ফেনীতে খাল পুনর্খনন প্রকল্পে অসম্পূর্ণ কাজ ও কোষাগারে অর্থ ফেরত
Bangladailypost.com – ফ ন ত খ ল প নর – ফেনী জেলায় চলমান খাল পুনর্খনন প্রকল্পের কাজ সময়মতো শেষ হয়নি। অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় সাতটি খাল পুনর্খনন প্রকল্পের মধ্যে দুটি অসম্পূর্ণ অবস্থায় থাকলেও বাকি পাঁচটিতে অতিরিক্ত অর্থ অব্যবহৃত থাকায় মোট ৭ কোটি ৮১ লাখ ৫১ হাজার ৩৪৩ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত পাঠানো হয়েছে। অর্থবছর শেষ হওয়ার কারণেই জেলা প্রশাসন এই অর্থ ফেরত পাঠাতে বাধ্য হয়েছে।
মোট বরাদ্দ ও ব্যয়ের হিসাব
জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাতটি খাল পুনর্খনন প্রকল্পের জন্য মোট বরাদ্দ ছিল ১২ কোটি ২ লাখ ৭৫ হাজার ৪৭৮ টাকা। তবে সকল কাজ শেষ হওয়ার পর দেখা যায় যে মোট ব্যয় হয়েছে মাত্র ৪ কোটি ২১ লাখ ২৪ হাজার ১৩৫ টাকা। অর্থাৎ, বরাদ্দের এক-তৃতীয়াংশের কিছু বেশি অর্থ খরচ করা সম্ভব হয়েছে।
অসম্পূর্ণ দুই প্রকল্পের বিস্তারিত
অসম্পূর্ণ থাকা দুটি প্রকল্পের মধ্যে একটি হলো সোনাগাজীর ডাঙ্গি খাল পুনর্খনন প্রকল্প। এই প্রকল্পে ৫ কোটি ৬৬ লাখ ৫০ হাজার ৯৪৫ টাকা বরাদ্দ থাকলেও খরচ হয়েছে মাত্র ৭৬ লাখ ৩০ হাজার ৬২১ টাকা। প্রকল্পটির কাজ শেষ হয়েছে মাত্র ৫৮ দশমিক ৮৫ শতাংশ এবং অব্যবহৃত ৪ কোটি ৯০ লাখ ২০ হাজার ৩২৪ টাকা ফেরত গেছে। শুরু থেকেই ডাঙ্গি খালের দৈর্ঘ্য, প্রাক্কলিত ব্যয় ও পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে জেলা প্রশাসন একটি যাচাই কমিটিও গঠন করেছিল।
অন্য অসম্পূর্ণ প্রকল্পটি হলো পরশুরাম উপজেলার বক্সমাহমুদের ভেদা খাল পুনর্খনন প্রকল্প। ৭৭ লাখ ২৮ হাজার ৮৪২ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ৩১ লাখ ১৯ হাজার ৭৮২ টাকা ব্যয়ে এর ৮৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট ৪৬ লাখ ৯ হাজার ৬১ টাকা কোষাগারে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রকল্প ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের মতামত
জেলা প্রশাসন বাকি পাঁচটি প্রকল্পের শতভাগ বাস্তবায়ন দাবি করেছে। এগুলো হলো, ফেনী সদরের দাউদপুর-মধুৗাই ও মোহাম্মদ আলী খাল, ফুলগাজীর গতিয়া খাল এবং দাগনভূঞার বিরলী ও সিলোনীয়া বাজার-নেওয়াজপুর খাল। শতভাগ কাজ শেষ হওয়ার পরও এসব প্রকল্পে বরাদ্দের চেয়ে কম খরচ হওয়ায় বিপুল পরিমাণ অর্থ বেঁচে যায়।
অর্থবছর শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে নিয়মানুযায়ী অব্যবহৃত অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে নতুন বরাদ্দ পাওয়া গেলে বকেয়া কাজ শেষ করা হবে।
পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতনু বড়ুয়া টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে এই মন্তব্য করেছেন। সোনাগাজী উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. এনামুল হক রাতে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
গুণগত মান বজায় রেখে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে কাজ করা হয়েছে এবং উদ্বৃত্ত টাকা বিধি অনুযায়ী ফেরত গেছে।
ফেনী সদর উপজেলার ইউএনও সুলতানা নাসরিন কান্তা এই মন্তব্য করেছেন। এ প্রসঙ্গে ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, চলতি বছরের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার বাধ্যবাধকতা ছিল। নির্ধারিত সময়ে যেটুকু কাজ সম্পন্ন হয়েছে তার হিসাব চুকিয়ে অব্যবহৃত টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। পুনর্খনন করা খালগুলো স্থানীয় জলাবদ্ধতা নিরসন ও কৃষিকাজে দীর্ঘমেয়াদি সুফল আনবে।
আবদুল্লাহ আল-মামুন/কেজে/জেআইএম
