কাউন্সিলর একরাম হত্যা মামলায় নতুন মোড়
Bangladailypost.com – ক উন স লর একর ম হত – দীর্ঘ ৮ বছর পর কাউন্সিলর একরাম হত্যা মামলা আদালতে উঠেছে। টেকনাফের সাবেক কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন রোববার (২৬ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়েছে। এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যু করেছে আদালত। কাউন্সিলর একরামের স্ত্রী আয়েশা খানম জানান, এবার খুনিদের বিচারের অপেক্ষা।
বিচারের আশায় পরিবার
প্রতিবেদন দাখিলের পর আয়েশা খানম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘দীর্ঘ ৮ বছর পর যখন মামলা আদালতে উঠেছে, এবার খুনিদের বিচারের অপেক্ষা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির কাছে বিনীত অনুরোধ, আমার নিরীহ স্বামীকে যারা নৃশংসভাবে খুন করেছেন, তাদের বিচার যেন জনসম্মুখে হয়। কাউন্সিলর একরামের হত্যাকাণ্ডের বিচারে তিনি আশাবাদী।
ফিল্মের মতো, ফোনের একপ্রান্তে বাবাকে গুলির শব্দ শোনার পর মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে গোঙানোর আওয়াজ শোনা কতটা বেদনার তা কেবল ভুক্তভোগীই জানে। সেই ট্রমা নিয়ে বাবা হত্যার বিচারের অপেক্ষা আছে আমাদের দুই মেয়ে।
২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে কক্সবাজারের টেকনাফের মেরিন ড্রাইভ রোডের নোয়াখালীপাড়া এলাকায় র্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন তিনবারের কাউন্সিলর একরামুল হক। ওই ঘটনার পর ‘ঠান্ডা মাথায়’ একরামুলকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তার স্ত্রী। কাউন্সিলর একরামের হত্যাকাণ্ডের সময় রেকর্ডকৃত কিছু অডিও ক্লিপ গণমাধ্যমকর্মীদের দেওয়া হয়েছিল। যার মধ্যে একটি রেকর্ডে বন্দুকের ট্রিগার টানার শব্দ শোনা যায়। এরপর গুলির শব্দ ও তারপর একজন মানুষের গোঙানির আওয়াজ পাওয়া যায়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি টেকনাফের পৌর কাউন্সিলর একরামুল হককে কথিত বন্দুকযুদ্ধে মেরে ফেলার ছক কষেছিলেন। তিনি আরও জানান, এই মামলার মধ্যে প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীসহ বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্যের ভিত্তিতে শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান কামাল, ওবায়দুল কাদেরসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। কাউন্সিলর একরাম ছিলেন বদির প্রতিপক্ষ এবং হত্যার পর তার সম্পত্তি আত্মসাৎ করা হয়েছিল।
একরাম হত্যা মামলার অন্য আসামিরা হলেন, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, অবসরপ্রাপ্ত মেজর রুহুল আমিন, সাবেক ডিজিএফআই কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুস সাকিব ও লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশেকুর রহমান। ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আদালত পলাতক আট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। কাউন্সিলর একরাম হত্যা মামলার পরবর্তী কার্যক্রম আগামী ২৫/৮/২৬ তারিখে নির্ধারিত হয়েছে।
