ফেনীতে জুলাই অভ্যুত্থানের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে উদ্বেগ প্রকাশ
ফ ন ত জ ল ই অভ – ফেনী জেলায় ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থান ঘটনায় বিভিন্ন আসামির নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে সাতটি হত্যাসহ ২২টি মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) কর্তৃক নথি পর্যবেক্ষণের পর নথিতে মোটামুটি বিপুল সংখ্যক আসামি রয়েছে যারা মূল ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। বাদীপক্ষের আইনজীবী এবং জেলা পিপি অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন খাঁনকে ঢাকায় তলব করা হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়া করার জন্য।
তদন্ত কর্মকর্তারা আসামির তালিকায় যথেচ্ছভাবে বিভিন্ন ব্যক্তির নাম রাখা এবং মূল ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকা ব্যক্তিদের আসামি করার প্রসংগ তোলে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এবং আদালতের বিচারকদের সঙ্গে আলোচনা করতে আইসিটির চিফ প্রসিকিউটর আগামী সপ্তাহে ফেনীতে গেলে সেটি ঘটেছে। সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও এমপি লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মোট আসামির সংখ্যা প্রায় ১১ হাজার।
গণহত্যার প্রতিক্রিয়া ও চার্জশিটের বিষয়ে আবেদন
৪ আগস্ট ফেনী মহিপালে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি ও হামলা চালায়। এতে ৭ জন নিহত ও সাড়ে চার শতাধিক মানুষ আহত হয়। ঘটনায় বিভিন্ন সময় গ্রেফতার করা হয়েছে প্রায় ৫০০ জন আসামি। কিন্তু অনেকে ইতোমধ্যে জামিনে মুক্ত হয়েছেন।
“মামলাগুলোতে বিচার কোন আদালতে হচ্ছে সেটি বড় বিষয় নয়; মূল লক্ষ্য হলো সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকৃত দোষীদের অপরাধ অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা।”
বাদীপক্ষের আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন ভূঞা এই বিষয়ে বলেন যে চার্জশিটের দাখিল করা হয়েছে সততার সঙ্গে তথ্য যাচাই করে। পুলিশ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মু. সাইফুল ইসলাম এ কথা জানান। কিন্তু আদালতের পুনঃতদন্তের নির্দেশে পুলিশ সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
আইসিটির প্রকৃত অপরাধীদের অপরাধ অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারগুলো রাজপথে ও আদালতে অনড় থাকবে বলে আবদুল্লাহ আল-মামুন মন্তব্য করেন। সাতটি হত্যা মামলা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে স্থানান্তর করা হবে। পুনঃতদন্তের আদেশ আসতে পারে চিফ প্রসিকিউটরের ফেনী সফরের পর।