টিকিট না পেয়ে ট্রাকে ঈদযাত্রা, মাঝপথে নামিয়ে দিল বিআরটিএ
বাড়ির পথে পরিবহনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রাকে উঠেছিলেন যাত্রীরা
ট ক ট ন প য় ট – বাসে টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না। তাই এক বিশেষ অভিযানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রাকে যাত্রী পরিবহন করছে মানুষ। মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বগুড়ার বনানী এলাকায় বিআরটিএ একটি সংকট সৃষ্টি করে। মহাসড়কে যানচলাচল নির্বিঘ্ন রাখার জন্য সরকারের প্রতি বিশেষ নির্দেশনা পালন করতে হবে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চলে যাওয়া বাসগুলি বনানী এলাকায় ঢুকে পড়ে। সেখানে অবৈধভাবে যাত্রী বহনকারী যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি করা হয়। অভিযানের ফলে মাঝপথে অন্তত ২০০-৩০০ যাত্রী ট্রাক থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। বাড়ির পথ ধরে ঈদের প্রতিক্ষা করছেন পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু বাস টিকিট না পাওয়ায় মহাসড়কে ট্রাকে অবিশ্বাসযোগ্য সুবিধা হচ্ছে।
গত দুই দিন ধরে বাসে টিকিট পাচ্ছি না। সিট তো দূরের কথা, বাসে দাঁড়িয়ে আসার মতো পরিস্থিতিও নেই। বাড়িতে মা-বাবা, স্ত্রী ও সন্তানদের ঈদ করতে হবে। জীবনের ঝুঁকি আছে জেনেও ট্রাকে উঠেছিলাম। কিন্তু মাঝপথে আমাদের আটকে নামিয়ে দেওয়া হলো। এখন হেঁটে যাওয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই।
গাবতলী থেকে ট্রাকে ওঠার সময় কেন প্রশাসন বাধা দেয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জিসান। যাত্রী ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, ‘ম্যাজিস্ট্রেট ও প্রশাসনের লোকজন আমাদের ট্রাক থেকে নামিয়ে দেওয়ার পর ট্রাকটি চলে গেছে। এখন আমরা কীভাবে গন্তব্যে যাব?’
বিআরটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অরূপ কুমার দাস বলেন, ‘ঈদুল আজহা উপলক্ষে মহাসড়কে যানচলাচল নির্বিঘ্ন ও ভোগান্তিমুক্ত রাখার জন্য সরকার দেশব্যাপী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করেছে। যমুনা সড়কে সাম্প্রতিক ট্রাক দুর্ঘটনায় ১৫ জন নিহত হওয়ার পর আমাদের প্রতি বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে।’
নিয়ম অমান্যকারী ট্রাকচালকদের জরিমানার আওতায় আনা হচ্ছে। জরুরি সেবা ও কাঁচামাল পরিবহন করে না ট্রাক ব্যবহার করলে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়। তাই যাত্রীদের সুরক্ষায় তাদের নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। এই অভিযান আগামী ৬ জুন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।