Sports

বিশ্বকাপ ফুটবল / বিদ্বেষ ছড়ানো বিদেশিদের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনা সরকারের নতুন ডিক্রি

ব শ বক প ফ টবল ব - ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ও আয়োজনের সময়কালে আর্জেন্টিনা সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রপতি

Desk Sports
Published August 1, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments
Foto : Karen Wilson - bangladailypost.com

বিশ্বকাপে বিদেশিদের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার নতুন ডিক্রি

Bangladailypost.com – ব শ বক প ফ টবল ব – ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ও আয়োজনের সময়কালে আর্জেন্টিনা সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রপতি হ্যাভিয়ের মিলেইয়ের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন একটি জরুরি ডিক্রি প্রণয়ন করেছে। এই ডিক্রি অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা বা এর নাগরিকদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক মন্তব্য বা সহিংসতার উসকানি দেওয়ার অভিযোগে বিদেশিদের দেশ থেকে বহিষ্কারের ক্ষমতা রাখা হয়েছে। ফরাসি সংবাদমাধ্যম রেডিও মন্টে কার্লো (আরএমসি) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ডিক্রিটি বর্তমানে পার্লামেন্টের অনুমোদনের জন্য অপেক্ষমাণ।

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার আচরণ ও আন্তর্জাতিক সমালোচনা

বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে রানার্সআপ হওয়ার পরও লিওনেল মেসির দলের আচরণই বেশি আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ম্যাচের ফলাফলের চেয়ে খেলোয়াড়দের আচরণকে কেন্দ্র করেই বিতর্ক গড়ে উঠেছে। ফাইনাল ম্যাচে স্পেনের মিডফিল্ডার গাভিকে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনায় লিওনদ্রো পারেদেস ও নাহুয়েল মোলিনা সমালোচনার মুখে পড়েন। এছাড়াও আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালার বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠে। ফিফা ইতোমধ্যেই এই তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের তদন্ত শুরু করেছে।

শুধুমাত্র ফাইনাল নয়, সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে পরাজিত করার পরও আর্জেন্টিনা দল বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে। ম্যাচের শেষে কয়েকজন খেলোয়াড় ‘Las Malvinas son Argentinas’ (মালভিনাস বা ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার) লেখা একটি ব্যানার তুলে ধরেন। দীর্ঘদিনের ভূরাজনৈতিক বিরোধের সাথে সম্পর্কিত এই বার্তাটিকে ক্রীড়াঙ্গনে রাজনৈতিক প্রচারণা হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। ফিফা এই বিষয়টিও তদন্ত করছে।

ডিক্রির যৌক্তিকতা ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

আর্জেন্টিনা সরকার ডিক্রিটির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছে। সম্প্রতি দেশ ও এর নাগরিকদের বিরুদ্ধে যে বৈরী আচরণ ও বিদ্বেষমূলক প্রচারণা দেখা গেছে, তারই প্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট মিলেই সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার উল্লেখ না করলেও, বিশ্বকাপের পর তিনি একাধিকবার আর্জেন্টিনাবিরোধী আন্তর্জাতিক প্রচারণার অভিযোগ তুলেছেন। এমনকি ব্রাজিলের সাথে কূটনৈতিক উত্তেজনার সময় তিনি অভিযোগ করেন, ব্রাজিল ও মেক্সিকো সরকার এবং যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টি আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে একটি প্রচারণায় অর্থায়ন করেছে। তবে এসব দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

যারা আর্জেন্টিনা প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তারা আমাদের দেশে স্বাগত নয়।

সরকার স্পষ্ট করেছে, এই ডিক্রি রাজনৈতিক মতভেদ, একাডেমিক আলোচনা বা গঠনমূলক সমালোচনার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হবে না। সংবিধান অনুযায়ী মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সমালোচনার অধিকার বহাল থাকবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। ডিক্রিটি বর্তমানে ‘জরুরি প্রয়োজন ও জরুরি অবস্থা’ (Decree of Necessity and Urgency) হিসেবে জারি করা হয়েছে। এখন এটি প্রথমে পার্লামেন্টের সংশ্লিষ্ট কমিটির পর্যালোচনার মুখোমুখি হবে। এরপর প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে উত্থাপন করা হবে। উভয় কক্ষ একযোগে এটি বাতিল না করলে ডিক্রিটি কার্যকর থাকবে।

এর পাশাপাশি আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)-এর বিরুদ্ধেও বর্ণবাদী আচরণ ও বৈষম্যমূলক স্লোগানের অভিযোগে তদন্ত চলছে। এই সমস্ত ঘটনার জেরে আর্জেন্টিনা সরকার বিশ্বকাপের পর থেকেই কঠোর পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে।

Leave a Comment