গারো পাহাড়ে থামছেই না অবৈধ বালু উত্তোলন
গ র প হ ড় থ মছ – শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার গারো পাহাড়ের নদী ও ঝরণা এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে এই কাজ বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে চলছে। যার ফলে পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও বনাঞ্চল ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা স্থানীয়দের দাবি। তাদের মতে, প্রভাবশালী চক্রগুলি নাম না দিয়ে বালু উত্তোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে সাহস পাচ্ছে না। কাংশা ইউনিয়নের দরবেশতলা এলাকায় কালঘোষা নদী থেকে কমপক্ষে দশ জনকে বালু উত্তোলন করতে দেখা গেছে। বনরানী এলাকার একটি ঝরণা থেকেও দুই-তিন জন কাজ করছে।
মুক্তার আলী বলেন, এ কার্যক্রমের পেছনে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের নীরব ভূমিকা থাকতে পারে। না হলে কাজটি দীর্ঘদিন ধরে চলত না।
সেভ ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড নেচার (সোয়ান) এর সভাপতি মো. নাইম ইসলাম জানান যে, অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের কারণে গারো পাহাড়ের পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সামঞ্চিক ভারসাম্য ধ্বংস হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত ভবিষ্যতে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।
নাঈমুর রহমান তালুকদার বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনে জড়িতদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ও ধারাবাহিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে।
বন বিভাগের গজনী বিট কর্মকর্তা মো. সালেহীন নেওয়াজ খান অস্বীকার করেন। তিনি জানান, অবৈধ বালু উত্তোলনে জড়িতদের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। বন বিভাগের কর্মকর্তারা এ কাজে জড়িত নন।
আরও জানান গেছে, সোমবার ভোরে গজনী এলাকায় অভিযানের সময় মাহিন্দ্র ট্রাক্টরচালিত ছয়টি মিনি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল আমীন বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলন খবর পেয়া মাত্র অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হচ্ছে। ড্রেজার মেশিন ও পাইপলাইন ধ্বংস করা হচ্ছে।