ইবি শিক্ষকের পুনঃযোগদান নিয়ে প্রশ্ন: কারাবাসে থাকতে থাকতেই দায়িত্ব পালন
Bangladailypost.com – ন র ন র য তন ম – নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের আদেশে নাটোর থেকে জেল হাজতে পাঠানোর পরও সাময়িক বরখাস্ত না হয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগের সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক ড. সঞ্জয় কুমার সরকার পুনরায় দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর স্ত্রীর দাখিল করা যৌতুক ও নির্যাতনের মামলায় ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠান।
বিধিমালা লঙ্ঘন নাকি ব্যতিক্রম?
বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী দক্ষতা ও শৃঙ্খলা বিধিমালার ১৫ (ক) ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী ফৌজদারি অপরাধে গ্রেফতার হলে বা আদালতের মাধ্যমে কারাগারে গেলে আদালতের রায়ে না হওয়া পর্যন্ত তিনি সাময়িক বরখাস্ত থাকবেন। তবে ড. সঞ্জয় কুমারের ক্ষেত্রে এই নিয়মটি পালন করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
জেল হাজতে যাওয়ার আগে তিনি মৌখিকভাবে অনুষদের ডিনকে জানিয়ে বিভাগের দায়িত্ব অন্য এক শিক্ষকের হাতে তুলে দেন। পরে জামিনে মুক্তি পেয়ে তিনি পুনরায় বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন, কিন্তু এই যোগদানের বিষয়টি প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে জানাননি।
অতীতের অভিযোগ ও রাজনৈতিক প্রভাব
ড. সঞ্জয় কুমারের বিরুদ্ধে এটি প্রথম অভিযোগ নয়। ২০১৬ সালে বিভাগের এক শিক্ষার্থীর আত্মীয়কে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ গ্রহণের অভিযোগে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মামলা দায়ের হয়। ওই মামলায় এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রেকর্ডে আসে।
২০১৮ সালে এক ছাত্রী তাঁর বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতন ও যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলেন, যা তৎকালীন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। অন্যান্য শিক্ষকদের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও শাপলা ফোরামের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে রাজনৈতিক প্রভাবের কথা উল্লেখ করে তারা বলেন, অভিযোগগুলোর যথাযথ নিষ্পত্তি হয়নি।
পদোন্নতি ও আইনি অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ
ড. সঞ্জয় কুমার অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য আবেদন করেছেন। তবে পদোন্নতির আগে তাঁর সার্ভিস রেকর্ড, হাজতবাসকালীন চাকরির অবস্থা এবং পুনঃযোগদানের বৈধতা যথাযথভাবে যাচাই করা হচ্ছে কি-না, তা নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
“বিষয়টি আদালতে নিষ্পত্তি হয়েছে। আমি বিভাগে লিখিতভাবে অন্য একজনকে দায়িত্ব দিয়েছিলাম এবং তৎকালীন ডিনকেও জানিয়েছিলাম। জুলাই আন্দোলন পরবর্তী পরিস্থিতিতে উপাচার্যের পদ শূন্য ছিল এবং একজন ডিন দায়িত্বে ছিলেন। সে কারণে প্রশাসনকে আলাদাভাবে জানানো হয়নি। আমি মনে করেছিলাম, আদালতই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করবেন। মাত্র চার-পাঁচ দিন জেল-হাজতে ছিলাম এবং পরে মামলা ডিসমিস হওয়ার প্রশাসনকে আর জানানো হয়নি।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক বলেন, ড. সঞ্জয় কুমারের বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে কিংবা দাপ্তরিকভাবে তিনি অবগত নন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তা উপাচার্যের কাছে পাঠানো হয়। তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে তদন্ত কমিটি গঠন বা অন্যান্য প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরুর আগে আগাম কোনো মন্তব্য বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা সম্পর্কে কিছু বলা সম্ভব নয়। তৎকালীন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানতেন কি-না বা কোনো পদক্ষেপ নিয়েছিলেন কি-না, সে বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো নথি নেই।
একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ড. সঞ্জয় কুমার সরকার ফোন রিসিভ করেননি।
