থানায় স্বেচ্ছাসেবকদল নেতাকে মারধর, কর্মকর্তাসহ ১১ পুলিশ বরখাস্ত
থ ন য় স ব চ ছ – রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানায় স্বেচ্ছাসেবক দলের একজন নেতাকে অপরাধ করার ঘটনায় গুনিয়ে মারধর করা হয়েছে। সেই ঘটনার প্রতিবাদে সাময়িক বরখাস্তের দিনে রাকিবুল ইসলাম রাকিব রক্তাক্ত হয়ে থানায় উপস্থিত হন। পুলিশ লাইনে তাঁর বরখাস্ত ঘোষণা করা হয়েছে যার জন্য সাত কর্মকর্তার সাথে এগারো পুলিশ সদস্যকে সাময়িকভাবে বরখাস্তের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
১১ জুন রাতে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমান সই করা একটি পত্রে বলেন, গত ৩ জুন ঘটে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তদন্ন করার জন্য তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি সংশ্লিষ্ট সকল নথি, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং আহত ব্যক্তির বক্তব্য পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন জমা দেয়।
তদন্ন প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে যে, ওসি আজাদ রহমানের নেতৃত্বে কয়েকজন পুলিশ সদস্য স্বেচ্ছাসেবকদলের নেতাকে মারধর করেন। তিনি এ সংক্রান্ত অভিযোগ প্রকাশ করেন যার ফলে ওই দিন রাত ১১টার দিকে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
গেটের ভেতর থেকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রাকিবুল ইসলাম। তখন তার শরীরে রক্তের দাগ ও আঘাতে একটি চোখ ফুলে থাকতে দেখা যায়।
অভিযোগের প্রতিবাদে প্রথমে ছয়জন পুলিশ সদস্য পুলিশ লাইনে নেওয়া হয়। পরে ওসি আজাদ রহমানকে খুলনা রেঞ্জে বদলি করা হয়। প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটনের জন্য অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার নরেশ চাকমাকে সভাপতি করে তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়।
আহত রাকিব এবং প্রেমিক যুগলের চিৎকার করা হয় যে, পুলিশ তাদেরকে বেধড়ক মারধর করেছে। পরিবারের অনুরোধে বিষয়টি মীমাংসা করতে স্বেচ্ছাসেবকদলের কয়েকজন নেতা থানায় উপস্থিত হন। এ সময় লাভলু নামে এক নেতার ডাকে রাকিবুল ইসলাম রাকিব থানায় যান। তিনি দেখেন যে একজন পুলিশ সদস্য ওই যুগলকে মারধর করছেন। তিনি আপত্তি জানালে ওসি ও কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাকে মারধর করেন।
এ ঘটনার পর বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা থানার সামনে জড়ো হন। একপর্যায়ে কলাপসিবল গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। তদন্ন কমিটির আলোকে ঘটনাটি বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে এবং অভিযোগসমূহ সত্য প্রমাণিত হয়। সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে যার ফলে পুলিশ লাইনে তারা সংযুক্ত থাকবেন এবং বিধি মোতাবেক খোরপোষ ভাতাদি প্রাপ্য হবেন।