সরকার কর-জিডিপি অনুপাত ৯.৬ শতাংশে উন্নীত করতে চায়
কর জ ড প অন প ত – ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট প্রস্তুত করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং রাজস্ব আহরণের বৃদ্ধি প্রথম প্রাধান্য প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের অর্থনীতি আমদানিনির্ভর হওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে টাকার ব্যাপক অবচয় এবং উচ্চ বিনিময় হার মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেহেতু স্থিতিশীল মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থা বজায় রাখতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির সংগতিপূর্ণ সমন্বয় করা হবে। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে বাজারে অর্থ সরবরাহ পরিচালনা করা হবে। তবে এ প্রক্রিয়ায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে না বলে সে দিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্যের মধ্যে একটি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এজন্য রাজস্ব ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। রাজস্ব নীতি প্রণয়ন ও ব্যবস্থাপনা পৃথক করে কর বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে করনীতি নির্ধারণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, কর ব্যবস্থাপনাকে সম্পূর্ণ অটোমেশনের আওতায় এনে রাজস্ব ফাঁকি রোধ করা হবে। এছাড়াও করদাতাদের হয়রানি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে যাতে কর ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পায়।
বাজেট বক্তৃতায় তিনি আরও জানান, দেশের বর্তমান কর-জিডিপি অনুপাত ৬.৮ শতাংশ। সরকার এই অনুপাতটিকে ২০৩০-৩১ অর্থবছরের মধ্যে ৯.৬ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। একই সময়ে রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত বর্তমান ৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১১ শতাংশে নেওয়া হবে।