Country

জেলি পুশ করা ১০৫ কেজি চিংড়ি জব্দ, ৩ আড়তকে জরিমানা

og_1789033290_6aa27b4a0eb33

ফেনীর মৎস্য আড়তে জেলিযুক্ত ১০৫ কেজি চিংড়ি ধ্বংস, তিন প্রতিষ্ঠানে জরিমানা

Bangladailypost.com – জ ল প শ কর ১০৫ ক – ফেনী পৌর এলাকার মৎস্য আড়তে ক্ষতিকর জেলি প্রয়োগ করে চিংড়ির ওজন বাড়ানোর অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়েছে। অভিযানে তিনটি আড়ত থেকে মোট ১০৫ কেজি গলদা ও বাগদা চিংড়ি জব্দ করা হয়। পরে জনসমক্ষে মাটিতে পুঁতে এসব চিংড়ি ধ্বংস করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে ফেনী সদর উপজেলা প্রশাসন এবং সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান হয়। ফেনী সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা আক্তার এ কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

ওজন বাড়ানো ও গ্রেড পরিবর্তনের প্রমাণ

মৎস্য ও মৎস্যপণ্য (পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০২০ কার্যকরের অংশ হিসেবে পৌর মৎস্য আড়তগুলোতে তদারকি করা হয়। এ সময় তিনটি প্রতিষ্ঠানে চিংড়ির ভেতরে জেলি ঢুকিয়ে কৃত্রিমভাবে ওজন বৃদ্ধি এবং পণ্যের গ্রেড বদলের আলামত পাওয়া যায়।

চিংড়ি বিক্রির ক্ষেত্রে ওজন ও মান ক্রেতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কৃত্রিম উপায়ে ওজন বাড়ানো হলে পণ্যের প্রকৃত অবস্থা আড়াল হয়ে যায় এবং ক্রেতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। একইভাবে গ্রেড পরিবর্তনের মাধ্যমে চিংড়িকে তার বাস্তব মানের চেয়ে উন্নত দেখানোর সুযোগ থাকে।

অভিযানে আইনটির ৩১ ধারা ভঙ্গের দায়ে বেলাল ফিশিংকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৫৬ কেজি জেলিযুক্ত চিংড়ি জব্দ করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের সদস্যরা।

আল্লাহর দান ফিশিংকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ওই আড়ত থেকে উদ্ধার করা হয় ২৪ কেজি চিংড়ি। একই অপরাধে এরফান ফিশিংকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং সেখান থেকে ২৫ কেজি চিংড়ি জব্দ করা হয়।

তিন আড়ত থেকে জব্দ করা চিংড়ির পরিমাণ দাঁড়ায় ১০৫ কেজি। এর মধ্যে গলদা ও বাগদা—দুই ধরনের চিংড়িই ছিল। জব্দের পর সেগুলো মাটিতে পুঁতে নষ্ট করা হয়, যাতে তা আবার বাজারে ফেরত যেতে না পারে।

মোট ৯০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড

বেলাল ফিশিং, আল্লাহর দান ফিশিং ও এরফান ফিশিং—এই তিন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নেওয়া আর্থিক ব্যবস্থার মোট পরিমাণ ৯০ হাজার টাকা। জেলি প্রয়োগের পাশাপাশি চিংড়ির মানের শ্রেণি কৃত্রিমভাবে বদলের অভিযোগও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

খাদ্যপণ্যে অননুমোদিত বা ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহারের বিষয়টি শুধু ব্যবসায়িক অনিয়ম নয়, জনস্বাস্থ্যের সঙ্গেও সম্পর্কিত। তাই অভিযানের সময় উপস্থিত ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে কেমিক্যালযুক্ত মাছ ও চিংড়ি খাওয়ার সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করা হয়।

মৎস্য কর্মকর্তারা ব্যবসায়ীদের কাছে পরিষ্কারভাবে জানান, ওজন বাড়ানো বা পণ্যের প্রকৃত গ্রেড গোপন করার মতো অসাধু পদ্ধতি থেকে সরে আসতে হবে। বাজারে নিরাপদ ও মানসম্মত মাছ নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ী, প্রশাসন এবং ভোক্তা—সবার সচেতন ভূমিকা জরুরি।

জনস্বার্থে অভিযান চলবে

জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ফেনী সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা আক্তার এ কথা বলেন। তিনি জানান, ভোক্তার স্বার্থ রক্ষা এবং বাজারে মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ ধরনের তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে।

অভিযানে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মিরাজুল ইসলাম, পরশুরাম উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৈয়দ মোস্তফা জামান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

চিংড়ি দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ মৎস্যপণ্য হওয়ায় এর মান রক্ষা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। বাজারে পণ্য কেনার সময় ক্রেতাদেরও সতর্ক থাকা দরকার, বিশেষ করে অস্বাভাবিকভাবে ভারী, পরিবর্তিত রং বা সন্দেহজনক অবস্থার চিংড়ি দেখলে বিক্রেতার কাছে তথ্য জানতে চাওয়া যেতে পারে। তবে কোনো পণ্যের মান নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকিই সবচেয়ে কার্যকর ব্যবস্থা।

ফেনীর এ অভিযানের মাধ্যমে আড়ত পর্যায়ে চিংড়ির মান, ওজন এবং বিক্রির স্বচ্ছতা নিয়ে আবারও গুরুত্ব সামনে এসেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া সতর্কবার্তা হলো—ভোক্তাদের ক্ষতি করে এমন পদ্ধতি ব্যবহার করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Frequently Asked Questions

What is জ ল প শ কর ১০৫ ক?

জ ল প শ কর ১০৫ ক is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does জ ল প শ কর ১০৫ ক matter?

জ ল প শ কর ১০৫ ক matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *