শাহ আলী মাজারে হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন-বিক্ষোভ
শ হ আল ম জ র হ – শুক্রবার (২২ মে) বাদ জুমা আরামবাগে রহমত দেওয়ানবাগ শরিফের সামনে একটি সমাবেশে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ ঘটিয়েছেন সমাজটি। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মাজার-দরবার ও সুফিপন্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া তাদের দুঃখজনক বলে দাবি করা হয়। আল্লাহর অলিদের মাধ্যমে ইসলাম এই দেশে প্রবেশ করেছে বলে উল্লেখ করা হয়। যেখানে মাজার-দরবারে হামলা করা হয়, সেটি ইসলামের ওপর আঘাত হিসেবে গণ্য করা হয়।
মাজারকে কেন্দ্র করে অসাধু শ্রেণির অসামাজিক কার্যকলাপের নিন্দা জানানো হয়। সমাজের সবাই ধর্ম পালনে সমান অধিকার রাখে বলে বক্তারা তুলে ধরেন। সেই সাথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানানো হয়।
শাহ আলী মাজারে হামলা ঘটানো হয়েছিল গত ১৪ মে রাতে সাপ্তাহিক জলসার সময়। সেই বিষয়ে বক্তব্য দেন দেওয়ানবাগ শরিফের সমন্বয়ক ও মোহাম্মদী ইসলামের নেতৃত্বদানকারী ইমাম অধ্যাপক ড. কুদরত এ খোদা বলেন, ‘এই দেশ শুধু ওয়াহাবিদের হবে না, আবার শুধু সুন্নিদের হবে না। সমাজবিরোধী কোনো কার্যক্রম করা হলে সেটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে আলোচনা করা হয়।’
আউলিয়াদের মাজার ও সুফিপন্থীদের ওপর হামলা আশেকে রাসুলরা নীরবে মেনে নেবেন না বলে তিনি আরও উল্লেখ করেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, ‘প্রতিটি অলি-আল্লাহর মাজার আমরা দেওয়ানবাগ শরিফ পাহারা দেবো। আপনারা আর কোনো অলির মাজারে হামলা করার দুঃসাহস দেখাবেন না।’
বিশ্ব সুফি সংস্থার কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য আফতাব আলম জিলানী বলেন, ‘দুশ্চরিত্রবানদের হাতে আমরা শান্তিপ্রিয় সুফিরা আর নির্যাতিত হবো না। হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর শিক্ষা নিয়ে আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুলবো।’
সহযোগী অধ্যাপক ড. নাসির উদ্দিন সোহেল বলেন, ‘তোমরা মাজার ভাঙতে পারবে, কিন্তু অলি-আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা আমাদের হৃদয় থেকে মুছতে পারবে না।’
আরও বক্তব্য দেন দেওয়ানবাগ শরিফের সহকারী মুখপাত্র মো. জহিরুল আলম, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহ শিবলী নোমান ও ইসলামি বক্তা মাওলানা সাব্বির আহমাদ ওসমানী। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে এ পর্যন্ত সারাদেশে শতাধিক মাজার-দরবারে হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।