কুড়িগ্রামে ইঁদুরে কাটা-মেয়াদোত্তীর্ণ ত্রাণ বিতরণের অভিযোগ
ক ড় গ র ম ই দ – তিস্তা নদীতে উজান থেকে ঢল পড়া এবং স্থায়ী বৃষ্টিতে কুড়িগ্রামে জলপ্লাবনের আশঙ্কা চারপাশে ছড়িয়েছে। এ পরিস্থিতিতে রাজারহাট উপজেলার চর খিতাবখা এলাকায় বন্যার্ত মানুষের জন্য ইঁদুরে কাটা ও মেয়াদোত্তীর্ণ চাল, ডাল, লবণ এবং মসলা বিতরণের অভিযোগ শোনা গেছে। বিতরণ কার্যক্রম উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্বে সংঘটিত হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের চর খিতাবখা এলাকায় খাদ্য পণ্যগুলি বিতরণের সময় কয়েকটি প্যাকেট ছিঁড়ে গেছে। এগুলো খুলে দেখা গেল, চাল, ডাল, লবণ ও মসলার প্যাকেট ইঁদুরে কাটা। দাবি রয়েছে, এগুলো গত বছরের বন্যার পর বাকি থাকা খাদ্য এবং এ বছরের বন্যার জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান মিয়া বলেন, এটি একটি অনিচ্ছাকৃত ভুল হয়েছে। তিনি অবশ্য সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, উজানের ঢল এবং বৃষ্টির কারণে জেলার নদ-নদীগুলির পানি প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তা নদীতে কাউনিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। দুধকুমার নদীতে পাটেশ্বরী পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ২৬ সেন্টিমিটার উপরে বইছে।
ধরলা নদীতে কুড়িগ্রাম পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৩৮ সেন্টিমিটার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্র নদীতে নুনখাওয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৭০ সেন্টিমিটার ও চিলমারী পয়েন্টে ৬১ সেন্টিমিটার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে।
পানি বৃদ্ধির ফলে রাজারহাট উপজেলার গতিয়াশাম, ঢুষমারা, গনাই, হায়াত খা, রামহরি এবং গাবুর হেলান চরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। উলিপুর উপজেলার গোড়াইপিয়া এবং জুয়ানসতরা চরের স্থানীয়দের আশঙ্কা রয়েছে যে উজান থেকে পানি আরও বাড়তে থাকলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে জেলার বন্যা পরিস্থিতি আরও দুর্বল হতে পারে।