বিচারহীনতার অন্ধকারে শিশু রামিসারার হত্যার ঘটনা
ব চ রহ নত র অন ধক – বিচারহীনতার অন্ধকারে বাংলাদেশের সামাজিক নিরাপত্তার বৈপরীত্য প্রকাশ পেয়েছে শিশু রামিসারার হত্যা ঘটনার মাধ্যমে। শিশুটি তার স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুর পর অবশেষে খুঁজে পাওয়া গেল মিরপুর–১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি ফ্ল্যাটের সারির সামনে। বাসার দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল, কিন্তু ধাক্কাধাক্কির পর তার মৃত দেহ উদ্ধার করা হয়। শিশুটির মাথা শৌচাগারে পাওয়া গেল বিচ্ছিন্ন অবস্থায়, অবশিষ্ট শরীর খাটের নিচে ছিল।
অপরাধীর বিচার না হওয়ার আশঙ্কা
শিশু রামিসারার মৃত্যুর পর গণমাধ্যমগুলোতে বিচারহীনতার ওপর ভিত্তি করে এক সামাজিক চিন্তা উঠে এল। সোহেল রানা গ্রিল কেটে পালিয়েছিলেন ফ্ল্যাটের জুতার পাটি থেকে, কিন্তু তার গ্রেফতার হয় ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বুধবার (২০ মে)। বিচার ব্যবস্থার প্রতি অবিশ্বাস দেখায় শিশু রামিসারার ঘটনা।
‘আমি বিচার চাই না, আপনারা বিচার করতে পারবেন না’—এই কথা শিশু রামিসারার ঘটনার মাধ্যমে সর্বসাধারণের সামনে অনাস্থার প্রতিশ্রুতি হিসেবে প্রকাশ পেয়েছে। এটি বিচারহীনতার সর্বোচ্চ চিহ্ন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
শিশু রামিসারার মৃত্যুতে সামাজিক সংস্কৃতি এবং রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতার মূল ভিত্তি ভেঙে পড়ছে। ধর্ষণ ও নির্যাতনে বিচ্ছিন্ন জীবন হারাচ্ছে প্রতি বছর হাজার হাজার শিশু। অনেক ক্ষেত্রে অপরাধী রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রভাবে বিচারের দীর্ঘসূত্রতা অনুধাবন করে যায়। বিচারহীনতার অন্ধকারে শিশুদের দুর্বলতা বৃদ্ধি পেয়েছে গত কয়েক বছরে।
মামলা কতগুলো হারিয়েছে বিচারহীনতার আঁকাচাপার মধ্যে
পূর্বে সুনামগঞ্জে শিশু তুহিন হত্যার ঘটনা রাষ্ট্রীয় আত্মসমালোচনা ঘটিয়েছিল। বিচারহীনতার অন্ধকারে তার পরিবারের বিষণ্ণতা অনেক দিন ধরে চালু ছিল। সেখানে শিশুটিকে হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তার বিচার সম্পূর্ণ করা হয়নি।
সামাজিক অনৈক্য ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার দুর্বলতা বিচারহীনতার অন্ধকারে বিশেষ ভাবে প্রকাশ পেয়েছে। বাসার ভিতর থেকে উদ্ধার করা শিশু রামিসারার মৃত দেহ অবিশ্বাসের প্রতীক