ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন শুল্কনীতি: ৮০ দেশকে লক্ষ্যবস্তু করল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
Bangladailypost.com – ৮০ দ শ র ওপর নত ন – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন গতকাল একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছে। এই ঘোষণা অনুযায়ী, বিশ্বের ৮০টির বেশি দেশের আমদানি পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করা হবে। ফেব্রুয়ারি মাসে চালু করা ১০ শতাংশের বৈশ্বিক শুল্কের পরিবর্তে এই নতুন কাঠামোটি কার্যকর হবে।
নতুন শুল্কের বিস্তারিত তথ্য
সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যুক্তরাজ্য, কানাডা, মেক্সিকো, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, চীন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্যরাষ্ট্রসহ মোট ৮০টির বেশি দেশের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করা হবে। এই শুল্কের হার ১০ থেকে ১২.৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার জানান, এই নতুন শুল্ক ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ৩০১ ধারা অনুযায়ী আরোপ করা হচ্ছে। এই ধারাটি মূলত জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ দেয়।
এই পদক্ষেপ মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে বিকৃতি দূর করতে সহায়ক হবে।
কানাডার সমালোচনা ও বিতর্ক
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার কানাডা এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জোরপূর্বক শ্রম মোকাবিলায় তারা বিশ্বের অন্যতম অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে, তাই তাদের লক্ষ্যবস্তু করা উচিত নয়।
এ ধরনের সমস্যা সমাধানে বহুপক্ষীয় উদ্যোগই সবচেয়ে কার্যকর হতে পারে।
কানাডিয়ান চেম্বার অব কমার্সের নির্বাহী সহসভাপতি ম্যাথিউ হোমস এই মন্তব্য করেছেন।
আইনি বিতর্ক ও সংবিধানগত বিষয়
নতুন শুল্কনীতি নিয়ে আইনি বিতর্কও রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল, শান্তিকালীন সময়ে এ ধরনের বিস্তৃত শুল্ক আরোপের সাংবিধানিক ক্ষমতা কংগ্রেসের, প্রেসিডেন্টের নয়। এরপর ট্রাম্প প্রশাসন বিকল্প আইনি ভিত্তিতে সাময়িক শুল্ক আরোপ করলেও সেটির মেয়াদ শুক্রবার শেষ হয়ে যায়। নতুন করে এবার ৩০১ ধারা ব্যবহার করে শুল্ক আরোপ করা হলো।
বাণিজ্য বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, নতুন এই সিদ্ধান্তও আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। পিটারসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিকসের জ্যেষ্ঠ গবেষক অ্যালান উলফের মতে, সংবিধান অনুযায়ী শুল্ক নির্ধারণের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে এবং প্রেসিডেন্টের এ ধরনের পদক্ষেপ আদালতে টিকবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।
প্রশাসনের দাবি ও অর্থনৈতিক প্রভাব
ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই আমদানি পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপকে যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প, কর্মসংস্থান ও উৎপাদন খাত সুরক্ষার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে দেখে আসছেন। তার দাবি, এতে বাণিজ্য ঘাটতি কমবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অন্য দেশগুলোর তথাকথিত ‘অন্যায্য’ বাণিজ্যনীতি মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।
ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করছে, তাদের বাণিজ্যনীতি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনমানের উন্নতিতে ভূমিকা রাখছে। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে মূল্যস্ফীতির মূল সূচকও ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে।
