ইনফান্তিনো মাথা নত করার পরও কেন কমলো না বিশ্বকাপ বয়কটের ঝুঁকি?
ইনফান্তিনোর পরিকল্পনা ফিরিয়ে নিলেও কেন থামলো না বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি?
Bangladailypost.com – ইনফ ন ত ন ম থ নত - ফুটবলের আর্থিক স্বার্থ এতটাই তীব্র ছিল যে, ফিফাকে ওজন তুলে বিক্রি করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। জিওভান্নি ইনফান্তিনো হয়তো কল্পনাও করেননি যে, এত বড় চাপের মুখে পড়তে হবে। ফিফা সভাপতির বর্তমান অবস্থা হলো—'ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি'। ইনফান্তিনোকে ঘিরে বিতর্কের কোনো শেষ নেই।
বিশ্বকাপসহ ফিফার প্রধান টুর্নামেন্টগুলোর বাণিজ্যিক স্বত্বের একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা বাতিল হলেও, ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা জানিয়েছে, এতে তাদের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। এমনকি প্রয়োজন হলে বিশ্বকাপসহ ফিফার প্রতিযোগিতা বয়কটের হুমকিও এখনও বহাল রয়েছে।
উয়েফার দুটি মূল শর্ত পূরণ হয়নি
উয়েফা এক বিবৃতিতে জানায়, ইনফান্তিনোর পরিকল্পনা প্রত্যাহার করা হলেও তাদের দুটি মূল শর্তের একটিও পূরণ হয়নি। সংস্থাটি বলেছে, 'প্রথমত, ফিফার বড় প্রতিযোগিতাগুলোর অংশ বিক্রির প্রস্তাব প্রত্যাহার করতে হতো। দ্বিতীয়ত, ভবিষ্যতে ফুটবলের কাঠামো বিকৃত করতে পারে-এমন কোনো উদ্যোগ আর কখনো নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে স্পষ্ট নিশ্চয়তা দিতে হবে। এই দুটি শর্তের কোনোটিই পূরণ হয়নি।' এর আগে উয়েফা প্রকাশ্যে জানিয়ে দিয়েছিল, ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের ওপর তাদের আর কোনো আস্থা নেই।
ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) প্রকল্পকে তারা 'অস্বচ্ছ, গোপন কক্ষের চুক্তি' বলে আখ্যা দিয়েছিল। বিতর্কিত এই পরিকল্পনার আওতায় পুরুষ ও নারী বিশ্বকাপসহ ফিফার বড় টুর্নামেন্টগুলোতে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার প্রস্তাব ছিল। অভিযোগ ওঠে, সদস্য দেশগুলোর সমর্থন আদায়ে প্রতিটি ফুটবল ফেডারেশনকে ৪ কোটি ডলার করে দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন ইনফান্তিনো।
বুধবারের স্বীকারোক্তি কিন্তু উয়েফা সন্তুষ্ট নয়
বুধবার ফিফা এক বৈঠকের পর স্বীকার করে, পুরো প্রক্রিয়াই 'ভুল হয়েছিল' এবং সদস্য দেশগুলোকে যথাযথভাবে সম্পৃক্ত করা হয়নি। ফিফা জানায়, বিষয়টি ভিন্নভাবে পরিচালনা করা উচিত ছিল এবং এ জন্য তারা দুঃখ প্রকাশ করেছে। তবে এই ব্যাখ্যার মোটেও সন্তুষ্ট নয় উয়েফা।
আমরা আগেই স্পষ্ট করে জানিয়েছি যে ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের ওপর আমাদের আস্থা নেই। সেই অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। ফিফা সভাপতির অধীন কর্মরত কয়েকজন কর্মকর্তা তার সঙ্গে একমত হয়েছেন বলে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয় না।
জবাবদিহির দাবি এবং ইংল্যান্ডের সমর্থন প্রত্যাহার
ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে জবাবদিহির দাবি উয়েফার। ফিফার অভ্যন্তরীণ বৈঠকে প্রকৃত জবাবদিহি হয়নি। এখনও অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। তাদের জানতে চাওয়া প্রশ্নগুলোর মধ্যে রয়েছে—এই পরিকল্পনার সঙ্গে কারা জড়িত ছিলেন? কোনো প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল কি না? ইনফান্তিনো ব্যক্তিগতভাবে কোনোভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন কি না? উয়েফার মতে, শুধু 'ভুল হয়েছে' বলে দুঃখ প্রকাশ করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। পুরো ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত এবং স্পষ্ট জবাবদিহি প্রয়োজন।
ইংল্যান্ডও সমর্থন প্রত্যাহার করেছে ইনফান্তিনোর জন্য আরও বড় ধাক্কা এসেছে ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এফএ) কাছ থেকে। সংস্থাটি আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, তারা আর ইনফান্তিনোর নেতৃত্বকে সমর্থন করছে না।
বিশ্বজুড়ে ভিন্ন চিত্র
তবে ইউরোপের বাইরে চিত্রটি ভিন্ন। আফ্রিকার ফুটবল কনফেডারেশন (সিএএফ), আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন, মেক্সিকো ফুটবল ফেডারেশন এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকার কনকাকাফ প্রকাশ্যে ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। গাম্বিয়া ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি লামিন কাবা বাজোও ইনফান্তিনোর পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে জর্ডান জানিয়েছে, আগামী মার্চে অনুষ্ঠিতব্য ফিফা সভাপতি নির্বাচনে তারা ইনফান্তিনোকে ভোট দেবে না।
উয়েফার সামনে কঠিন সমীকরণ
ইনফান্তিনোকে সরাতে হলে উয়েফার সামনে কয়েকটি পথ খোলা থাকলেও কোনোটিই সহজ নয়। ফিফা কাউন্সিলের জরুরি বৈঠক ডাকতে হলে ৩৬ সদস্যের মধ্যে অন্তত ১৯ জনের সমর্থন প্রয়োজন, যা পাওয়া কঠিন বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে অনাস্থা ভোট আনতে হলে ফিফার ২১১ সদস্য দেশের মধ্যে অন্তত ১০৬টির সমর্থন লাগবে। বর্তমানে সেই সমর্থনও উয়েফার নাগালে নেই। আরেকটি সম্ভাবনা হলো আগামী মার্চের নির্বাচনে ইনফান্তিনোর বিপক্ষে শক্তিশালী কোনো প্রার্থী দাঁড় করানো। এ ক্ষেত্রে কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্টাগ্লিয়ারি নাম আলোচনায় রয়েছে।
বিশ্বকাপ বয়কট কি শেষ অস্ত্র?
উয়েফার হাতে সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হিসেবে রয়ে গেছে বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি। তবে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং বারবার ব্যবহারযোগ্য নয়। এই অবস্থানের প্রথম বড় পরীক্ষা আসতে পারে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর পোল্যান্ডে শুরু হতে যাওয়া ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপে। সেখানে ইংল্যান্ডসহ ইউরোপের ছয়টি দেশ অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
ইনফান্তিনো আপাতত নিজের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হলেও ইউরোপের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব যে আরও গভীর হয়েছে, তা স্পষ্ট। এখন নজর আগামী কয়েক মাসের দিকে—উয়েফা কি সত্যিই বয়কটের পথে হাঁটবে, নাকি ফিফার নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হবে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ইনফ ন ত ন ম থ নত?ইনফ ন ত ন ম থ নত is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ইনফ ন ত ন ম থ নত matter?ইনফ ন ত ন ম থ নত matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.