Bangladailypost
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

নরওয়েকে এক হালি গোল দিয়ে গ্রুপসেরা হয়ে নকআউটে ফ্রান্স

Published June 27, 2026 · Updated July 21, 2026 · By Elizabeth Martin - bangladailypost.com

Foto : Elizabeth Martin - bangladailypost.com

Bangladailypost.com – নরওয় ক এক হ ল গ ল - একাদশে ১০ জন পরিবর্তনের খেসারত বেশ ভালোভাবেই দিতে হলো নরওয়েকে। ফ্রান্সের বিপক্ষে রীতিমতো উড়ে গেল তারা। ফ্রান্সের গতিময় ফুটবলের সঙ্গে খাবি খেয়ে উঠতে পারলো না হালান্ডবিহীন দলটি। প্রথমার্ধেই ফ্রান্সের হয়ে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন ডেম্বেলে। অন্যান্য সতীর্থরা গোল মিস না করলে আরো গোল দিতে পারতো ফ্রান্স। ম্যাচে আক্রমণ পালটা আক্রমণ ও গতিময় খেলায় নরওয়েকে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে নকআউট রাউন্ডে উঠলো ফ্রান্স। অন্যদিকে গ্রুপ রানার্স হয়ে পরের রাউন্ডে গেলো হালান্ডের দল। ম্যাচের প্রথম মিনিটেই এমবাপে আক্রমণের সূচনা করে। ডান পাশ থেকে বল নিয়ে ভেতরে ঢুকে ডি বক্সের সামান্য ভেতর থেকে ডান পায়ের জোড়ালো শট নিলে বল বারে লেগে প্রতিহত হয়। ম্যাচের ৫ মিনিটের মাথায় আবারও সুযোগ পায় ফ্রান্স। এবার ডি বক্সের বাইরে থেকে মালো কুনের দূরপাল্লার শট দারুণভাবে রুখে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক। তবে ম্যাচের ৭ মিনিটের মাথায় নরওয়ের রক্ষণ দূর্গে প্রথম আঘাত হানেন ওসমান দেম্বেলে। এমবাপের পা থেকে বল পেয়ে ডি বক্সের সামান্য ভেতর থেকে ডান পায়ের জোড়ালো শটে বল জালে জড়ান। ম্যাচের ১৩ মিনিটে ডি বক্সে বল পেয়েছিল মাইকেল ওলিসে। কিন্তু তার শট নরওয়ের ডিফেন্ডার রুখে দেন। ১৪ মিনিটে সবচেয়ে সহজ সুযোগটা হাতছাড়া করে নরওয়ে। ওয়েস্টেগার্ডের বাড়ানো ক্রসে বল নিজের আয়ত্তে নিয়ে স্ট্রান্ড লারসেন ডান পায়ে গোলমুখে যে শটটি নিলেন তা চলে যায় গোলবারের উপর দিয়ে। ম্যাচের ২০ মিনিটে আবারো এগিয়ে যায় ফ্রান্স। এবারও পিওর কাউন্টার এটাক থেকে ওলিসের বাড়ানো বল এমবাপে হয়ে যায় দেম্বেলের কাছে। ডি বক্সের অনেক বাইরে থেকে বা পায়ের দুর্দান্ত শটে গোল করেন ব্যালন ডি'অর জয়ী এই ফুটবলার। ২-০ গোলে এগিয়ে যায় ফ্রান্স এই গোলের রেশ কাটতে না কাটতে নরওয়ে এক গোল শোধ করে ফেলে। কিক অফের পর বল আক্রমণভাগে নিয়ে যান শেলডেরাপ। তার বাড়ানো পাসে ডিবক্সে খালি জায়গা পেয়ে শট নিয়ে বল জালে জড়ান আজগার্ড। তবে আরেকবার নরওয়ের জালে বল জড়াতে বেশি দেরি হয়নি ফ্রান্সের। ম্যাচের ৩২ মিনিটে আবারো সেই ডেম্বেলে বা পায়ের শটে বল জালে জড়ালে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিকটি পূরণ করেন। বিশ্বকাপ ইতিহাসে তৃতীয় ফ্রেঞ্চ ফুটবলার হিসেবে হ্যাটট্রিক করার কৃতিত্ব গড়লেন তিনি। ৪২ মিনিটে নরওয়ের গোলরক্ষক সেলভিক দলকে এক হালি গোল খাওয়া থেকে বাঁচান। বোয়েরকান ব্যাক পাস দিয়ে গোলরক্ষকে দিলে তা চলে যায় ফ্রান্সের ডুয়ের পায়ে। তিনি গোলরক্ষককে একা পেয়েও তাকে কাটিয়ে আর গোল দিতে পারেননি। ৪৫ মিনিটে এমবাপের বাড়ানো পাসে আবারো গোলরক্ষককে একা পেয়ে গোল দিতে পারেননি জুলস কুন্ডে। একের পর এক চান্স মিসের পসরা সাজিয়ে না বসলে প্রথমার্ধেই হাফ ডজন গোল দিয়ে বসতো ফ্রান্স। ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় ২০১৮ সালের চ্যাম্পিয়নরা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ফ্রান্সকে চেপে ধরে নরওয়ে। এক গোল পরিশোধের সুযোগও পেয়ে যায় তারা। ৪৮ মিনিটে অস্কার ববকে ডিবক্সে ফাউল করে নরওয়েকে পেনাল্টি উপহার দেন থিও হার্নান্দেজ। কিন্তু লার্সনের নেওয়া দুর্বল পেনাল্টি শট রুখে দেন ফ্রেঞ্চ গোলরক্ষক মাইনান। ৫৬ মিনিটে ম্যাচে প্রথম গোল করার সুযোগ পান এমবাপে। তার দূরপাল্লার নেওয়া শট গোলবারের সামান্য উপর দিয়ে চলে যায়। ৭২ মিনিটে ম্যাচে ফেরার সুযোগ পায় নরওয়ে। ডি বক্সের ভেতর সাবেক ম্যান সিটি তারকা অস্কার ববের বা পায়ের শট দারুণভাবে ঝাপিয়ে রুখে দেন মাইনান। ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে যোগ করা সময়ের ৪ মিনিটের মাথায় বার্কোলার ক্রস থেকে হেডে গোল করে ফ্রান্সক্কে ৪-১ গোলের বিশাল জয় নিশ্চিত করে ফ্রান্স। ম্যাচের বাকি সময় বল দখলে নিয়ে গোল শোধের প্রাণপন চেষ্টা করে নরওয়ে। কিন্তু গোলের তেমন সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। ফলে ৪-১ গোলের বড় জয় নিয়ে গ্রুপসেরা হয়েই মাঠ ছাড়ে ফ্রান্স।