মৌলভীবাজারের প্রাণ-পরিবেশ বিপন্ন
ল টপ ট ব পন ন ম – প্রাকৃতিক সম্পদ, জীববৈচিত্র্য ও জলাভূমি পরিচিত মৌলভীবাজার জেলা বর্তমানে পরিবেশ বিপর্যয়ের ঝুঁকির মধ্যে আছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় বন উজাড়ের কারণে কৃষিজমি ক্ষয় হচ্ছে, বায়ুদূষণ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং জীববৈচিত্র্য ক্ষীণতর হয়ে আসছে। অবৈধ ইটভাটায় বনের কাঠ পুড়ছে, পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া সচল থাকা ৪৫টি ইটভাটা দিয়ে কৃষি মৃত্তিকা কেটে বালু উত্তোলন চলছে।
হাওরের ভরাট ও পরিবেশ ক্ষতি
এশিয়ার বৃহৎ মিঠাপানির জলাভূমি হাকালুকি হাওর মৌলভীবাজারের পরিবেশ ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু বিল দখল ও অবৈধ মাছ আহরণের কারণে এ জলাভূমির পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী হাকালুকি হাওরের বিলগুলোর মোট আয়তন ছিল ৪ হাজার ৪০০ হেক্টর, যার মধ্যে ২৩৮টি বিল রয়েছে। কিন্তু পলি জমার কারণে প্রায় ১০০টি বিল ভরাট হয়ে গেছে।
হাইল ও কাউয়াদীঘি হাওরের অবস্থা একই ধরনের। বর্তমানে হাইল হাওরে ১৩১টি এবং কাউয়াদীঘি হাওরে ৬৮টি বিল থাকার কথা ছিল, কিন্তু অনেক বিল বিলীন হওয়ার পথে। স্থানীয় অভিযোগ অনুযায়ী রাতের আঁধারে বালু উত্তোলনের কাজ চলছে, যা ছড়ার প্রবাহ ও পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট করছে।
বন ও ছড়া নিয়ে অভিযোগ
জেলায় বিস্তৃত ৫২টি ছড়া সিলিকা বালুর কোয়ারি হিসেবে চিহ্নিত। তবে অধিকাংশ ছড়া ইজারা নেই এবং বালু অবৈধভাবে উত্তোলন হচ্ছে। নির্বিচারে বনাঞ্চল থেকে গাছ ও বাঁশ কাটার অভিযোগ রয়েছে। বন বিভাগের তথ্যমতে জেলায় ২৩টি বাঁশ মহাল রয়েছে, যেগুলো ক্রমাগত সম্পদ লুটপাটে বিপন্ন হচ্ছে।
পরিবেশবিদ নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘মৌলভীবাজার প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ একটি জেলা। কিন্তু সম্পদ রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।’
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) জাতীয় পরিষদের কার্যনির্বাহী সদস্য আ স ম সালেহ সোহেল বলেন, ‘বনের গাছ ও বাঁশ পাচার শুধু বন ধ্বংস করছে না, পুরো পরিবেশ ও প্রতিবেশ ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। হাওরের বিল ভরাট, বর্জ্য ফেলা ও মাছ লুট চলতে থাকলে পরিবেশের ভয়াবহ ক্ষতি হবে।’
মৌলভীবাজার পরিবেশ অ