বিপর্যয়ে দাঁড়িয়ে আরেকটি মহাকাব্য লিটনের, মানরক্ষা বাংলাদেশের
ব পর যয় দ ড় য় আর – সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শনিবার সবুজাভ উইকেটে দিনের আলো যত গড়িয়েছে, বাংলাদেশের ইনিংসও তত অদ্ভুত এক চিত্র হয়ে উঠেছে। সামনে ছিল অবিস্মরণীয় প্রতিযোগিতা, যেখানে টপ এরপর মিডল অর্ডারের প্রান্ত নিয়ে এক অপরিণত ব্যাটারের ছন্দ ভাঙতে হয়েছিল। কিন্তু সেই অবস্থায় লিটন কুমার দাস কেবল বোলারদের বিরুদ্ধে সমান প্রতিযোগিতা তৈরি করেছিলেন পুরো ইনিংসে।
লিটনের ব্যাটিং নিয়ে বহুদিন ধরে একটি অনুভূতি ছিল পরিচিত। তিনি যখন নিজের জন্য ছন্দ তৈরি করেন, ক্রিকেট তখন খেলা থাকে না, দৃশ্যশিল্পে পরিণত হয়। আজ তেমনই ছিল তার প্রতিটি ক্ষণ। তবে সেই ইনিংসে অনেক গভীরতা ছিল, কারণ এতে মিশেছিল প্রতিরোধের চাপ, দায়িত্বের বোঝা এবং একা লড়ে যাওয়ার সংকল্প।
বিপর্যয়ে সৃষ্টি
বাংলাদেশ যখন ১১৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল, তখন ম্যাচের মাঝখানে নির্মম বাস্তবতা ছিল। আর সেই মুহূর্তে লিটন ব্যাটিং করছিলেন প্রশান্ত আগ্রহে যেন বিশৃঙ্খলার মধ্যে এক ছন্দ তৈরি করে নিয়েছিলেন।
রমিজ রাজা কমেন্ট্রিতে বলছিলেন, অন্তত ৩০ রান লিটন নেননি শুধুমাত্র স্ট্রাইক ধরে রাখার জন্য।
তার প্রতিটি সিদ্ধান্ত ছিল আত্মত্যাগের চিহ্ন। কারণ প্রতিটি সিঙ্গেল ফিরিয়ে দেওয়া মানে একটি রান কমে যাওয়া, আবার পরের বলে নতুন ঝুঁকি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়। ফলে লিটনকে ওভারের চার বা পাঁচ নম্বর বলেও অস্বাভাবিক শট খেলতে হয়েছিল স্ট্রাইক নিজের কাছে রাখার জন্য। এতে তার আউট হওয়ার ঝুঁকি বেড়েছিল।
আজকের ইনিংসে বাউন্সারের বিরুদ্ধে লিটনের স্ট্রাইক রেট ছিল ১৫০। বাংলাদেশের বাকি ব্যাটারদের সম্মিলিত স্ট্রাইক রেট সেখানে মাত্র ৬.৩। এই পরিসংখ্যান ক্রিকেটে একটি বিশেষ চিহ্ন ছিল। লিটন নিয়মিত সিঙ্গেল ফিরিয়ে দিয়েছিলেন বলের গতি বুঝে সেগুলোর বিরুদ্ধে নিজস্ব ছন্দ তৈরি করার বিরল ক্ষমতা।
৮৭ থেকে ৯১-এ যাওয়ার সময় সেই সুইপ শটটি ডিপ মিডউইকেট আর কাউ কর্নারের মাঝখান চিরে যাওয়া। সেটি ছিল নিখুঁত ব্যালেন্স, টাইমিং আর কব্জির শিল্পের এক অসাধারণ উদাহরণ। তিনি সেই বাস্তবতার ভেতর দাঁড়িয়েও নিজের ব্যাটিংয়ের শিল্পচেতনা বিসর্জন দেননি।
ব্যাটিংয়ের সূক্ষ্ণতা যারা বোঝেন, তারা জানেন এমন শট কতটা কঠিন। এই ইনিংসে সব