টিকে থাকার লড়াইয়ে ধুঁকছে বাঁশশিল্পের কারিগররা
Bangladailypost.com – ট ক থ ক র লড় ইয় – পাড়াতে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে বাঁশ কাটার শব্দ। উঠানে বসে এক বৃদ্ধ বাঁশ কেটে ফালি করছেন। পাশে নারীরা হাতে-কলমে বুনছেন কুলা। কোথাও ঝুড়ি তৈরি হচ্ছে, আবার কোথাও মুরগির খাঁচা। ঘরের বারান্দা, গাছের ছায়া—সব জায়গাতেই চলছে এই কর্মকাণ্ড। পুরো এলাকাটা যেন একটা বড় কর্মশালা। কিন্তু এই ব্যস্ততার পেছনে লুকিয়ে আছে টিকে থাকার লড়াই।
কুমিল্লার তিতাস উপজেলার বড় মাছিমপুর দক্ষিণ নমপাড়ার এই বাঁশ-বেত শিল্পের কারিগরদের কথা বলছি। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তারা বাঁশের কুটির শিল্পে জীবন গড়ে তুলেছে। কুলা, ঝুড়ি, খাঁচাসহ নানান দৈনন্দিন পণ্য তৈরি করে আসছেন তারা। একসময় গ্রামীণ জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল এই পণ্যগুলো। কিন্তু সস্তা প্লাস্টিকের পণ্যের আগ্রাসনে এখন ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প অস্তিত্বের সংকটে।
কারিগরদের কষ্টের কথা
উপজেলার ওই পাড়ায় প্রায় ৩৫টি পরিবার এখনো এই শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও উৎপাদনকাজে সমানভাবে যুক্ত। সম্প্রতি ওই এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কেউ বাঁশ কাটছেন, কেউ ফালি তৈরি করছেন, কেউ বুনছেন কুলা বা ঝুড়ি। আবার কেউ তৈরি করছেন খাঁচা। বছরের পর বছরের দক্ষতা ও শ্রমে তৈরি হচ্ছে প্রতিটি পণ্য। কিন্তু সেই শ্রমের ন্যায্য মূল্য মিলছে না বলে জানান কারিগররা।
কারিগর নিখিল নমো সূত্রধর জানান, প্রায় ত্রিশ বছর ধরে এই কাজ করছেন। তার বাবা-দাদারাও একই পেশায় ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই লেখাপড়ার বদলে এই কাজ শিখেছেন তিনি। এখন এই কাজ ছাড়া আর কিছু পারেন না।
মাছিমপুর বাজার কিংবা গাজীপুর বাজার থেকে বাঁশ কিনতে হয়। একটি ভালো বাঁশ কিনতে ৪০০-৫০০ টাকা খরচ হয়। একটি ভালো বাঁশ দিয়ে পাঁচ দিনে ১৫-২০টি কুলা তৈরি করা যায়। এই আয় দিয়েই পুরো সংসার চালাতে হয়। কিন্তু পরিশ্রমের তুলনায় আয় খুবই কম।
নিখিল নমো সূত্রধর আরও বলেন, তাদের ছেলেমেয়েরা আর এই কাজ করতে চায় না। তারা বিদেশে যেতে চায়, অন্য পেশায় যেতে চায়। সারাদিন পরিশ্রম করেও এই পেশায় ভালোভাবে সংসার চালানো যায় না। এভাবে চলতে থাকলে একদিন হয়তো এই শিল্পই হারিয়ে যাবে।
নারী কারিগরদের সংগ্রাম
নারী কারিগর লঞ্চরানি নম, নমিতা, অমিল্য ও নারায়ণ জানান, ভালো বাঁশ আনতে মুরাদনগর কিংবা ঘাড়মুড়া যেতে হয়। আগের তুলনায় বাঁশের দাম অনেক বেড়েছে। তারা মূলত হাঁস-মুরগির খাঁচা তৈরি করেন। স্বামী-স্ত্রী মিলে সপ্তাহে ১৫টির মতো খাঁচা বানাতে পারেন। এই কাজের বড় অংশই নারীরা করে থাকেন। কিন্তু সেই শ্রমের মূল্য পান না।
কারিগর মিলন, কনিকা, মিনা ও নিখিল নম সূত্রধর বলেন, অভাবের কারণেই এই পেশায় আছেন। অন্য সুযোগ থাকলে হয়তো এই কাজ করতাম না। সরকারিভাবে কোনো প্রণোদনা, সহজ শর্তে ঋণ কিংবা প্রশিক্ষণ পান না। অনেকেই ঋণ করে ব্যবসা চালাচ্ছেন। সরকার যদি তাদের পাশে দাঁড়াত, তাহলে নতুন প্রজন্মও হয়তো এই শিল্পে আগ্রহী হতো।
ব্যবসায়ী ও সরকারি কর্তৃপক্ষের মতামত
কারিগরদের মতে, বাঁশের দাম কয়েকগুণ বেড়েছে কিন্তু পণ্যের দাম সেই অনুপাতে বাড়েনি। অন্যদিকে কম দামের প্লাস্টিকের পণ্যের দাপটে বাঁশের তৈরি সামগ্রীর চাহিদাও কমছে।
বাঁশ-বেত শিল্পের খুচরা ব্যবসায়ী রিপন মিয়া জানান, এই পাড়ার প্রায় ৩৫টি পরিবার এই কাজের ওপর নির্ভরশীল। তিনি এখান থেকে একটি হাঁস-মুরগির খাঁচা ১৮০ টাকায় কিনে বিভিন্ন বাজারে ২০০ টাকায় বিক্রি করেন। পণ্যের মান ভালো। বাজার আরও বড় হলে কারিগররাও ভালো দাম পেতেন।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) কুমিল্লার উপমহাব্যবস্থাপক মো. মুনতাসীর মামুন বলেন, তিতাসে এ ধরনের শিল্প রয়েছে, সেটা তাদের জানা আছে। কিন্তু অনেক কারিগর নিবন্ধন না করায় তারা বিসিকের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। উপজেলা পর্যায়ে তাদের আলাদা কর্মকর্তা না থাকায় নিয়মিত তদারকি করা কঠিন। তবে তারা নিবন্ধন করলে আর্থিক সহায়তা, কারিগরি প্রশিক্ষণ, আধুনিক নকশা উন্নয়ন, বিপণন সুবিধা এবং মেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।
তিনি আরও বলেন, কেউ বিদেশে পণ্য রপ্তানি করতে চাইলে বিসিক সেই ক্ষেত্রেও সহযোগিতা করবে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
বাঁশশিল্পের কারিগররা কীভাবে টিকে থাকার লড়াই করছেন? কারিগররা বাঁশ কাটা, ফালি তৈরি, কুলা ও ঝুড়ি বোনা, খাঁচা তৈরি সহ নানান কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন। কিন্তু বাঁশের দাম বাড়ার পাশাপাশি প্লাস্টিকের সস্তা পণ্যের প্রতিযোগিতায় তাদের সংগ্রাম চলছে।
বিসিক থেকে কারিগররা কী সুবিধা পান? নিবন্ধনকৃত কারিগররা আর্থিক সহায়তা, কারিগরি প্রশিক্ষণ, আধুনিক নকশা উন্নয়ন, বিপণন সুবিধা এবং মেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান। কেউ বিদেশে পণ্য রপ্তানি করতে চাইলে বিসিক সেই ক্ষেত্রেও সহযোগিতা করে।
কোনো বাঁশশিল্পের কারিগররা বিদেশে পণ্য রপ্তানি করতে পারেন? হ্যাঁ, বিসিক কারিগরদের বিদেশে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রেও সহযোগিতা করে। তবে এর জন্য কারিগরদের নিবন্ধন করা প্রয়োজন।
বাঁশশিল্পের ভবিষ্যৎ কীভাবে? কারিগররা মনে করেন, সরকারি প্রণোদনা, সহজ শর্তে ঋণ এবং প্রশিক্ষণ পেলে নতুন প্রজন্মও এই শিল্পে আগ্রহী হবে। এতে করে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প টিকে থাকতে পারবে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ট ক থ ক র লড় ইয়?
ট ক থ ক র লড় ইয় is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ট ক থ ক র লড় ইয় matter?
ট ক থ ক র লড় ইয় matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.