Bangladailypost
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

রাজনৈতিক ব্লকিং শেষে ইতালিতে পাসপোর্ট পেলেন বাংলাদেশি সোহাগ

Published September 7, 2026 · Updated September 7, 2026 · By Joseph Hernandez - bangladailypost.com

Foto : Joseph Hernandez - bangladailypost.com

সাত বছরের অপেক্ষা শেষে রোমে পাসপোর্ট হাতে নিলেন সোহাগ খান

Bangladailypost.com – র জন ত ক ব লক শ - ইতালির রাজধানী রোমে বাংলাদেশ দূতাবাসের কাছ থেকে নতুন পাসপোর্ট হাতে পেয়ে আবেগে ভেঙে পড়লেন জুলাই গণঅভ্যুত্থান আন্দোলনের ইতালি শাখার নেতা এবং বিএনপির সাবেক সহ-দপ্তর সম্পাদক সোহাগ খান। সাত বছর ধরে রাজনৈতিক কারণে পাসপোর্ট আটকে রাখার ফলে তাকে যে মানসিক ও সামাজিক মূল্যহানি ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে, তার কোনো সীমা ছিল না। দীর্ঘ এই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে মাত্র পনেরো দিনের মধ্যে নতুন পাসপোর্ট তুলে দেয় বাংলাদেশের রোম দূতাবাস।

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পথে বাধা

২০১৩ সালে ইতালিতে পা রাখার পর থেকেই সোহাগ খান প্রবাসী বাংলাদেশিদের অধিকার আদায় ও সামাজিক-রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। ২০১৫ সালে দেশে এসে তিনি এমআরপি পাসপোর্ট নবায়ন করেন। কিন্তু ২০২০ সালে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর রিনিউ করার চেষ্টায়ই শুরু হয় দীর্ঘ যন্ত্রণার ইতিহাস। বিএনপি রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার কারণে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তার পাসপোর্ট ব্লক করে দেওয়া হয়। তিনি অভিযোগ করেন, এটি ছিল রাজনৈতিক প্রতিহিংসার এক সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ।

তৎকালীন ইতালিতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত শামীম আহসান এই ব্লকিংয়ের পেছনে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কাজ করেছেন এবং প্রবাসীদের ভোগান্তিতে ফেলে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছেন বলে সোহাগ খানের দাবি। দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে সমাধানের পথে এগিয়ে গিয়ে প্রায় দুই কোটি টাকারও বেশি অর্থ তিনি হারিয়ে প্রতারিত হন।

ব্যক্তিগত জীবনের বিপর্যয়

পাসপোর্ট না পাওয়ার গভীর মানসিক যন্ত্রণায় তিন বছর ধরে সোহাগ খান কোনো কাজে মনোযোগ দিতে পারেননি। মানসিক দুশ্চিন্তার চাপে তার ব্যক্তিজীবন চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। সবচেয়ে বেদনাদায়ক মুহূর্ত ঘটে ২০২১ সালে, যখন তার পিতা মৃত্যুবরণ করেন। পাসপোর্ট না থাকায় শেষবারের মতো বাবাকে দেখতে বা জানাজায় অংশ নিতে দেশে ফিরতে পারেননি তিনি। এই অভিজ্ঞতা তাকে আজও আঘাত করে বলে তিনি স্বীকার করেছেন।

এর পাশাপাশি একই ধরনের পাসপোর্ট-সংক্রান্ত যন্ত্রণা ও হতাশা সহ্য করতে না পেরে ইতালিতে অবস্থানরত আরও দুজন প্রবাসী বাংলাদেশি আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছেন সোহাগ খান। সেই দুঃসংবাদ স্মরণ করে তিনি আবেগপ্লুত হয়ে বলেন,

ভাইয়েরা যদি আর একটু ধৈর্য ধরতেন, তবে হয়তো আজ তারাও সমাধান পেতেন।

তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের কিছু সাংবাদিকও তাকে হতাশ ও নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করেছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে তিনি হাল ছাড়েননি।

সমাধানের মুহূর্ত ও কৃতজ্ঞতা

অবশেষে কোনো প্রকার অর্থ খরচ ছাড়াই, সম্পূর্ণ বিনামূল্যে, মাত্র পনেরো দিনের মধ্যে রোম দূতাবাস থেকে নতুন পাসপোর্ট তুলে নেন সোহাগ খান। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, রোম দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত রফিকুল হকসহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ইতালিতে প্রবাসীদের সার্বিক সহযোগিতায় এগিয়ে আসা নিরপেক্ষ সাংবাদিকদের ভূমিকাও তিনি স্মরণ করেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রোমে নানা কর্মসূচির নেতৃত্ব দেওয়া থেকে শুরু করে প্রবাসীদের বিভিন্ন অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সামনের সারিতে থাকা — এই সব কর্মকাণ্ডে পাসপোর্ট না থাকার ফলে যে বাধা সৃষ্টি হয়েছিল, তা এখন দূর হয়েছে।

সামনে কী

পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার পর সোহাগ খান দ্রুত দেশে ফিরে মরহুম পিতার কবর জিয়ারত এবং মায়ের সঙ্গে দেখা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে তার পরামর্শ স্পষ্ট — আইনি বা পাসপোর্ট সংক্রান্ত জটিলতায় হতাশাগ্রস্ত না হয়ে ধৈর্য ধারণ করতে এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে।

এছাড়া সাবেক রাষ্ট্রদূত শামীম আহসানের অনিয়ম এবং প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের নানা ভোগান্তি নিয়ে খুব শিগগিরই বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। ইতালিতে বাংলাদেশি প্রবাসীদের পাসপোর্ট ও নথি-সংক্রান্ত সেবায় যে কাঠামোগত ঘাটতি ছিল, তার প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা একটি বড় প্রশ্ন তুলে ধরেছে — রাজনৈতিক প্রতিহিংসার নামে একজন নাগরিকের মৌলিক অধিকার কেবলমাত্র কাগজের এক খাতায় আটকে রাখা কতটা ন্যায্য, এবং দূতাবাসের ভূমিকা সেখানে কোথায় থাকা উচিত।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is র জন ত ক ব লক শ?

র জন ত ক ব লক শ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does র জন ত ক ব লক শ matter?

র জন ত ক ব লক শ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.