জুলাই যোদ্ধা হিসেবে নিজেকে দাবি করছেন হিরো আলম, মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে হুমকি
Bangladailypost.com – আম ন জ ই জ ল ই – জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মোট ২৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এই তালিকায় সাংস্কৃতিক ও সাংবাদিক মহল থেকে বেশ কয়েকজন নাম রয়েছে। এছাড়াও কনটেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল আলম, যিনি হিরো আলম নামে পরিচিত, তিনিও এই তালিকায় আছেন।
এই অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম (এসডিএফ) নামক একটি সামাজিক ও নাগরিক সংগঠন। রোববার, ২৬ জুলাই দুপুরে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কাছে এই অভিযোগপত্র জমা দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াস।
মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ
নিজের বিরুদ্ধে উত্থাপিত এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেছেন হিরো আলম। তিনি সোমবার, ২৭ জুলাই দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন,
মিথ্যা মামলা দিয়ে হিরো আলমকে দমানো যাবে না। সাক্ষ্য-প্রমাণে অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে আমিও অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেব।
হিরো আলম আরও জানান,
আমি সারা জীবন আওয়ামী লীগের এমপি-মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কথা বলেছি। এর জন্য বহুবার হামলার শিকার হয়েছি, মারও খেয়েছি। অথচ এখন আমার বিরুদ্ধে যে মামলা করা হয়েছে, সেটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। অনেক দিন ধরেই একটি মহল আমাকে হত্যা ও সম্মানহানির চেষ্টা করছে।
প্রতিহিংসামূলক মামলা বলে দাবি
আন্দোলনের দুই বছর পর হঠাৎ করে তার নাম কেন উঠে এসেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন হিরো আলম। তিনি বলেন,
আন্দোলনের দুই বছর পর হঠাৎ করে আমার নাম কেন মনে পড়ল? এতদিন কোথায় ছিলেন? আমি আন্দোলনের সময় ছাত্রদের পাশে ছিলাম। আমি নিজেই একজন জুলাই যোদ্ধা। এখন প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ-মামলা দেওয়া হচ্ছে।
আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি। তিনি প্রশ্ন করেন,
একটা পোস্ট দেখাতে পারবেন, যেখানে আমি আওয়ামী লীগের হয়ে ভোট চেয়েছি বা প্রচারণা চালিয়েছি? আমি বরং সব সময় অন্যদের বিরুদ্ধে কথা বলেছি। এটাই কি আমার অপরাধ?
আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি
যারা তার নামে মামলা করেছে, তারা যদি সাক্ষ্য-প্রমাণে অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারে, তবে তিনি তাদের বিরুদ্ধেও মামলা করতে বাধ্য হবেন বলে জানান হিরো আলম। তিনি বলেন,
আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না। এক হিরো আলম চলে গেলে কিছুই হবে না।
তিনি আরও বলেন,
আমি অশিক্ষিত হতে পারি, যোগ্যতা কম থাকতে পারে। কিন্তু তাই বলে আমাকে নিয়ে এত টানাটানি কেন? যারা নিজেদের যোগ্য বলে দাবি করেন, তারাই তো বড় বড় দুর্নীতি করছেন। আমি সাধারণ মানুষের কথা বলি বলেই হয়তো অনেকের সমস্যা হচ্ছে।
ভিডিও প্রমাণের কথা জানানো
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন হিরো আলম। তিনি বলেন,
আজকাল মানুষ প্রতিবাদ করতে ভয় পায়। কারণ প্রতিবাদ করলেই মামলা, হামলা কিংবা জেলের ভয় দেখানো হয়। সংসদে জনগণের সমস্যা নিয়ে কথা না বলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নিয়েই বেশি আলোচনা হয়।
অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই বলে দাবি করে হিরো আলম জানান,
আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তার কোনো ভিত্তি নেই। আন্দোলনের সময় আমি কোথায় ছিলাম, কী করেছি সবকিছুর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউবে রয়েছে। মানুষ চাইলে সেগুলো দেখে সত্যটা জানতে পারবেন।
