Campus

ববি শিক্ষার্থীদের মানসিক সংকট বাড়লেও নেই সেবার ব্যবস্থা

বব শ ক ষ র থ দ - বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বব শ ক ষ র থ দ) ক্যাম্পাসে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। গত ছয় বছরে

Desk Campus
Published July 30, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments
Foto : Sandra Rodriguez - bangladailypost.com

বব শ ক ষ র থ দ: মানসিক সংকটে শিক্ষার্থীরা, সেবার অভাব

Bangladailypost.com – বব শ ক ষ র থ দ – বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বব শ ক ষ র থ দ) ক্যাম্পাসে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। গত ছয় বছরে আটজন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন এবং অন্তত ১৬ জন আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। এই পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে যে, বব শ ক ষ র থ দ-এ শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে এই সংকটের মধ্যেও শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত সেবার ব্যবস্থা নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ, পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সংকট, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা। ২০২৪ সালে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি কাউন্সেলিং অ্যান্ড গাইডেন্স সেন্টার চালু করা হলেও সেখানে এখন পর্যন্ত স্থায়ী জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফলে শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় ও নিয়মিত মানসিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। স্থায়ী মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগের জন্য ইউজিসিতে চিঠি পাঠানো হয়েছে। — অধ্যাপক ড. মামুন অর রশীদ, উপাচার্য, বব শ ক ষ র থ দ

সাম্প্রতিক ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গণিত বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থী নগরীর একটি বাসা থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হন। এর আগে ২০২৪ সালের ৮ জানুয়ারি বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী শুভ বৈরাগী আত্মহত্যা করেন। একই বছর পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অপর্ণা দাস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বৃষ্টি সরকার, স্নাতকোত্তরের দেবশ্রী রায় এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শেফা নূর আত্মহত্যা করেন। ২০২৩ সালেও দুই শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেন।

শিক্ষার্থীদের মতামত ও দাবি

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, ব্যক্তিগত বা মানসিক সংকটে পড়লেও অনেকেই কোথায় সহায়তা পাবেন, তা জানেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সমাজবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা, ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা, পারিবারিক চাপ, সব মিলিয়ে অনেক শিক্ষার্থী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। কিন্তু এসব নিয়ে খোলামেলা কথা বলার মতো নিরাপদ পরিবেশ খুব একটা নেই। ইংরেজি বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, অনেক সময় বন্ধুরাই বুঝতে পারে কেউ মানসিকভাবে ভালো নেই। কিন্তু কীভাবে তাকে সহযোগিতা করতে হবে, সে বিষয়ে আমাদেরও কোনো প্রশিক্ষণ বা ধারণা নেই।

শিক্ষার্থীদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা কর্মশালা, সহজে কাউন্সেলিং পাওয়ার সুযোগ, জরুরি মানসিক সহায়তা সেবা এবং বিভাগভিত্তিক পরামর্শ কার্যক্রম চালু করা হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আস্থা বাড়বে। বব শ ক ষ র থ দ-এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মামুন অর রশীদ জাগো নিউজকে বলেন, আত্মহত্যার প্রবণতা কমিয়ে আনতে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। পরিবার, সমাজ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ ও সহানুভূতিশীল পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোরও বিকল্প নেই।

Leave a Comment