Education

এইচএসসির ইংরেজি ভার্সনের প্রশ্নপত্র ভুলে ভরা, ক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা

এইচএসস র ই র জ ভ র - চলমান এইচএসসি পরীক্ষার ইংরেজি ভার্সনের প্রশ্নপত্রে একের পর এক ভুলের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। এইচএসস র ই র জ ভ র ক্ষেত্রে অনুবাদজনিত ত্রুটি

Desk Education
Published July 27, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments
Foto : Jennifer Garcia - bangladailypost.com

এইচএসস র ই র জ ভ পরীক্ষায় ইংরেজি ভার্সনের প্রশ্নপত্রে ব্যাপক ভুলের অভিযোগ

Bangladailypost.com – এইচএসস র ই র জ ভ র – চলমান এইচএসসি পরীক্ষার ইংরেজি ভার্সনের প্রশ্নপত্রে একের পর এক ভুলের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। এইচএসস র ই র জ ভ র ক্ষেত্রে অনুবাদজনিত ত্রুটি, গাণিতিক অসঙ্গতি এবং বৈজ্ঞানিক পরিভাষার বিকৃতির অভিযোগ উঠেছে। পরীক্ষার্থীরা জানান, বাংলামাধ্যমের শিক্ষার্থীদের তুলনায় ইংরেজি ভার্সনের ছাত্রছাত্রীরা বেশি বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) অধীনে দুই ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা চালু থাকলেও শিক্ষা বোর্ডগুলো ইংরেজি ভার্সনের প্রশ্নপত্র প্রস্তুতে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিভিন্ন বিষয়ে ভুলের বিস্তারিত বিবরণ

প্রশ্নপত্র প্রথমে বাংলায় তৈরি করে সাধারণ অনুবাদকদের মাধ্যমে ইংরেজিতে রূপান্তর করা হয়। বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞদের যথাযথ পর্যালোচনা না থাকায় আক্ষরিক অনুবাদে প্রশ্নের অর্থই বদলে যাচ্ছে। প্রথম চারটি ভাষাভিত্তিক বিষয়ে অনুবাদের প্রয়োজন না থাকলেও পরবর্তী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ের প্রায় সব পরীক্ষায় গুরুতর ত্রুটি দেখা গেছে। বিশেষ করে পদার্থবিজ্ঞান প্রথম ও দ্বিতীয়পত্র এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) পরীক্ষায় এমন ভুল হয়েছে, যা প্রশ্নের মূল ধারণাকেই পরিবর্তন করে দিয়েছে।

পদার্থবিজ্ঞান প্রথমপত্রের বহুনির্বাচনি অংশে একটি প্রশ্নে দক্ষতা (Efficiency) ও সরবরাহকৃত শক্তির (Energy) গুণফল নির্ণয়ের কথা থাকলেও ইংরেজি ভার্সনে ‘Energy’-এর পরিবর্তে ‘Power’ লেখা হয়। ফলে বাংলা ভার্সনে যেখানে উত্তর হবে ‘Work Done’, সেখানে ইংরেজি ভার্সনের প্রশ্ন অনুযায়ী উত্তর দাঁড়ায় ‘Power Obtained’। অষ্টম সৃজনশীল প্রশ্নে ‘Overtone’ এবং ‘Beat’- দুটি ভিন্ন শব্দকে একইভাবে ‘Note’ হিসেবে অনুবাদ করা হয়েছে। এতে তরঙ্গ-সংক্রান্ত হিসাবের ভিত্তিই পরিবর্তিত হয়ে যায়।

পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরিতে শুধু সাধারণ অনুবাদকের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। ভাষাবিদ ও বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে যৌথ মডারেশন প্যানেল গঠন করে প্রশ্নপত্রের প্রতিটি শব্দ, বাক্য এবং বৈজ্ঞানিক তথ্য একসঙ্গে যাচাই করতে হবে।

— রোজারিও, নটরডেম কলেজের পদার্থ বিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক

এছাড়া অষ্টম সৃজনশীল প্রশ্নে ‘Overtone’ এবং ‘Beat’- দুটি ভিন্ন শব্দকে একইভাবে ‘Note’ হিসেবে অনুবাদ করা হয়েছে। ষষ্ঠ প্রশ্নে ‘এক-তৃতীয়াংশ কমানো হয়েছে’ বাক্যাংশকে ‘এক-তৃতীয়াংশে নামিয়ে আনা হয়েছে’ হিসেবে অনুবাদ করায় গাণিতিক মানের পার্থক্য তৈরি হয়। সপ্তম প্রশ্নে বাংলা ভার্সনে একটি ভেক্টরের মান +120ĵ থাকলেও ইংরেজি ভার্সনে তা -120ĵ ছাপা হয়েছে। পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্রের চতুর্থ সৃজনশীল প্রশ্নে বাংলা ভার্সনে থাকা ‘সাম্যাবস্থা’ (Equilibrium)-এর শর্তটি ইংরেজি ভার্সনে বাদ পড়ে। ষষ্ঠ প্রশ্নে বাংলা ভার্সনে উল্লেখ থাকা ‘P’ বিন্দুর তথ্যও ইংরেজি ভার্সনের প্রশ্নপত্রে ছিল না।

শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, ইংরেজি ভার্সনের প্রশ্নপত্রে ভাষাগত ও অনুবাদজনিত ত্রুটির অভিযোগ প্রায় প্রতি বছরই ওঠে। চলতি বছরের অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ শাখায় আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে। আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ড সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, ভবিষ্যতে ইংরেজি ভার্সনের প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও পর্যালোচনার জন্য বিষয়ভিত্তিক যোগ্য বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নটরডেম কলেজের পদার্থ বিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক রোজারিও বলেন, পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরিতে শুধু সাধারণ অনুবাদকের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। ভাষাবিদ ও বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে যৌথ মডারেশন প্যানেল গঠন করে প্রশ্নপত্রের প্রতিটি শব্দ, বাক্য এবং বৈজ্ঞানিক তথ্য একসঙ্গে যাচাই করতে হবে। তিনি বলেন, বৈজ্ঞানিক পরিভাষা ও গাণিতিক প্রেক্ষাপটের কোনো বিকৃতি গ্রহণযোগ্য নয়। তাই চূড়ান্তভাবে প্রশ্নপত্র প্রকাশের আগে এনসিটিবির পাঠ্যপুস্তক এবং মূল বাংলা প্রশ্নপত্রের সঙ্গে প্রতিটি অনুবাদ সতর্কতার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা জরুরি।

এর আগে পদার্থবিজ্ঞান প্রথমপত্রে দুটি ২০ নম্বরের প্রশ্ন এবং রসায়নের চারটি প্রশ্ন ভুল থাকার অভিযোগ ওঠে। পদার্থবিজ্ঞানে ভুল স্বীকার করে সবাইকে নম্বর দেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে রসায়নের প্রশ্নে ভুল থাকার অভিযোগ স্বীকার না করে কৌশলে মূল্যায়ন নির্দেশিকা পাঠিয়েছে বোর্ড। এইচএসস র ই র জ ভ র ক্ষেত্রে এই ভুলগুলো কমানোর জন্য বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে আগামী দিনের পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রের ভুল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে।

Leave a Comment