৎপাদন সক্ষমতা বছরে প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ ইউনিট, যদিও প্রকৃত উৎপাদন অর্ডার ও বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে ওঠানামা করে। বাংলাদেশের বড় উৎপাদকরা দেশি বাজারের পাশাপাশি ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে। বর্তমানে বৈশ্বিক বাজারে চাহিদা কিছুটা কম থাকায় উৎপাদন সক্ষমতার পুরোটা ব্যবহার করা যাচ্ছে না, তবে বাজার স্বাভাবিক হলে উৎপাদন ও রপ্তানি উভয়ই বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
শুল্ক বৃদ্ধির প্রভাব
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বাইসাইকেলের ফ্রি-হুইল আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ এবং নতুন করে ৫ শতাংশ রেগুলেটরি ডিউটি আরোপ করেছে। সরকারের উদ্দেশ্য দেশি ফ্রি-হুইল উৎপাদকদের সুরক্ষা দেওয়া। বাজেটে শুল্ক বাড়ানোর সব ধরনের সাইকেলের দাম বেড়েছে।
বাজেটে শুল্ক বাড়ানোর সব ধরনের সাইকেলের দাম বেড়েছে। ছোট সাইকেলের দাম বেড়েছে ১২শ থেকে ১৫শ টাকা। বড় সাইকেলের দাম বেড়েছে প্রায় দুই হাজার টাকা।
পুরান ঢাকার বংশালের কাজী আলাউদ্দিন রোডের জোনাকী সাইকেল স্টোরের মালিক আশফাকুল ইসলাম জিশান জাগো নিউজকে বলেন, ‘বিক্রি এখন খুবই খারাপ। ক্রেতাদের কাছে দাম চাইতেও এখন লজ্জা লাগে। কারণ কয়েক মাস কিংবা দুই সপ্তাহ আগে নিলাম, এখন এত দাম বেশি। ভালোর মধ্যে ছোট সাইকেল এখন ৮ হাজার টাকার নিচে নেই।’ সাদ সাইকেল স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. সাদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘আসলে সাইকেলের বাজারের অবস্থা সবার জন্য একরকম না। কারও ভালো যাচ্ছে, আবার কারও খারাপ যাচ্ছে। বিশেষ করে সাধারণ দোকানগুলোতে ব্যবসা কিছুটা খারাপ যাচ্ছে, যদিও ভিআইপি সাইডে কিছুটা ভালো আছে। তবে সব মিলিয়ে আগের তুলনায় ব্যবসা ডাউন।’ তিনি বলেন, ‘সাইকেলের দাম অনেক বেড়েছে, ধারণার বাইরে ব
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ক চ ম ল র আমদ ন?
ক চ ম ল র আমদ ন is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ক চ ম ল র আমদ ন matter?
ক চ ম ল র আমদ ন matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.